/indian-express-bangla/media/media_files/2025/11/27/2nd-zoo-in-kolkata-2025-11-27-16-20-28.jpg)
Kolkata's 2nd Zoo: কলকাতার দ্বিতীয় চিড়িয়াখানা।
2nd Zoo in Kolkata: কলকাতার চিড়িয়াখানা বললেই আমরা সাধারণত আলিপুর জু-এর কথাই ভাবি। বহুদিন ধরে এটি কলকাতার প্রধান আকর্ষণ হলেও শহরের পূর্ব প্রান্তে রয়েছে আরও একটি সুন্দর, ছিমছাম ও আধুনিক চিড়িয়াখানা। ধীরে ধীরে জনপ্রিয়তা বাড়ছে এই ছোট্ট হলেও সুন্দর জু-টির। যেখানে পশুপাখি দেখার পাশাপাশি রয়েছে সবুজে মোড়া পরিবেশ, হাঁটার পথ, বিশ্রামের জায়গা ও শিশুদের জন্য উপভোগ্য অভিজ্ঞতা।
কোথায় এই চিড়িয়াখানা?
এই চিড়িয়াখানাটি হল- নিউটাউনের হরিণালয় মিনি জু। ইকো পার্কের মেন গেটের খুব কাছেই রয়েছে এই জু। ইকো পার্কের ৩ নম্বর গেটে নামলে অল্প হাঁটলেই চিড়িয়াখানায় পৌঁছে যাওয়া যায়। আর ৬ নম্বর গেটের পাশ দিয়েও প্রবেশপথ রয়েছে। যাঁরা গাড়িতে যাবেন, তাঁদের জন্য সামনে পার্কিংয়ের ব্যবস্থাও রয়েছে। বাইরে থেকে খাবার নিয়ে ঢোকা নিষিদ্ধ, তবে এখানে ভিতরে ছোট্ট ক্যান্টিন এবং পানীয় জলের ব্যবস্থাও আছে।
আরও পড়ুন- লেখাপড়া, কাজে মনসংযোগের অভাব? নিত্যদিনের এই পানীয়তে মিটবে সমস্যা!
চিড়িয়াখানার নাম যেহেতু ‘হরিণালয়’, তাই এখানেই রয়েছে বেশ কিছু সুন্দর হরিণ। সবুজে ঘেরা খাঁচার মধ্যে হরিণেদের লাফানো, খেলা করা বা অলস দুপুরে বিশ্রাম নেওয়া—দর্শকদের কাছে আনন্দের বিষয়। পাশাপাশি রয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির বানর, যারা নিজেদের স্বভাবসুলভ কৌতুকপূর্ণ আচরণে দর্শকদের মনোরঞ্জন করে চলেছে।
আরও পড়ুন- চিনতে পারছেন? শীতে এই ছয় পরিযায়ী পাখির দেখা মেলে ভারতে!
এখানকার অন্যতম বড় আকর্ষণ জিরাফ এবং জেব্রা। বহু মানুষ প্রথমবার এত কাছ থেকে জিরাফ, জেব্রা দেখতে পাবেন এই জু-তে এসে। বিশেষ করে শিশুদের কাছে এই প্রাণী আলাদা উত্তেজনার কারণ। প্রাণীদের জন্য তৈরি করা হয়েছে প্রশস্ত ও নিরাপদ এনক্লোজার, যাতে তারা সেখানে স্বচ্ছন্দে থাকতে পারে এবং দর্শকরাও দূর থেকে সুরক্ষিতভাবে পশুদের পর্যবেক্ষণ করতে পারেন।
আরও পড়ুন- ঘনঘন প্রস্রাবে নাজেহাল? ঘরের এই সামান্য জিনিস খেয়ে করুন বিনামূল্যে সমাধান
চিড়িয়াখানার অ্যাভিয়ারি সেকশন বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এখানে একসঙ্গে দেখা যায় নানা রঙিন পাখি—কিছু স্থানীয়, কিছু অভিজাত বিদেশি প্রজাতির পাখিরও দেখা মেলে এখানে। শীতের সময় আরও নতুন পাখি আগমন হওয়ায় এই সেকশনটি রঙে, ডানায়, ডাকাডাকিতে ভরপুর হয়ে ওঠে। যাঁরা পাখিপ্রেমী বা বাচ্চাদের প্রকৃতির সঙ্গে পরিচয় করাতে চান, তাঁদের কাছে এই জায়গা আদর্শ।
আরও পড়ুন- লেপ বা কম্বল থেকে দুর্গন্ধ দূর করবেন কীভাবে? ঘরোয়া উপায়েই মিলবে সমাধান
জলাশয়ের ধারে রয়েছে কুমির। শীতের অলস দুপুরে এই কুমিরদের ডাঙায় রোদ পোহাতে দেখা যায়, যা অনেকের কাছেই রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা। নিরাপত্তার জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থাও রয়েছে এখানে। কিছু জায়গায় বসার জন্য আছে বাঁশের বেঞ্চি, কিছু জায়গায় রয়েছে পাকা সিট—যাতে ঘুরতে ক্লান্ত লাগলে একটু বিশ্রাম নেওয়া যায়।
সবচেয়ে নতুন ও আলোচিত আকর্ষণ হল দুটি নতুন বাঘের জন্য তৈরি হওয়া খাঁচা। যদিও সবসময় বাঘ দেখা যায় না, তবে ভাগ্য ভালো হলে দর্শনার্থীরা ‘বাঘ মামা’দের দর্শনও পেয়ে যেতে পারেন। নিউটাউনে এই প্রথম বাঘ দেখার সুযোগ মিলবে বলে বহু মানুষ ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
প্রবেশমূল্য খুবই সাশ্রয়ী। পাঁচ বছর বয়সের নীচে টিকিট ২০ টাকা, আর পাঁচ বছরের উপর সকলের জন্য ৫০ টাকা। সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকে এই চিড়িয়াখানা। পলিথিন ব্যাগ নিয়ে প্রবেশ নিষেধ, যা পরিবেশ রক্ষার দিক থেকে খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ।
শহরের ভিড়ভাট্টা থেকে বেরিয়ে পরিবার, বাচ্চা বা বন্ধুদের সঙ্গে এক-দু’ঘণ্টা কাটানোর জন্য ‘হরিণালয় মিনি জু’ একটি দুর্দান্ত জায়গা। ছোট হলেও এখানে রয়েছে দেখার মতো প্রচুর কিছু—পশু-পাখি, প্রকৃতি, হাঁটার পথ, বিশ্রামের জায়গা, আর নতুন নতুন আকর্ষণ। কলকাতার দ্বিতীয় চিড়িয়াখানা হিসেবে এটি ক্রমেই জনপ্রিয় হচ্ছে এবং নিউটাউনের পর্যটনের মানচিত্রেও নিজের জায়গা শক্ত করে তুলছে।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us