Kurukshetra Travel: কলকাতা থেকে কুরুক্ষেত্র! সহজেই ঘুরে আসুন মহাভারতের যুদ্ধস্থল থেকে

Kurukshetra Travel: কলকাতা থেকে কুরুক্ষেত্র কীভাবে ঘুরে আসবেন, কোথায় থাকবেন, কোন জায়গাগুলি দেখবেন এবং ভ্রমণের সেরা সময়—সবকিছু জেনে নিন এখানে।

Kurukshetra Travel: কলকাতা থেকে কুরুক্ষেত্র কীভাবে ঘুরে আসবেন, কোথায় থাকবেন, কোন জায়গাগুলি দেখবেন এবং ভ্রমণের সেরা সময়—সবকিছু জেনে নিন এখানে।

author-image
Chinmoy Bhattacharjee
New Update
Kurukshetra Travel: কুরুক্ষেত্র দর্শন

Kurukshetra Travel: কুরুক্ষেত্র দর্শন

Kurukshetra Travel: কুরুক্ষেত্র—যেখানে মহাভারতের মহাযুদ্ধ হয়েছিল, যেখানে শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে গীতার উপদেশ দিয়েছিলেন, সেখানে হাজার বছরের পুরাণ, ইতিহাস এবং আধ্যাত্মিকতার মিশ্রণে তৈরি হয়েছে ভারতীয় সংস্কৃতির অন্যতম শ্রেষ্ঠ তীর্থস্থান। অনেকেই মনে করেন কুরুক্ষেত্র ভ্রমণ করা বেশ কঠিন বা দূরের, কিন্তু বাস্তবে কলকাতা থেকে খুব সহজেই এই ঐতিহাসিক স্থানে গিয়ে ঘুরে দেখা যায়। রেলপথ, সড়কপথ বা বিমানে—তিনটি পথেই কুরুক্ষেত্র পৌঁছনো যায় অনায়াসে। তা ছাড়া কুরুক্ষেত্রের আশপাশে এত দর্শনীয় জায়গা রয়েছে যে কয়েকদিনের ট্যুর প্ল্যান করে গেলে ভ্রমণটা আরও স্মরণীয় হয়ে ওঠে।

Advertisment

কলকাতা থেকে কুরুক্ষেত্র

কলকাতা থেকে কুরুক্ষেত্রের দূরত্ব প্রায় ১,৫৫০ কিলোমিটার। সবচেয়ে সহজ উপায় হল ট্রেনে চেপে হাওড়া থেকে আম্বালা ক্যান্টনমেন্ট বা কুরুক্ষেত্র হয়ে সরাসরি যাওয়া। কয়েকটি সুপারফাস্ট ট্রেন এই রুটে চলে, ফলে যাত্রা হয় স্বাচ্ছন্দ্যময়। আম্বালা থেকে কুরুক্ষেত্র মাত্র দেড় ঘণ্টার পথ, সেখানে লোকাল ট্রেন বা ট্যাক্সিতে সহজেই পৌঁছোনো যায়। বিমানেও দিল্লি পর্যন্ত উড়ে গিয়ে সেখান থেকে গাড়ি বা ট্রেনে কুরুক্ষেত্র যাওয়া যায়। দিল্লি থেকে দূরত্ব মাত্র ১৬০ কিলোমিটার, ফলে চার ঘণ্টার মধ্যেই পৌঁছে যাওয়া সম্ভব। যাঁরা নিজের গাড়িতে রোড ট্রিপ করতে পছন্দ করেন, তাঁরা কলকাতা থেকে ধীরে ধীরে কয়েকটি শহর ভ্রমণ করে কুরুক্ষেত্র পর্যন্ত একটি সুন্দর লং ড্রাইভ উপভোগ করতে পারেন।

আরও পড়ুন- এই কায়দায় সহজে ঘরেই বানান নলেন গুড়ের কেক, শীতের আমেজ নিন চেটেপুটে!

