/indian-express-bangla/media/media_files/2025/11/09/singer-sipra-bose-2025-11-09-10-51-28.jpg)
Singer Sipra Bose: সংগীতশিল্পী শিপ্রা বসু।
Singer Sipra Bose: কথায় আছে, 'যাঁদের জীবনই ছিল সংগীত, তাঁদের মৃত্যু কেবল এক বিরতি— সুর তো আজও বাজে, সময়ের ওপারে।' আজ ৯ নভেম্বর, সুরের সাধিকা শিপ্রা বসুর জন্মদিন। এই অনন্য কণ্ঠশিল্পী ছিলেন ভারতীয় উচ্চাঙ্গ সংগীতের গর্ব, সৌন্দর্য এবং সাধনার প্রতিমূর্তি।
কৈশোরের গুরু ছিলেন আচার্য চিন্ময় লাহিড়ি
১৯৪৫ সালের এই দিনে কলকাতায় জন্ম নেন শিপ্রা বসু। ছোটবেলা থেকেই তাঁর ভেতরে ছিল সুরের প্রতি গভীর অনুরাগ। পরিবারের পরিবেশও ছিল সংগীতময়। কৈশোরেই তিনি গুরু আচার্য চিন্ময় লাহিড়ির কাছে সংগীত শিক্ষা শুরু করেন। গুরুজির কঠোর তালিম এবং নিজের নিষ্ঠায় দ্রুতই হিন্দুস্তানি উচ্চাঙ্গ সংগীতে অনন্য দক্ষতা অর্জন করেন।
আরও পড়ুন- রাতে ঘুমানোর আগে চোখের নীচে লাগান এই দুই তেল, একবারেই দূর হবে কালো দাগ
শিপ্রা বসুর সংগীতজীবন ছিল গুরুশিষ্য পরম্পরার এক উজ্জ্বল নিদর্শন। তিনি শিক্ষা নিয়েছেন তিন মহান ঘরানায়— লখনউ ঘরানায় প্রায় ১৫ বছর তিনি তালিম নেন কিংবদন্তি গজল রানি বেগম আখতারের কাছে। বেনারস ঘরানায় তাঁর গুরু ছিলেন বিশিষ্ট সংগীতশিল্পী ন্যায়না দেবী। মাইহার ঘরানায় ১৯৮০ সাল থেকে তিনি সংগীতের মহারথী পণ্ডিত রবিশঙ্কর-এর সান্নিধ্যে থেকে উচ্চাঙ্গ সংগীতের গভীর রূপ আয়ত্ত করেন।
আরও পড়ুন- অতিরিক্ত মদ্যপানের পর কেন ওঠে হেঁচকি? গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজিস্ট যা জানিয়েছেন, অনেকেরই জানা জরুরি
এই ধারাবাহিক সাধনাই তাঁকে নিয়ে যায় এমন এক উচ্চতায়, যেখানে তিনি হয়ে ওঠেন শাস্ত্রীয় ও লঘু শাস্ত্রীয়—উভয় ধারার অনন্য সাধিকা। শিপ্রা বসুর কণ্ঠ ছিল সুরেলা, কোমল অথচ গভীর আবেগে ভরা। তিনি কেবল খেয়াল বা ঠুমরির শিল্পী নন—গজল, দাদরা, ভজন, রাগপ্রধান বাংলা গান ও বৈঠকি গানেও রেখেছেন অমোঘ ছাপ।
আরও পড়ুন- কথায় কথায় চাউমিন খান? সাবধান, শরীরে নীরবে জমছে বিষ!
তাঁর গজল পরিবেশনে ছিল নিখুঁত উচ্চারণ, কাব্যময়তা এবং সুরের শৃঙ্খলা। প্রতিটি গানে তিনি ফুটিয়ে তুলেছেন অনুভূতির সূক্ষ্মতম রূপ। তাই তাঁর কণ্ঠ আজও শুনলে মনে হয়, সুর যেন কথা বলছে। দীর্ঘ ৪৫ বছরের সংগীতজীবনে শিপ্রা বসু ভারত, ইউরোপ, ব্রিটেন, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া এবং আফ্রিকার নানা দেশে সংগীত পরিবেশন করেছেন। তাঁর অ্যালবাম প্রকাশিত হয় এইচএমভি (HMV) এবং অন্যান্য প্রখ্যাত রেকর্ড সংস্থা থেকে। ২০০১–২০০২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের রাইম রেকর্ডস (Rhyme Records) থেকে প্রকাশিত 'শিপ্রা বোসের সঙ্গে এক সন্ধ্যা' (An Evening with Sipra Bose) অ্যালবামের জন্য তিনি পান গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডের মনোনয়ন। যা ভারতীয় মহিলা উচ্চাঙ্গ সংগীত জগতের ক্ষেত্রে ঐতিহাসিক ঘটনা।
আরও পড়ুন- দোকানের রুম ফ্রেশনারের দরকার নেই, এই কায়দায় ঘর রাখুন সুগন্ধে ভরপুর!
শিপ্রা বসুর জীবনসঙ্গী ছিলেন বিখ্যাত তবলা-বাদক পণ্ডিত গোবিন্দ বসু। তাঁদের সম্পর্ক ছিল সংগীত ও শ্রদ্ধার এক সুন্দর মেলবন্ধন। যদিও তাঁরা খুব কমই একসঙ্গে মঞ্চে আসতেন, তবু পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা ছিল তাঁদের জীবনের আসল শক্তি। তাঁদের দুই পুত্র ও এক কন্যা আজও সংগীতের সঙ্গে যুক্ত। ২০০৮ সালের ২২ এপ্রিল হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে কলকাতায় পরলোকগমন করেন শিপ্রা বসু। তবে তাঁর কণ্ঠের সুর আজও বয়ে যায় সময়ের স্রোতে, মুগ্ধ করে রাখে সংগীতপ্রেমীদের হৃদয়। তিনি প্রমাণ করে গেছেন— সাধনা, শ্রদ্ধা এবং অধ্যবসায়ই একজন শিল্পীকে অমর করে তোলে।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us