/indian-express-bangla/media/media_files/2025/11/29/actor-shuvendu-chattopadhyay-2025-11-29-02-10-01.jpg)
Actor Shuvendu Chattopadhyay: নানা মুহূর্তে অভিনেতা শুভেন্দু চট্টোপাধ্যায়।
Legendary Actor Tribute: বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এমন কিছু নাম আছে, যাঁরা আলো ছড়িয়েও সময়ের সঙ্গে হারিয়ে গেছেন। তাঁদের মধ্যে অন্যতম অভিনেতা শুভেন্দু চট্টোপাধ্যায়। আজ তাঁর জন্মদিনে তাঁকে স্মরণ করা মানে শুধুমাত্র এক অভিনেতাকে নয়, বরং এক বিস্মৃতপ্রায় যুগকে নতুন করে ফিরে দেখা। তিনি এমনই একজন শিল্পী, যিনি একদিকে চিকিৎসক, অন্যদিকে অভিনেতা—দুটি পরিচয়েই ছিলেন সমান স্বচ্ছন্দ, সমান গভীর। জন্ম ২৯ নভেম্বর ১৯৩৬। পরিবারে চিকিৎসার ঐতিহ্য ছিল প্রবল। তাঁর ঠাকুরদা ছিলেন বিখ্যাত ডাক্তার। পরিবার চেয়েছিল তিনিও চিকিৎসক হবেন, সেই ইচ্ছা তিনি পূরণও করেছিলেন। কিন্তু যেটি কারও জানা ছিল না, তা হল- মনের গভীরে লুকিয়ে থাকা আরেক স্বপ্ন। আর, সেই স্বপ্ন ছিল অভিনেতা হওয়ার।
কলকাতা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস
কলকাতা মেডিকেল কলেজ থেকে ১৯৬০ সালে এমবিবিএস পাশের পর তাঁর জীবন প্রথমে বাঁক নেয় সিভিল ডিফেন্স এবং পরে কলকাতা পুরসভার হাসপাতালে চাকরির দিকে। কিন্তু হাসপাতালের সাদা দেওয়াল আর রোগীর প্রেসক্রিপশন কখনই তাঁর মনকে সম্পূর্ণভাবে বেঁধে রাখতে পারেনি। ছাত্রাবস্থায় শিশির ভাদুড়ির ‘মাইকেল মধুসূদন’ নাটক দেখে যে আলো তাঁর মনে জ্বলে উঠেছিল, সেটিই তাঁকে বারবার ডাকতে থাকে। সেই টান তাঁকে নিয়ে যায় আইপিটিএ-র মঞ্চে, যেখানে তিনি অভিনয় শিখেছিলেন জ্ঞানেশ মুখোপাধ্যায়ের কাছে। ডাক্তারি পড়াশোনা আর অভিনয়ের শিক্ষা পাশাপাশি চললেও তাঁর মন পুরো ঝুঁকে ছিল নাট্যমঞ্চের দিকেই।
আরও পড়ুন- টেনশনে ধরতে পারে হাঁফ, সামলাবেন কীভাবে? জানুন চিকিৎসকের থেকে
১৯৬৫ সালে তাঁর জীবনে আসে সবচেয়ে বড় মোড়। আইপিটিএ-র মঞ্চে অভিনয় দেখে তৎকালীন তরুণ কিন্তু ইতিমধ্যেই প্রতিভাবান পরিচালক মৃণাল সেন তাঁকে ডাকেন ‘আকাশকুসুম’ ছবির জন্য। সেই ছবিতে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় ও অপর্ণা সেনের মত দিগন্ত ছোঁয়া প্রতিভার পাশে দাঁড়িয়ে প্রথম ছবিতেই তিনি নিজের জায়গা তৈরি করে ফেলেন। তাঁর কাজ দেখে মুগ্ধ হন সত্যজিৎ রায়ও। যে প্রশংসা সব অভিনেতার কাছেই এক বিরাট স্বীকৃতি। এরপরই তিনি সুযোগ পান ‘চিড়িয়াখানা’-তে অভিনয়ের।
আরও পড়ুন- প্রত্যেক মানুষের শরীরেই রয়েছে অসংখ্য হাড়, জানেন কী নাম সেগুলোর?
