Legendary Composer Ratu Mukhopadhyay: আধুনিক বাংলা গানের অনন্য সুরকার, রত্নেশ্বর মুখোপাধ্যায়কে শ্রদ্ধাঞ্জলি!

Legendary Composer Ratu Mukhopadhyay: মান্না দে’র কণ্ঠে অমর হয়ে থাকা ‘রিম ঝিম ঝিম বৃষ্টি’, ‘মনে করো আমি নেই’ থেকে অসংখ্য কালজয়ী গানের সুরকার ছিলেন রত্নেশ্বর ওরফে রতু মুখোপাধ্যায়।

Legendary Composer Ratu Mukhopadhyay: মান্না দে’র কণ্ঠে অমর হয়ে থাকা ‘রিম ঝিম ঝিম বৃষ্টি’, ‘মনে করো আমি নেই’ থেকে অসংখ্য কালজয়ী গানের সুরকার ছিলেন রত্নেশ্বর ওরফে রতু মুখোপাধ্যায়।

author-image
Chinmoy Bhattacharjee
New Update
Ratu Mukhopadhyay: বামদিক থেকে রতু মুখোপাধ্যায়, নীলিমা বন্দ্যোপাধ্যায় ও মান্না দে।

Ratu Mukhopadhyay: বামদিক থেকে রতু মুখোপাধ্যায়, নীলিমা বন্দ্যোপাধ্যায় ও মান্না দে।

Legendary Composer Ratu Mukhopadhyay: বাংলা গানের সোনালি যুগের এক নীরব প্রতিভা ছিলেন রত্নেশ্বর মুখোপাধ্যায়। তিনি সংগীতজগতে ‘রতু মুখোপাধ্যায়’ নামেই বেশি পরিচিত। তাঁর সুরেই মান্না দে গেয়েছেন “হৃদয়ের গান শিখে তো গায় গো সবাই”, “রাত জাগা দুটি চোখ”, “রিমঝিম ঝিম বৃষ্টি” ও “অভিমানে চলে যেও না”। সেই সব গান আজও শ্রোতার হৃদয়ে অমর। 

Advertisment

রত্নেশ্বর মুখোপাধ্যায়

রত্নেশ্বর মুখোপাধ্যায়ের জন্ম ১৯০৯ সালের ১৯ ডিসেম্বর, বৃটিশ ভারতের বরিশাল জেলার উজিরপুরে। পিতা গজেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় ছিলেন গভীর সঙ্গীতরসিক। বলা হয়, তিনি কান্তকবি রজনীকান্ত সেনের সঙ্গে এক মেসে থাকতেন এবং সেখান থেকেই ভক্তিগীতির প্রতি তাঁর অনুরাগ জন্ম নেয়। রত্নেশ্বর ছিলেন দশ ভাইয়ের একজন, কিন্তু তিনি এবং তাঁর ভাই সিদ্ধেশ্বর মুখোপাধ্যায়ই পারিবারিকভাবে সঙ্গীতচর্চাকে পেশা হিসেবে নেন। তাঁদের পরিবারে কীর্তন ও ধ্রুপদী সঙ্গীতের ধারা ছিল বহু পুরনো।

আরও পড়ুন- শীতের সকাল, দেখুন পবিত্র গঙ্গার ঘাট আর এক অন্যরকম বেনারস

প্রাচীন বাংলা গান, কীর্তন ও উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতে তাঁর ছিল গভীর দখল। সুরকার হিসেবে তাঁর বৈশিষ্ট্য ছিল — সরল অথচ হৃদয়ছোঁয়া সুর রচনা। তিনি অনেক সময় কোনও যন্ত্র ছাড়াই 'খালি গলায়' সুর দিতেন। কবির সুমন তাঁর সুমনামি গ্রন্থে লিখেছেন: 'আধুনিক বাংলা গানের এক অসামান্য সুরকার রতু মুখোপাধ্যায় আমায় বলেছিলেন, তিনি খালি গলায় সুর করতেন। আমরা যারা মোটের ওপর বাজনা-নির্ভর, ভাবতে পারব না 'বনতল ফুলে ফুলে ঢাকা', 'কী দেখি পাই না ভেবে গো' — এইসব গান কেউ খালি গলায় গেয়ে সুর দিয়েছেন।'

Advertisment

আরও পড়ুুন- উত্তর কলকাতার শতাব্দীপ্রাচীন কালীমন্দির, যেখানে চুরি যাওয়া গয়না ফিরে এসেছিল অলৌকিকভাবে!

গীতিকার পুলক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর যুগলবন্দি বাংলা গানের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা আছে। মান্না দে’র কণ্ঠে তাঁদের তৈরি গানগুলি আজও কালজয়ী। রত্নেশ্বর মুখোপাধ্যায় শুধু সুরকারই ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন কীর্তনীয়া, গীতিকার এবং সঙ্গীত শিক্ষক। তাঁর সুরে ভক্তি, প্রেম ও মানবিকতার সংমিশ্রণ ঘটেছে। তাঁর ভাই সিদ্ধেশ্বর মুখোপাধ্যায় ও সত্যেশ্বর মুখোপাধ্যায়ও ছিলেন খ্যাতনামা সঙ্গীতশিল্পী। প্রখ্যাত সঙ্গীতশিল্পী মানবেন্দ্র মুখোপাধ্যায় ছিলেন তাঁর ভ্রাতুষ্পুত্র। অর্থাৎ, সঙ্গীত ছিল তাঁদের রক্তে প্রবাহিত উত্তরাধিকার।

আরও পড়ুন- ঘরেই বানান কাঁচা লঙ্কার গুঁড়ো, টাটকা থাকবে মাসের পর মাস

১৯৮০ সালের ১৩ নভেম্বর কলকাতায় রত্নেশ্বর মুখোপাধ্যায় প্রয়াত হন। আজও বাংলা গানের প্রেমিকরা তাঁকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তাঁর সৃষ্ট গানগুলো প্রমাণ করে— সুরকাররা অদৃশ্য হলেও তাঁদের সুর চিরকাল জীবিত থাকে। রতু মুখোপাধ্যায়ের অবদান আজও অনেকাংশে অবমূল্যায়িত। অথচ তাঁর সৃষ্ট সুরে বাংলা গান পেয়েছিল এক নতুন দিগন্ত। শুদ্ধতা, সরলতা ও অনুভূতির মেলবন্ধনই তাঁর সঙ্গীতকে করে তুলেছিল অমর। আজ তাঁর প্রয়াণ দিবসে জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা।

Ratu Mukhopadhyay