/indian-express-bangla/media/media_files/2026/02/03/longevity-genes-2026-02-03-11-52-49.jpg)
Longevity Genes: দীর্ঘায়ুর রহস্য জেনে নিন।
Longevity Genes: আমরা ছোটবেলা থেকেই শুনে এসেছি—ভালো খাও, নিয়মিত ব্যায়াম করো, ধূমপান এড়িয়ে চলো, তাহলেই দীর্ঘ জীবন নিশ্চিত। কিন্তু সাম্প্রতিক এক বৈজ্ঞানিক গবেষণা এই প্রচলিত ধারণাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। নতুন গবেষণা বলছে, আপনি যত স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনই করুন না কেন, আপনার সম্ভাব্য আয়ুর একটি বড় অংশ আগেই নির্ধারিত হয়ে যায় জিনের মাধ্যমে।
ইসরায়েলের ওয়েইজম্যান ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্সের গবেষক উরি আলোন ও তাঁর দল সুইডেনের যমজদের ওপর দীর্ঘ সময় ধরে তথ্য বিশ্লেষণ করেছেন। এই যমজদের মধ্যে অনেকেই আলাদা পরিবেশে বড় হয়েছেন, ফলে জীবনযাপন আলাদা হলেও জিন ছিল একই। গবেষণার উদ্দেশ্য ছিল—বাইরের কারণ যেমন খাদ্যাভ্যাস, পরিবেশ, দুর্ঘটনা বা সংক্রমণ বাদ দিয়ে দেখা, প্রকৃত বার্ধক্য কতটা জিনের ওপর নির্ভরশীল, তা নিশ্চিত করা।
গবেষণায় দেখা গেছে
গবেষণায় দেখা গেছে, মানুষের আয়ুর পার্থক্যের ৫০ শতাংশেরও বেশি ব্যাখ্যা করা যায় শুধুমাত্র জিনগত প্রভাব দিয়ে। আগের গবেষণাগুলিতে এই সংখ্যা অনেক কম ধরা হত, কারণ সেখানে কম বয়সে মারা যাওয়া মানুষদের তথ্যও যুক্ত ছিল। কিন্তু নতুন গবেষণায় মূলত বার্ধক্যজনিত মৃত্যুর দিকেই নজর দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন- ৮ ঘণ্টা ঘুমানোর পরও ঝিমুনি কাটছে না, কীভাবে দূর করবেন সমস্যা?
সহজ ভাষায় বললে, আপনার শরীর যেন জন্মের সময়ই একটি নির্দিষ্ট ক্ষমতা নিয়ে আসে। কেউ জন্মায় এমন জিন নিয়ে, যা তাঁকে ৯০ বা ১০০ বছর পর্যন্ত বাঁচার সুযোগ দেয়, আবার কেউ এমন জিন নিয়ে জন্মায়, যার সীমা হয়তো ৭৫ বা ৮০ বছর। স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এই সীমার ভেতরে আপনাকে একটু এগিয়ে বা পিছিয়ে দিতে পারে, কিন্তু সীমা ভেঙে ফেলা প্রায় অসম্ভব।
আরও পড়ুন- বয়স বাড়লে সুস্থ মানুষেরও কি রোজ সাপ্লিমেন্ট দরকার? জানুন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের থেকে
গবেষকদের মতে, ভালো অভ্যাস আয়ুতে গড়ে পাঁচ থেকে দশ বছর যোগ বা বিয়োগ করতে পারে। অর্থাৎ কারও জিন যদি তাকে ৮০ বছর পর্যন্ত বাঁচার ক্ষমতা দেয়, তাহলে খারাপ অভ্যাসে তার মৃত্যু হতে পারে ৭৫-এ, আর খুব ভালো অভ্যাসে হয়তো ৮৫-তে। কিন্তু শুধুমাত্র ডায়েট আর ব্যায়াম করে ১০০ ছুঁয়ে ফেলা যায় না, যদি না জিন সেই ক্ষমতা দেয়।
আরও পড়ুন- সুবিধাভোগী ১ কোটি কৃষক, নারকেল চাষ নিয়ে বিরাট সিদ্ধান্ত কেন্দ্রের!
এই গবেষণায় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে। সব রোগে জিনের প্রভাব সমান নয়। উদাহরণস্বরূপ, ক্যানসারের ক্ষেত্রে জিনগত প্রভাব তুলনামূলক কম, কিন্তু ডিমেনশিয়ার মতো রোগে জিনের ভূমিকা অনেক বেশি। অর্থাৎ কোন রোগে আমরা কতদিন বাঁচব, সেটিও আংশিকভাবে নির্ভর করে বংশগত বৈশিষ্ট্যের ওপর।
আরও পড়ুন- রোজ থেকে ভ্যালেন্টাইনস ডে, কোন তারিখে কী দিবস?
তবে এর মানে এই নয় যে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন একেবারেই অর্থহীন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জিন যদি আপনার আয়ুর ভিত্তি হয়, তাহলে জীবনযাপন হল সেই ভিত্তির ওপর দাঁড়ানো ঘর। খারাপ অভ্যাস খুব সহজেই আয়ু কমিয়ে দিতে পারে। ধূমপান, অতিরিক্ত মদ্যপান, স্থূলতা ও অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন দীর্ঘায়ুর জিন থাকলেও তার সুফল নষ্ট করে দিতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শতবর্ষী হওয়া আসলে একটি 'জেনেটিক লটারি'। কেউ কেউ জন্মগতভাবেই সেই লটারি জিতে আসে। কিন্তু যারা জেতেনি, তাঁদের ক্ষেত্রেও স্বাস্থ্যকর অভ্যাস জীবনের গুণগত মান অনেকটাই উন্নত করতে পারে। বেশি বছর বাঁচার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হল, সুস্থ ও কর্মক্ষম থাকা।
এই গবেষণা আমাদের একটি বাস্তববাদী শিক্ষা দেয়। সেটা হল, আমরা আমাদের আয়ু পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না, কিন্তু আমরা কীভাবে বাঁচব, সেটা আমাদের হাতেই। জিন হয়তো ঠিক করে দেয় আপনি কতদূর যেতে পারবেন, কিন্তু সেই পথটা কতটা সুন্দর হবে, তা নির্ভর করে আপনার জীবনযাপনের ওপর।
অতএব, দীর্ঘায়ু নিয়ে অতিরিক্ত দুশ্চিন্তার বদলে সুস্থ থাকার দিকে মন দেওয়া বেশি যুক্তিসংগত। কারণ শেষ পর্যন্ত, জীবন শুধু কত বছর বাঁচলেন তার হিসাব নয়, বরং সেই বছরগুলো কীভাবে কাটালেন, সেটাই আসল।


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us