Advertisment

কুরুক্ষেত্রের মূল আকর্ষণ হল জ্যোতিষার, যেখানে কৃষ্ণ অর্জুনকে ধর্মক্ষেত্রে দাঁড়িয়ে উপদেশ দিয়েছিলেন। বৃক্ষছায়ায় তৈরি শান্ত পরিবেশ যেন পুরাণের প্রতিটি কথা চোখে ভাসিয়ে তোলে। ব্রহ্মসরোবরও কুরুক্ষেত্র ভ্রমণের অন্যতম বড় অংশ। বিশাল জলাধারের চারদিক ঘুরে দেখার সময় বুঝতে পারবেন কেন এটিকে পবিত্রতম তীর্থগুলির একটি বলা হয়। সন্ধ্যায় ব্রহ্মসরোবরের আলো-সাজানো পরিবেশ, শঙ্খধ্বনি আর আগরবাতির গন্ধ যেন এক অদ্ভুত শান্তি এনে দেয়। কাছেই রয়েছে সরোবর। যা বিভিন্ন দেব-দেবীর মন্দিরে ভরপুর। ধর্মীয় ইতিহাসের নানা কাহিনি এখানকার প্রতিটি স্থানে ছড়িয়ে আছে।

আরও পড়ুন- দামি ক্রিম না, কোরিয়ানদের মত উজ্জ্বল ত্বক পেতে কাজে লাগান স্রেফ একমুঠো চাল

মহাভারতের অনুরাগীদের জন্য পাণ্ডবমন্দির, অরুন্ধতী তীর্থ, ভগবান শ্রীকৃষ্ণ জাদুঘর এবং মহর্ষি দুর্বাসা তীর্থ ঘুরে দেখার মত স্থান। এখানে আপনি মহাভারতের নানা গল্প, চরিত্র, অস্ত্র এবং কিংবদন্তির চিত্র আর প্রতিরূপ দেখতে পাবেন। শিশুদের জন্যও এই ভ্রমণ শিক্ষামূলক। কারণ এখানে ইতিহাস, পুরাণ এবং সভ্যতার বিবর্তন নিখুঁতভাবে তুলে ধরা হয়েছে। কুরুক্ষেত্রের আশেপাশে পেহোয়া, কাযল, ভগালপুর এবং থানেসর শহরেও বেশ কিছু পুরাণভিত্তিক মন্দির রয়েছে, যা ঘুরে দেখা এক মূল্যবান অভিজ্ঞতা।

আরও পড়ুন- বিরাট উপকারিতা, এইসব কারণে ব্ল্যাক টি পান করা উচিত প্রতিদিন

কুরুক্ষেত্র ভ্রমণের জন্য সেরা সময় হল অক্টোবর থেকে মার্চ। শীতকালীন আবহাওয়া কুরুক্ষেত্র ঘোরার জন্য সবচেয়ে উপযোগী, কারণ দিনে হাঁটাচলা, সারোবর পরিক্রমা এবং মন্দির ভ্রমণ আরামদায়ক। গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রা ৪৫ ডিগ্রি পর্যন্ত ওঠে, ফলে ভ্রমণ কষ্টকর হতে পারে। বর্ষায় যদিও প্রকৃতির রূপ সুন্দর থাকে, তবুও সারোবরের আশপাশে ভিড় বা কাদা থাকায় ভ্রমণে কিছুটা অসুবিধা হয়।

আরও পড়ুন- মাত্র ৭ দিনের মধ্যে ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা কমাতে পারে এই ২৫ খাবার

কুরুক্ষেত্রে থাকার জন্য বিভিন্ন বাজেটের হোটেল পাওয়া যায়। ধর্মশালা, লজ, গেস্ট হাউস থেকে শুরু করে আধুনিক হোটেল—সবই রয়েছে এখানে। ব্রহ্মসরোবরের কাছে থাকলে সন্ধ্যার আরতি দেখতে সুবিধা হয়। খাবারদাবারের ক্ষেত্রে নিরামিষ হোটেল বেশি, এবং উত্তর ভারতের সাধারণ খাবার যেমন রুটি, ছোলা, পুরি-সাবজি, লস্যি—এগুলো অত্যন্ত জনপ্রিয়। তবে কলকাতার ভ্রমণকারীরা চাইলে বাঙালি খাবারও কয়েকটি জায়গায় পেয়ে যাবেন।

কলকাতা থেকে কুরুক্ষেত্র ভ্রমণের সবচেয়ে বড় সুবিধা হল এটি পরিবারের সকলের জন্য উপযোগী। বয়স্করা ধর্মীয় কারণে এখানে এলে মুগ্ধ হন। তরুণরা ইতিহাস এবং পুরাণে নিজেদের খুঁজে পান। আর শিশুরা পায় নতুন অভিজ্ঞতা। কুরুক্ষেত্র একা ভ্রমণকারী বা কাপলদের জন্যও শান্ত, নিরিবিলি এবং আধ্যাত্মিকতার নিখুঁত মিশ্রণ। ভ্রমণের শেষে মনে হবে যেন মহাভারতের প্রতিটি অধ্যায় নতুন করে অনুভব করলেন।

travel Kurukshetra