/indian-express-bangla/media/media_files/2025/12/01/wall-yoga-2025-12-01-14-04-53.jpg)
Wall Yoga: যোগাসন।
Viparita Karani Yoga: আজকের ব্যস্ত জীবনে মানসিক চাপ, ক্লান্তি, মাথা ঘোরা, পায়ের ব্যথা, পায়ে ফোলাভাব এবং ঘুমের সমস্যা প্রায়ই দেখা যায়। দিনভর কাজের চাপে শরীর ভারী লাগে, পা ফুলে ওঠে এবং মন অস্থির হয়ে পড়ে। কিন্তু এমন একটি সহজ যোগভিত্তিক পদ্ধতি আছে, যেটি প্রতিদিন মাত্র ১০ মিনিট করলেই শরীর ও মনের ক্লান্তি ভীষণভাবে দূর হয়। সেটি হল, দেওয়ালে পা তুলে শোওয়া, যেটিকে যোগব্যায়ামে বলা হয় বিপরীত করণী। আধুনিক ভাষায় অনেক স্বাস্থ্য কোচ একে দেওয়ালে পা রাখা যোগ (Leg Up The Wall Yoga) বলে থাকেন। কারণ, এইভাবে রাখলে শরীরের অবস্থান সম্পূর্ণ শিথিল থাকে এবং রক্ত চলাচল স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক ভালোভাবে কাজ করতে শুরু করে।
কাজে লাগান এই জনপ্রিয় আসন
এই যোগাসনটি এত জনপ্রিয় হওয়ার কারণ হল, এটি করতে কোনও বিশেষ দক্ষতা লাগে না। বাড়ির মধ্যে একটি ফাঁকা জায়গা, একটি দেওয়াল এবং একটি ম্যাট থাকলেই এই অনুশীলনটি করা যায়। মহিলা স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ নিধি কক্কর তাঁর ভিডিওতে ব্যাখ্যা করেছেন যে প্রতিদিন মাত্র ১০ মিনিট এই আসনে শুয়ে থাকলেই মন শান্ত হয়, পায়ের ব্যথা কমে এবং রাতে ঘুমও অনেক ভালো হয়। তিনি বলেন যে সারাদিন দাঁড়িয়ে বা হাঁটাহাঁটি করার কারণে পায়ের শিরা-উপশিরায় যে চাপ তৈরি হয়, এই আসন সেই চাপকে উলটো দিকে সরিয়ে দেয়। ফলে পা হালকা লাগে, ফুলে থাকা অনেকটাই কমে যায় এবং শরীরের রক্তপ্রবাহ আরও শক্তিশালী হয়।
বিপরীত করণী করতে হলে প্রথমে আপনাকে মাটিতে চাদর বা ম্যাট বিছিয়ে শুয়ে পড়তে হবে। এরপর পিঠ সোজা রেখে পা দুটি তুলে দেয়ালে সোজাভাবে ঠেকিয়ে রাখতে হবে। হাত দুটো শরীরের পাশে ঢিলা করে রাখতে হবে এবং দীর্ঘশ্বাস ছাড়তে ছাড়তে পুরো শরীরকে শিথিল করতে হবে। এই অবস্থানে ৫ থেকে ১০ মিনিট থাকলেই শরীর নিজে থেকেই আরাম অনুভব করতে শুরু করবে। ধীরে ধীরে পায়ের ভারী ভাব কমে আসবে, মাথা হালকা লাগবে এবং মনও শান্ত হবে। নিয়মিত অনুশীলনে শরীরের স্নায়ুতন্ত্র স্বাভাবিকভাবে কাজ করে এবং মানসিক চাপ কমে যায়।
আরও পড়ুন- আজ ১লা ডিসেম্বর, বিশ্ব এইডস দিবস, নতুন করে সচেতনতার শপথ গ্রহণের দিন
শরীরের হজমক্ষমতাও এই আসনের মাধ্যমে উন্নত হয়। অনেক সময়ই দেখা যায় পেটে ভারী ভাব, হজমে সমস্যা বা ফোলাভাব তৈরি হয়—দৈনন্দিন দৌড়ঝাঁপে সেগুলো আরও বেড়ে যায়। বিপরীত করণী করলে পেটের পেশিতে চাপ না পড়ে বরং সেগুলো শিথিল হয়, যার ফলে স্বাভাবিক হজম ক্রিয়া বজায় থাকে। প্রতিদিন এই অবস্থানে কিছুক্ষণ শুয়ে থাকলে পেটের গ্যাস, ফোলাভাব বা অস্বস্তি কমে যায়।
আরও পড়ুন- ভারতের এই ৬টি অদ্ভুত বেগুনি পাখি, যাদের একবার দেখলে চোখ ফেরানো যায় না!
