/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/21/lionel-messi-drink-habit-2026-01-21-21-15-52.jpg)
Lionel Messi Drink Habit: মেসির এই পানীয় খাওয়ার অভ্যাস ঘিরেই ইন্টারনেটে কৌতূহলের শেষ নেই।
Lionel Messi Drink Habit: বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম বড় তারকা লিওনেল মেসি মানেই মাঠের ভেতরে অসাধারণ দক্ষতা আর মাঠের বাইরে শান্ত, নির্লিপ্ত জীবনযাপন। সম্প্রতি তাঁর এক ব্যক্তিগত স্বীকারোক্তি সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মেসি জানিয়েছেন, অবসর সময়ে তিনি একগ্লাস ওয়াইন উপভোগ করতে ভালোবাসেন এবং অনেক সময় সেটির সঙ্গে সোডা বা স্প্রাইট মিশিয়েও খান। শুনতে অদ্ভুত লাগলেও, এই পানীয় খাওয়ার অভ্যাস ঘিরেই ইন্টারনেটে কৌতূহলের শেষ নেই।
এক সাক্ষাৎকারে মেসি বলেন, তিন সন্তানের দৌড়ঝাঁপে ভরা বাড়ির পরিবেশে তিনি মাঝে মাঝে একা থাকতে চান। সেই একান্ত সময়টুকুতে তাঁর পছন্দের পানীয় হল ওয়াইন, আর কখনও সেটির সঙ্গে সোডা। তাঁর কথায়, এই মিশ্রণটি দ্রুত কাজ করে এবং তাঁকে রিল্যাক্স হতে সাহায্য করে, বিশেষ করে মায়ামির রোদে ক্লান্ত দিনের শেষে তো বটেই।
আরও পড়ুন- ঘুমের মধ্যেই হৃদ্রোগে মৃত্যু কেন বাড়ছে, প্রয়াত গায়ক প্রশান্ত তামাংয়ের ঘটনা তুলল প্রশ্ন
এই বক্তব্য সামনে আসার পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, ওয়াইনের সঙ্গে সোডা মিশিয়ে খেলে শরীরে ঠিক কী ঘটে। চিকিৎসকদের মতে, এই অভ্যাসের প্রভাব সাধারণ ওয়াইন পানের তুলনায় কিছুটা আলাদা। সোডার মধ্যে থাকা কার্বন ডাই-অক্সাইড অ্যালকোহলকে শরীরে দ্রুত শোষিত হতে সাহায্য করে। ফলে একই পরিমাণ ওয়াইন খেলেও তার প্রভাব অনেক দ্রুত অনুভূত হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের ব্যাখ্যা
বিশেষজ্ঞদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, যখন কেউ ওয়াইনের সঙ্গে ফিজি সোডা মিশিয়ে পান করেন, তখন পাকস্থলীর ভেতরে অ্যালকোহল দ্রুত অন্ত্রে পৌঁছে যায় এবং সেখান থেকে রক্তে মিশে যায়। এর ফলে মাথা ঘোরা, হালকা নেশা, শরীর গরম লাগা বা ভারসাম্য হারানোর অনুভূতি দ্রুত দেখা দিতে পারে। শুরুতে অনেকের কাছে এটি আরামদায়ক বা আনন্দদায়ক মনে হলেও, অল্প সময়ের মধ্যেই ক্লান্তি বা মনোযোগের ঘাটতি দেখা দিতে পারে।
আরও পড়ুন- আপনার ডেঙ্গু হয়েছে নাকি ভাইরাল ফিভার, বুঝবেন কীভাবে? এই একটা টেস্টেই মিলবে সমাধান!
শুধু তাই নয়, এই ধরনের পানীয় মিশ্রণ হজমের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। ওয়াইন নিজেই কিছুটা অ্যাসিডিক, তার সঙ্গে সোডার কার্বনেশন যুক্ত হলে অনেকের পেটে গ্যাস, ফাঁপা ভাব বা বুকজ্বালার সমস্যা দেখা দেয়। যাঁদের আগে থেকেই গ্যাস্ট্রিক বা হজমের সমস্যা রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি আরও বেশি।
আরও পড়ুন- প্রতিদিন পান করুন এই ফলের রস, এত উপকার ভাবতেই পারবেন না!
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল জলাভাব। অ্যালকোহল শরীর থেকে জল বের করে দেয় এবং সোডা সেই ঘাটতি পূরণ করতে পারে না। ফলে ওয়াইন ও সোডা একসঙ্গে খেলে শরীর দ্রুত ডিহাইড্রেটেড হয়ে পড়তে পারে। এর ফলে পরদিন মাথাব্যথা, মুখ শুকিয়ে যাওয়া বা দুর্বল লাগার মতো হ্যাংওভার উপসর্গ দেখা দিতে পারে।
আরও পড়ুন- কেরিয়ারের সমস্যায় ভুগছেন? কাজে লাগান জাপানের 'গেইডো' দর্শন!
দীর্ঘমেয়াদে যদি কেউ নিয়মিতভাবে ওয়াইনের সঙ্গে মিষ্টি সোডা মিশিয়ে পান করেন, তাহলে অতিরিক্ত চিনি ও ক্যালোরি গ্রহণের ঝুঁকিও বাড়ে। এতে ওজন বৃদ্ধি, রক্তে শর্করার ওঠানামা এবং বিপাকজনিত সমস্যার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। যদিও মেসির মত পেশাদার ক্রীড়াবিদদের শরীরচর্চা ও খাদ্যাভ্যাস সাধারণ মানুষের থেকে আলাদা, তবুও এই অভ্যাস সবার জন্য নিরাপদ, এমনটা নয়।
চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, অ্যালকোহল গ্রহণের সময় ধীরে পান করা, অল্প পরিমাণে খাওয়া এবং খাবারের সঙ্গে পান করা শরীরের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব কমাতে সাহায্য করে। বিশেষ করে ফিজি পানীয়ের সঙ্গে অ্যালকোহল মেশানোর ক্ষেত্রে আরও বেশি সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
সব মিলিয়ে বলা যায়, লিওনেল মেসির পানীয় পছন্দ হয়তো তাঁর ব্যক্তিগত রিল্যাক্সেশনের অংশ, কিন্তু সাধারণ মানুষের জন্য এটি অনুসরণযোগ্য অভ্যাস না-ও হতে পারে। শরীরের প্রতিক্রিয়া বুঝে, নিজের স্বাস্থ্য পরিস্থিতি মাথায় রেখে এবং প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়েই এমন পানীয় গ্রহণ করা সবচেয়ে নিরাপদ।


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us