Late Night Sleep Weight Gain: ডায়েট ঠিকঠাক, কিন্তু রাত ১১টার পরে ঘুমালে কেন ওজন কমে না, জানুন বৈজ্ঞানিক কারণ

Late Night Sleep Weight Gain: পরিষ্কার ডায়েট থাকা সত্ত্বেও রাত ১১টার পরে ঘুমালে কীভাবে হরমোন, বিপাক এবং ওজনের ওপর প্রভাব পড়ে? জানুন বিশেষজ্ঞ কী বলছেন।

Late Night Sleep Weight Gain: পরিষ্কার ডায়েট থাকা সত্ত্বেও রাত ১১টার পরে ঘুমালে কীভাবে হরমোন, বিপাক এবং ওজনের ওপর প্রভাব পড়ে? জানুন বিশেষজ্ঞ কী বলছেন।

author-image
Chinmoy Bhattacharjee
New Update
Late Night Sleep Weight Gain: রাত ১১টার পরে ঘুমোলে শরীরে পড়ে বিরাট প্রভাব।

Late Night Sleep Weight Gain: রাত ১১টার পরে ঘুমোলে শরীরে পড়ে বিরাট প্রভাব।

Late Night Sleep Weight Gain: ওজন কমানোর কথা উঠলেই বেশিরভাগ মানুষ প্রথমেই ডায়েট আর ব্যায়ামের কথা ভাবেন। ক্যালোরি কমানো, পরিষ্কার খাবার খাওয়া কিংবা নিয়মিত হাঁটা বা জিমে যাওয়াকেই ফিটনেসের মূল চাবিকাঠি বলে মনে করা হয়। কিন্তু বাস্তবে এমন অনেক মানুষ আছেন, যাঁরা স্বাস্থ্যকর খাবার খান, তবুও ওজন একটি নির্দিষ্ট জায়গায় আটকে থাকে। 

Advertisment

এই সমস্যার একটি বড় কারণ হল ঘুম, বিশেষ করে রাত ১১টার পরে ঘুমাতে যাওয়ার অভ্যাস। একথা বলার কারণ হল, মানবদেহ একটি জৈবিক ঘড়ি বা সার্কাডিয়ান রিদম অনুসরণ করে। এই প্রাকৃতিক ঘড়ি আমাদের ঘুম, হজম, হরমোন নিঃসরণ এবং বিপাকীয় কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ করে। চিকিৎসকদের মতে, রাত প্রায় সাড়ে ১০টার পর শরীর ধীরে বিশ্রামের মোডে যেতে শুরু করে। এই সময় হজম প্রক্রিয়া ধীর হয়ে আসে এবং শরীর নিজেকে মেরামত করার প্রস্তুতি নেয়। যদি কেউ নিয়মিত এই সময়ের পরে জেগে থাকেন, তাহলে শরীরের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়।

আরও পড়ুন- নিপা ভাইরাস কী, লক্ষণ কতটা ভয়ংকর? চিকিৎসা ও প্রতিরোধে এগুলো জানা জরুরি

রাত জেগে থাকার ফলে কর্টিসল নামের স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায়। কর্টিসল স্বল্প সময়ে প্রয়োজনীয় হলেও, দীর্ঘ সময় ধরে বেশি থাকলে এটি ওজন বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হয়ে ওঠে। রাতে কর্টিসলের মাত্রা বেশি থাকলে শরীরে বেশি চর্বি জমে। আর, সেই চর্বি পোড়ানো কঠিন হয়ে ওঠে। এই কারণে পরিষ্কার ডায়েট থাকা সত্ত্বেও অনেকের ক্ষেত্রেই বেশি রাতে খেলে ওজন (Late Night Sleep Weight Gain) বেড়ে যায়। 

আরও পড়ুন- ছদ্মবেশে বেলুড় মঠে ছিলেন স্বামী বিবেকানন্দের ছোটভাই ভূপেন্দ্রনাথ দত্ত

ঘুমের সময় শরীরের বিপাকীয় মেরামতের একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায় চলে রাত ১১টা থেকে ভোর ৩টার মধ্যে। এই সময় শরীর কোষ মেরামত করে, হরমোনের ভারসাম্য ঠিক রাখে এবং শক্তির ব্যবহার সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করে। যদি ঘুম দেরিতে শুরু হয়, তাহলে এই প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। ফলস্বরূপ, চিনি নিয়ন্ত্রণে সমস্যা দেখা দেয় এবং ইনসুলিন সংবেদনশীলতা কমে যেতে পারে। এতে শরীর সহজেই অতিরিক্ত চিনি ও ক্যালোরিকে চর্বিতে রূপান্তর করে জমিয়ে রাখে।

