/indian-express-bangla/media/media_files/2025/11/25/lactose-intolerance-2025-11-25-18-20-52.jpg)
Lactose Intolerance: কারা খাবেন না দুধ!
Lactose Intolerance: দুধ মানুষের অন্যতম পুরোনো খাবার হলেও আজকের দিনে দুধ নিয়ে বিতর্ক কম নয়। অনেকে মনে করেন দুধ হাড় মজবুত করে। আবার অনেকের দাবি, দুধ হজমে সমস্যা তৈরি করে। বাজারে এখন গরুর দুধ থেকে শুরু করে মহিষের দুধ, সয়া দুধ, বাদাম দুধ, কম চর্বিযুক্ত দুধ—এত ধরনের অপশন থাকায় মানুষের মধ্যে দুধ নিয়ে বিভ্রান্তি আরও বেড়েছে। তবে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দুধের গুণাগুণ অস্বীকার করার উপায় নেই, কিন্তু সবার জন্য দুধ উপযুক্ত নয়। বিশেষ করে যাঁদের দুধে থাকা ল্যাকটোজের জন্য হজমে সমস্যা হয়, তাঁদের ওপর দুধ উলটো প্রভাব ফেলতে পারে। তাই দুধ কতটা খাবেন, কেমন করে খাবেন এবং কারা দুধ খাবেন না—এসব জানা অত্যন্ত জরুরি।
দুধে রয়েছে নানা উপাদান
দুধে রয়েছে উচ্চমানের প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন বি১২, পটাসিয়াম, ফসফরাস-সহ বহু পুষ্টিকর উপাদান। যা শরীরের বিভিন্ন কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। নিয়মিত দুধ পান করলে হাড় শক্তিশালী হয়, পেশী মজবুত থাকে এবং স্নায়ু সজীব থাকে। অনেক গবেষণায় দেখা গেছে, সঠিক পরিমাণে দুধ খেলে হৃদরোগ, স্ট্রোক এবং টাইপ–২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমে। তবুও, প্রত্যেকের স্বাস্থ্যের অবস্থার ওপর নির্ভর করে দুধ নির্বাচনের নিয়ম আলাদা হওয়া উচিত।
আরও পড়ুন- গোলাবাড়ির মটন কষা রেসিপি, ঘরেই পান কলকাতার ঐতিহ্যবাহী রেস্তোরাঁর রান্নার স্বাদ
দুধ পান করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, দুধ ফুটিয়ে নেওয়া। কয়েক মিনিট ফুটিয়ে নিলে ব্যাকটেরিয়া নষ্ট হয় এবং খাওয়া তখন নিরাপদ। তবে খুব বেশি ফুটালে পুষ্টি উপাদান নষ্ট হতে পারে। তাই মাঝারি আঁচে গরম করাই উপযুক্ত। বয়সভেদে দুধের পরিমাণও আলাদা হওয়া দরকার। পাঁচ বছর থেকে চল্লিশ বছর বয়স পর্যন্ত মানুষ প্রতিদিন চারশো মিলিলিটার দুধ গ্রহণ করতে পারে। চল্লিশের বেশি বয়সীদের জন্য স্কিম মিল্ক বা কম চর্বিযুক্ত দুধ স্বাস্থ্যসম্মত। কিশোর–কিশোরীরা মাঝারি চর্বিযুক্ত দুধ খেতে পারে এবং বয়স্কদের জন্য কম চর্বিযুক্ত বা স্কিম মিল্ক সবচেয়ে ভালো।
আরও পড়ুন- কতক্ষণ আছে বিবাহ পঞ্চমী, এই তিথিতে কোন নৈবেদ্য দিলে পুণ্য ও বৈবাহিক সুখ মেলে?
আয়ুর্বেদ মতে রাতে ঘুমানোর আগে দুধ পান করলে ঘুম ভালো হয় এবং খাবার হজম করতে সুবিধা হয়। রাতে শরীরের কর্মক্ষমতা কম থাকে বলে দুধের ক্যালসিয়াম সহজে শোষিত হয়। তবে দুধ সবার জন্য নয়। যাঁদের ল্যাকটোজ অ্যালার্জি রয়েছে, তাঁদের জন্য দুধ খাওয়া কষ্টকর হয়ে দাঁড়ায়। দুধ খাওয়ার পর পেট ফোলা, গ্যাস, ডায়েরিয়া বা পেট ব্যথা হলে এটা ল্যাকটোজ অসহিষ্ণুতার লক্ষণ হতে পারে। এ ধরনের মানুষকে সাধারণত ল্যাকটোজ–মুক্ত দুধ বা উদ্ভিজ্জ দুধপানের পরামর্শ দেওয়া হয়। হৃদরোগ বা হাই কোলেস্টেরল–যুক্ত মানুষদেরও কম চর্বিযুক্ত দুধ বেছে নেওয়া উচিত। ক্যানসারের ঝুঁকিতে থাকা মানুষ এবং দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য কখনও কখনও দুধ সীমিত পরিমাণে খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়, যা চিকিৎসকের নির্দেশ অনুযায়ী খাওয়া উচিত।
আরও পড়ুন- শীতে নাক-বন্ধ, কাশি-সর্দি? ঘরেই আছে মহৌষধ! এই ৫ দারুণ টোটকায় বাজিমাত!
দুধ বাছাই করার সময় বাজার থেকে অতিরিক্ত পরিমাণে দুধ না কিনে প্রয়োজন অনুযায়ী কিনে তাৎক্ষণিক ব্যবহার করাই উচিত। দীর্ঘদিন ফ্রিজে রাখা দুধ কখনও কখনও অ্যালার্জি বা সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। গরুর দুধ, মহিষের দুধ, সয়া দুধ বা কম চর্বিযুক্ত দুধ—সবগুলিই উপকারী। তবে কোন দুধ কার জন্য উপযুক্ত তা নির্ভর করে ব্যক্তির বয়স, স্বাস্থ্যের অবস্থা এবং চিকিৎসকের পরামর্শের ওপর। যাঁরা দুধ হজম করতে পারেন না, তাঁদের ক্ষেত্রে বিকল্প হিসাবে দই একটি ভালো অপশন। দই হজমে সহজ এবং এতে প্রোবায়োটিক থাকে যা পেটের উপকারী ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধি করে। দুধ খেলে যদি অস্বস্তি হয়, তবে দই বা পনিরের মত ফারমেন্টেড দুগ্ধজাত খাবার খাওয়া যেতে পারে।
আরও পড়ুন- সকালে ভুলেও খালিপেটে খাবেন না চা-কফি, ঘটতে পারে মহাবিপদ!
শেষে বলা যায়, দুধ যেমন উপকারী, তেমনই সবার জন্য উপযোগী নয়। কারও দুধ দরকার, কারও দরকার বিকল্প খাবার। তাই দুধ খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হলে প্রথমে নিজের স্বাস্থ্য–অবস্থা বুঝতে হবে। সঠিক পরিমাণ এবং সঠিক ধরনের দুধ নির্বাচন করলে দুধ স্বাস্থ্যের সঙ্গী হতে পারে।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us