শুভেন্দু চট্টোপাধ্যায়ের জীবনের আরেক উজ্জ্বল অধ্যায় তাঁর সঙ্গে মহানায়ক উত্তমকুমারের বন্ধুত্ব। শুটিং ফ্লোরে উত্তমকুমার অসুস্থ হয়ে পড়লে তিনিই প্রথম বুঝেছিলেন যে সমস্যাটি হৃদরোগ–সম্পর্কিত। ডাক্তারি জ্ঞান তাঁর অন্য পরিচয়ের মতই নিখুঁত ছিল। উত্তমকুমারের প্রতি তাঁর এই স্নেহ ও সতর্কতা পরে আরও গভীর বন্ধনে রূপ নেয়। উত্তমকুমারের মৃত্যুর পর তিনি প্রতি ২৪ জুলাই বাড়িতে তাঁর ছবিতে মালা পরাতেন এবং সামনে রাখতেন নীরব স্মৃতির প্রতীক এক পেগ ওয়াইন। যা ছিল—এক আন্তরিক, হৃদয়স্পর্শী রেওয়াজ। যে রেওয়াজ কেবল প্রকৃত ভালবাসাতেই সম্ভব।
আরও পড়ুন- পায়ের গোড়ালি ফাটা থেকে চিরতরে মুক্তি চান? শীতে মেনে চলুন এই ৫টি সহজ টিপস
এরপর আসতে থাকে তাঁর একের পর এক স্মরণীয় চরিত্র। যা ফুটে ওঠে, ‘হংসমিথুন’, ‘চৌরঙ্গী’, ‘অরণ্যের দিনরাত্রি’, ‘ছদ্মবেশী’, ‘কোরাস’, ‘গণশত্রু’, ‘লাল দরজা’, ‘দহন’ এবং ‘আবার অরণ্যে’। তাঁর অভিনয়ে ছিল এক অবধারিত স্বকীয়তা—চোখের অভিব্যক্তি, সংযত সংলাপ, নিখুঁত দেহভঙ্গি এবং চরিত্রের অন্তর্লোক বোঝার আশ্চর্য ক্ষমতা। তিনি জানতেন, কোন জায়গায় কতটা অভিনয় করতে হয়। চেঁচিয়ে নয়, বরং গভীরতা নিয়ে দৃশ্যের ভিতরে ঢুকে যাওয়াই ছিল তাঁর অভিনয়ের সম্পদ।
আরও পড়ুন- দেখুন তো এই কারণেই আপনার চুল ঝরছে কি না? হলে দ্রুত বন্ধ করুন!
২০০৩ সাল পর্যন্ত তিনি নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেছেন, কিন্তু তাঁর প্রতিভা ঠিক কতটা স্বীকৃতি পেয়েছে—সে প্রশ্ন আজও থেকে গেছে। তিনি ছিলেন ইন্ডাস্ট্রির মানুষের কাছে 'দ্য গ্রেট ডক্টর'। এটা ছিল, এমন এক উপাধি যা জুড়েছিল স্নেহ, সাহচর্য এবং শ্রদ্ধা থেকে। ২০০৭ সালে তাঁর মৃত্যুতে বাংলা চলচ্চিত্র জগতের এক বড় ক্ষতি হয়। গুণমুগ্ধদের একাংশের অভিযোগ, অভিনয় প্রতিভার জন্য যে প্রাতিষ্ঠানিক সম্মান তথা স্বীকৃতি তাঁর পাওয়ার কথা ছিল, সেটা তিনি পাননি।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us