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এই আসন লিমফ্যাটিক সিস্টেমকে সক্রিয় করে, যা শরীরের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। সারাদিনের দূষণ, ক্লান্তি, অভ্যাসগত ভুল খাদ্যাভ্যাস—সব মিলিয়ে শরীরে যে টক্সিন তৈরি হয়, তা দূর হতে এই আসন গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে। শরীরের রক্তপ্রবাহ যখন ওপরের দিকে যায়, তখন মস্তিষ্কে অক্সিজেন সরবরাহ বেড়ে যায়। ফলে মন সতেজ লাগে, মাথার চাপ কমে এবং ব্রেন আরও সক্রিয় হয়।
আরও পড়ুন- সূর্য সেনের বিপ্লবী সেনাদলের প্রধান, স্বাধীন ভারতেও জেলে ছিলেন ৮ বছর
এই আসনের আরেকটি অন্যতম উপকার হল, এটি ঘুমের গুণগত মান বাড়িয়ে তোলে। যাঁরা অনিদ্রায় ভোগেন বা রাতে ঘুম আসতে দেরি হয়, তাঁরা প্রতিদিন ঘুমানোর আগে ১০ মিনিট বিপরীত করণী করলে অনেকটাই উপকার পাবেন। মন শান্ত হয়, অস্থিরতা কমে এবং শরীর ঘুমের জন্য প্রস্তুত হয়। নিধি কক্কর বলেন যে এই আসনের মাধ্যমে শরীরের উত্তেজনা অনেকটাই কমে যায়, যা গভীর ঘুমে পৌঁছাতে সাহায্য করে।
আরও পড়ুন- এই মন্দিরে প্রার্থনা নাকি ব্যর্থ হয় না, জাগ্রত দেবী গড়বেতার সর্বমঙ্গলা
দিনের যে কোনও সময়ে এই আসন করা যায়, তবে বিশেষজ্ঞের মতে ঘুমানোর আগে এটি করলে উপকার সবচেয়ে বেশি হয়। সারাদিনের ক্লান্তি একইসঙ্গে কমে যায়, আর পরের দিন সকালে শরীরও অনেক ফ্রেশ অনুভব হয়। ধীরে ধীরে এটি যদি আপনার দৈনন্দিন রুটিনের অংশ হয়ে যায়, তাহলে মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যে স্পষ্ট পার্থক্য দেখা যাবে।
দেয়ালে পা তুলে শোওয়া বা বিপরীত করণী একটি অত্যন্ত সহজ, কিন্তু বেশ কাজের যোগ পদ্ধতি। ব্যয়াম না করেও শুধু এই আসনটি করলেই শরীর-মন দুটি সতেজ থাকে। এই আসন এখন বিশ্বজুড়েই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে কারণ এর উপকার একাধিক এবং এটি করতে কোনও বিশেষ দক্ষতা বা কঠিন কৌশল প্রয়োজন হয় না। তাই যত ব্যস্ত জীবনই হোক, প্রতিদিন ১০ মিনিট নিজের জন্য রাখুন এবং এই সহজ অভ্যাসটি অনুসরণ করুন। শরীর-মন দুটোই আপনাকে ধন্যবাদ দেবে।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us