Leafy Greens Washing Mistake: শাক ধোয়ার সময় এই ভুলটা করছেন না তো? বিপদে পড়তে পারেন কিন্তু

Leafy Greens Washing Mistake: পাতাওয়ালা শাক ধোয়ার সময় অনেকেই একটি ভুল করেন। যা স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর। কীভাবে শাক ধোবেন, কেন তা ডায়েটে গুরুত্বপূর্ণ—জানুন বিস্তারিত।

Leafy Greens Washing Mistake: পাতাওয়ালা শাক ধোয়ার সময় অনেকেই একটি ভুল করেন। যা স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর। কীভাবে শাক ধোবেন, কেন তা ডায়েটে গুরুত্বপূর্ণ—জানুন বিস্তারিত।

author-image
Chinmoy Bhattacharjee
New Update
Leafy Greens Washing Mistake: কীভাবে শাক পরিষ্কার করবেন, জেনে নিন এখানে।

Leafy Greens Washing Mistake: কীভাবে শাক পরিষ্কার করবেন, জেনে নিন এখানে।

Leafy Greens Washing Mistake: পাতাওয়ালা শাক আমাদের দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান। পুষ্টিগুণ, ভিটামিন, খনিজ, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং ফাইবারে ভরপুর এই শাক নিয়মিত খেলে শরীর নানা উপকার পায়। শাক দৈনন্দিন রুটিনে থাকলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে, হজমশক্তি ভালো থাকে, রক্তস্বল্পতার ঝুঁকি কমে এবং ত্বকের স্বাস্থ্যের উল্লেখযোগ্য উন্নতি ঘটে। কিন্তু শাক যতই পুষ্টিকর হোক, সঠিকভাবে ধোয়া না ধোয়া হলে এর উপকারিতা কমে যেতে পারে এবং উলটে ক্ষতি পর্যন্ত হতে পারে। রান্নার আগে তাই শাক পরিষ্কার করা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাপ, আর এই জায়গাতেই অনেকেই বড় ভুল করে থাকেন।

Advertisment

মাস্টারশেফ পঙ্কজ ভাদোরিয়া সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে জানান যে, অধিকাংশ মানুষ শাক ধোয়ার সময় একটি সাধারণ ভুল করেন। তাঁরা শাক জলে ডুবিয়ে হালকা ঝাঁকিয়ে নেন এবং তারপর সেই জল শাক-সহ একসঙ্গে ঢেলে দেন। এই প্রক্রিয়ায় ময়লা বা ধূলিকণা জলে ধুয়ে যাওয়ার বদলে আবার শাকের গায়ে লেগে যায়। ফলে শাক যতই ধোয়া হোক, ঠিকমতো পরিষ্কার হয় না। অনেক সময় চোখে দেখা না গেলেও পাতার পেছনে ও ভাঁজে মাটির দানা, বালি বা ক্ষুদ্র পোকামাকড় থেকে যেতে পারে, যা পরে রান্নায় বা খাওয়ার সময় শরীরে প্রবেশ করতে পারে।

আরও পড়ুন- ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং কি সত্যিই ওজন কমায়? নতুন গবেষণায় মিলল চমকপ্রদ তথ্য!

শেফ অনন্যা ব্যানার্জিও এ বিষয়ে একমত। তিনি জানান, শাক ধোয়ার সবচেয়ে ভালো উপায় হল বড় একটি বাটিতে ঠান্ডা জল ভরে সেই জলের ভেতরে শাক ডুবিয়ে রেখে হাত দিয়ে হালকা নেড়ে দেওয়া। কিছুক্ষণ ভিজিয়ে রাখলে পাতার গায়ে থাকা ময়লা আলগা হয়ে যায় এবং জলের তলানিতে জমা হয়। এরপর সঠিক নিয়ম হল, শাককে বাটি থেকে তুলে নেওয়া, কিন্তু বাটির জল ঢেলে না ফেলা। বাটির তলায় থাকা সেই ময়লা থেকে শাককে আলাদা করার জন্যই এই পদ্ধতিটি সবচেয়ে কার্যকর। জল আলাদা করে ফেলে দিয়ে আবার নতুন পরিষ্কার জলে শাক ধোয়া উচিত। এতে শাকের পাতা একদম পরিষ্কার থাকে এবং রান্নার সময় কোনোরকম মাটি বা বালির উপস্থিতি থাকে না।

আরও পড়ুন- শীতকালে ভুল করে এই ৫টি খাবার খাবেন না, খেলে পরিবার বারবার অসুস্থ হবে ! 

