/indian-express-bangla/media/media_files/yqtJVMb6Jn6sicDNt5Xu.jpg)
Medicines: ওষুধ।
Low Vitamin D Symptoms: অনেকেই মনে করেন, নিয়মিত আট ঘণ্টা ঘুমালেই সারাদিন চনমনে থাকা সম্ভব। কিন্তু বাস্তবে বহু মানুষ এমন আছেন, যাঁরা রাতে ভালো ঘুমোনোর পরও প্রতিদিন দুপুর গড়াতেই হঠাৎ শরীর ভেঙে পড়ার মত ক্লান্তি অনুভব করেন।
চোখ জড়িয়ে আসে, মন বসে না, কফি খেলেও কাজ হয় না। বাইরে থেকে দেখলে জীবনযাপন একেবারেই স্বাস্থ্যকর, তবুও শরীর যেন সাড়া দিচ্ছে না। এই অদ্ভুত সমস্যার পেছনে অনেক সময় যে কারণটি লুকিয়ে থাকে, তা হল ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি।
শুধুমাত্র হাড়ের জন্য প্রয়োজনীয়?
ভিটামিন ডি শুধুমাত্র হাড়ের জন্য প্রয়োজনীয়—এই ধারণা এখন পুরনো। আসলে এই ভিটামিন শরীরের কোষে শক্তি উৎপাদনের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। আমাদের শরীরের প্রতিটি কোষের ভেতরে থাকা মাইটোকন্ড্রিয়া শক্তি উৎপাদন করে, আর সেই প্রক্রিয়াটি ঠিকভাবে চলার জন্য ভিটামিন ডি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যখন শরীরে ভিটামিন ডি কমে যায়, তখন কোষ পর্যাপ্ত শক্তি তৈরি করতে পারে না। ফলে, মানুষ সব সময় ক্লান্ত, দুর্বল ও নিস্তেজ অনুভব করেন।
আরও পড়ুন- বয়স বাড়লে সুস্থ মানুষেরও কি রোজ সাপ্লিমেন্ট দরকার? জানুন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের থেকে
ভারতের মতো রোদে ভরা দেশে ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি হবে—এটা শুনতে অবাক লাগলেও বাস্তবটা ভয়ংকর। শহুরে জীবনে দিনের বেশিরভাগ সময় ঘরের ভেতর কাটানো, দূষণের কারণে সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি ঠিকমতো শরীরে না পৌঁছনো এবং ত্বক কালো হওয়ার ভয়—সব মিলিয়ে ভিটামিন ডি ঘাটতি এখন প্রায় প্রতিটি ঘরে। গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, শহরের ৭০ শতাংশের বেশি মানুষের ভিটামিন ডি মাত্রা স্বাভাবিকের নীচে।
আরও পড়ুন- সুবিধাভোগী ১ কোটি কৃষক, নারকেল চাষ নিয়ে বিরাট সিদ্ধান্ত কেন্দ্রের!
দুপুরে যে তীব্র ক্লান্তি আসে, তার পেছনে শরীরের স্বাভাবিক সার্কাডিয়ান রিদমও কাজ করে। দুপুর দুই থেকে চারটার মধ্যে শরীর স্বাভাবিকভাবেই একটু ধীর হয়ে যায়। কিন্তু যখন ভিটামিন ডি কম থাকে, তখন এই স্বাভাবিক ক্লান্তি কয়েকগুণ বেড়ে যায়। কারণ ভিটামিন ডি সেরোটোনিন নামের নিউরোট্রান্সমিটার তৈরি করতে সাহায্য করে, যা আমাদের মুড ও এনার্জি নিয়ন্ত্রণ করে। এই ভারসাম্য নষ্ট হলে মন ভারী লাগে, শরীর সাড়া দেয় না।
আরও পড়ুন- রোজ থেকে ভ্যালেন্টাইনস ডে, কোন তারিখে কী দিবস?
ভিটামিন ডি ঘাটতির আরেকটি বড় প্রভাব পড়ে পেশির ওপর। অনেকেই বলেন, 'কোনও কাজ না করেও শরীর ব্যথা লাগে' বা 'হালকা হাঁটলেই ক্লান্ত হয়ে পড়ি'। এর কারণ হল পেশির শক্তি ধরে রাখতে ভিটামিন ডি অপরিহার্য। ঘাটতি হলে পেশি সব সময় দুর্বল অনুভব করে, ফলে দুপুর নাগাদ শরীর একেবারে নিস্তেজ হয়ে পড়ে।
আরও পড়ুন- নগ্ন ড্রেস, বোল্ড ফ্যাশন ও রাজনৈতিক বার্তায় আলোড়ন লস অ্যাঞ্জেলেসে
ভারতীয় খাদ্যাভ্যাসও এই সমস্যাকে বাড়িয়ে দেয়। ভারী, কার্বোহাইড্রেট-সমৃদ্ধ দুপুরের খাবার খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বাড়ে, তারপর দ্রুত নেমে যায়। এই শর্করার ওঠানামা ভিটামিন ডি ঘাটতির সঙ্গে মিললে দুপুরের এনার্জি ক্র্যাশ আরও তীব্র হয়। তার ওপর পর্যাপ্ত জল না খাওয়া, দীর্ঘক্ষণ চেয়ারে বসে কাজ করা এবং প্রোটিনের অভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।
এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে শুধু বেশি ঘুমালেই চলবে না। প্রয়োজন শরীরের ভেতরের ঘাটতিগুলো বোঝা। চিকিৎসকের পরামর্শে ভিটামিন ডি পরীক্ষা করা এবং প্রয়োজনে সাপ্লিমেন্ট নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি প্রতিদিন অল্প সময় রোদে থাকা, দুপুরের খাবারে প্রোটিন ও ফাইবার যোগ করা এবং খাওয়ার পর কয়েক মিনিট হাঁটা—এই ছোট অভ্যাসগুলো দুপুরের ক্লান্তি অনেকটাই কমাতে পারে।
যাঁরা ভাবছেন, 'সব ঠিক আছে, শুধু একটু অলস লাগছে'—তাঁদের জন্য এটাই সবচেয়ে বড় সংকেত। কারণ শরীর যখন বারবার সংকেত দেয়, তখন সেটিকে উপেক্ষা করলে সমস্যা আরও গভীর হয়। ঠিক সময়ে ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি ধরা পড়লে, আবার স্বাভাবিক এনার্জি ও মনোযোগ ফিরে পাওয়া পুরোপুরি সম্ভব।


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us