আরও পড়ুন- ঘুম থেকে উঠেই এই একটি প্রাকৃতিক পানীয় পান করলে ত্বক হবে উজ্জ্বল, দাগছোপ ও নিস্তেজতা দূর হবে

ঘুম দেরি হলে ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণকারী দুটি গুরুত্বপূর্ণ হরমোন, লেপটিন এবং ঘ্রেলিনের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায়। লেপটিন আমাদের বলে দেয় পেট ভরে গেছে, আর ঘ্রেলিন ক্ষুধা বাড়ায়। পর্যাপ্ত এবং সময়মতো ঘুম না হলে লেপটিন কম নিঃসৃত হয় এবং ঘ্রেলিন বেড়ে যায়। এর ফল হল সারাদিন ক্ষুধা বেশি লাগা, বিশেষ করে কার্বোহাইড্রেট ও মিষ্টি খাবারের প্রতি তীব্র আকর্ষণ। এমনকী খাওয়ার পরও তৃপ্তি কম অনুভূত হয়, যা শরীরকে অতিরিক্ত ক্যালোরি গ্রহণের দিকে ঠেলে দেয়।

আরও পড়ুন- শিশুদের ব্লাড প্রেসার কেন বাড়ছে, আটকাতে কী করবেন?

রাত জাগার আরেকটি প্রভাব পড়ে শরীরের প্রাকৃতিক ডিটক্স প্রক্রিয়ার ওপর। ঘুমের সময় লিভার ও অন্যান্য অঙ্গ বিষাক্ত পদার্থ বের করে দিতে সাহায্য করে। এই প্রক্রিয়া ব্যাহত হলে সকালে ভারী লাগা, শরীরে জল জমে থাকা এবং সারাদিন ক্লান্তি অনুভূত হতে পারে। এই ক্লান্তি আবার ব্যায়ামের ইচ্ছা কমিয়ে দেয়, ফলে ধীরে ওজন কমানোর গতি থমকে যায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সমস্যা সমাধানের জন্য হঠাৎ করে ঘুমের সময় বদলানোর দরকার নেই। ধীরে ধীরে ঘুমানোর সময় এগিয়ে আনা সবচেয়ে কার্যকর উপায়। প্রতি কয়েক রাতে ১৫ থেকে ২০ মিনিট করে আগে ঘুমাতে যাওয়ার অভ্যাস করলে শরীর সহজে মানিয়ে নিতে পারে। পাশাপাশি রাতের খাবার ঘুমানোর অন্তত তিন ঘণ্টা আগে খেলে হজম প্রক্রিয়া ভালো থাকে এবং গভীর রাতের ক্ষুধা কমে যায়।

ঘুমের মান উন্নত করার জন্য স্ক্রিন টাইম কমানোও অত্যন্ত জরুরি। মোবাইল বা টিভির নীল আলো মেলাটোনিন হরমোনের নিঃসরণে বাধা দেয়, যা ঘুমের জন্য প্রয়োজনীয়। আলো কম রাখা, ভারী খাবার এড়িয়ে চলা এবং একটি নির্দিষ্ট রুটিন বজায় রাখলে ঘুমের গুণগত মান অনেকটাই ভালো হয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, ভালো ডায়েট কখনও খারাপ ঘুমের ক্ষতিপূরণ দিতে পারে না। রাত ১১টার আগে ঘুমাতে যাওয়া বিপাকের জন্য এক ধরনের নীরব সহায়ক হিসেবে কাজ করে। এটি ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে রাখে, হরমোনের ভারসাম্য ঠিক করে এবং ওজন কমানোর লক্ষ্যে পৌঁছানো অনেক সহজ করে তোলে। তাই ফিটনেসের পথে এগোতে হলে ডায়েট ও ব্যায়ামের পাশাপাশি সময়মতো ঘুমকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

সতর্কীকরণ

সতর্কীকরণ হিসেবে বলা প্রয়োজন, এই তথ্যগুলি বিশেষজ্ঞদের মতামত ও সাধারণ চিকিৎসা জ্ঞানের ওপর ভিত্তি করে লেখা। তাই কোনও নতুন রুটিন শুরু করার আগে ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য পরিস্থিতি অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

weight gain Late Night Sleep