শেফ অনন্যার মতে, ভিজিয়ে তুলে নেওয়ার পর শাক শুকানোর জন্য স্যালাড স্পিনার ব্যবহার করা সবচেয়ে ঠিকঠাক। যদি তা না থাকে, তবে পরিষ্কার রান্নাঘরের তোয়ালের মাঝে শাক বিছিয়ে রেখে স্বাভাবিকভাবে শুকাতে দেওয়া যেতে পারে। পাতা যত শুকনো থাকবে, তত ভালোভাবে সংরক্ষণ করা যাবে। শুকনো পাতায় ব্যাকটেরিয়া কম জন্মায় এবং দীর্ঘক্ষণ সতেজ থাকে। সমস্ত কাজ শেষ হওয়ার পর শাক বায়ুরোধী (airtight) কন্টেইনারে কাগজের তোয়ালে বিছিয়ে রেখে সংরক্ষণ করলে শাক আরও বেশি দিন ভালো থাকে।

আরও পড়ুন- বারবার রঙের ঝামেলা নেই, এই ঘরোয়া উপাদানে চুল করুন জঙ্গলের মত ঘন, কালো

শুধু সঠিকভাবে ধোয়া নয়, পাতাওয়ালা শাক নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখা কেন জরুরি, সে বিষয়েও পুষ্টিবিদ গরিমা গোয়েল আলোকপাত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, শাকে রয়েছে প্রচুর ভিটামিন এ, সি, কে এবং বি–কমপ্লেক্স ভিটামিন। বিশেষ করে পালং শাক এবং কেল শরীরের ভিটামিন ঘাটতি পূরণে অসাধারণ ভূমিকা নেয়। ভিটামিন সি ত্বকের ক্ষত সারাতে সাহায্য করে এবং বয়সের ছাপ পড়া কমায়। ভিটামিন এ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে সংক্রমণ প্রতিরোধ করে। একইসঙ্গে চোখকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। ভিটামিন কে হাড় মজবুত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

আরও পড়ুন- কোমরের মেদ গলাতে দুর্দান্ত কাজের, এই কায়দায় হলুদে বিরাট উপকার

পাতাওয়ালা শাকে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম থাকে, যা হাড়ের ক্ষয় রোধ করে এবং পেশির শক্তি বাড়ায়। আয়রন রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা ঠিক রাখতে সাহায্য করে, যা রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধে বড় ভূমিকা নেয়। শাকে থাকা নাইট্রিক অক্সাইড রক্তনালির নমনীয়তা বাড়ায় এবং হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি কমায়। শাকের অন্যতম বড় উপকারিতা হল, রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা। কারণ এতে ফাইবার ও ম্যাগনেশিয়াম প্রচুর পরিমাণে থাকে, যা হজম প্রক্রিয়াকে ধীর করে এবং খাবারের পর রক্তে গ্লুকোজ দ্রুত বাড়তে দেয় না। ফলে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমে এবং অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা নিয়ন্ত্রণে থাকে।

শাকে আছে অক্সালিক অ্যাসিড

যদিও প্রতিদিন শাক খাওয়া দরকার, তবে অতিরিক্ত খেলে কিছু সমস্যার সম্ভাবনাও রয়েছে। শাকে থাকা অক্সালিক অ্যাসিড বেশি পরিমাণে গ্রহণ করলে আয়রন বা ম্যাগনেশিয়ামের মত পুষ্টি শোষণ বাধাগ্রস্ত হতে পারে এবং কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ে। কিছু শাকে হালকা হিস্টামিন থাকে, যা সংবেদনশীল ব্যক্তিদের মধ্যে মৃদু অ্যালার্জির সমস্যা তৈরি করতে পারে। সব মিলিয়ে, শাক নিয়মিত খাওয়ার মতই সঠিকভাবে ধোয়া ও সংরক্ষণ করাও গুরুত্বপূর্ণ। স্বাস্থ্য, পুষ্টি, পরিচ্ছন্নতা—এই তিনের সমন্বয় ঘটালেই পাতাওয়ালা শাকের আসল উপকার পাওয়া সম্ভব বলেই বিশেষজ্ঞদের মত।

Mistake Washing