/indian-express-bangla/media/media_files/2025/11/27/lung-cancer-2025-11-27-17-25-45.jpg)
Lung Cancer: কোন উপসর্গ দেখলে ফুসফুসের ক্যানসারের আশঙ্কা করবেন?
Lungs Cancer: ফুসফুসের ক্যানসার এমন একটি অসুখ, যার প্রাথমিক উপসর্গগুলি হল সাধারণ ঠান্ডা লাগা, কাশি বা দুর্বলতা। তাই অনেক সময় মানুষ ঠিকমতো এগুলোকে গুরুত্ব দেয় না। কিন্তু বাস্তব হল, ফুসফুসের ক্যানসার যত তাড়াতাড়ি ধরা পড়ে, চিকিৎসার সম্ভাবনা ততই বাড়ে। প্রথমদিকে এই রোগ নীরবে বাড়তে থাকে, শরীরকে ভিতর থেকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। তাই কোন কোন উপসর্গে সাবধান হওয়া উচিত, তা জানা থাকা খুবই জরুরি। দৈনন্দিন জীবনে এগুলিকে সাধারণ সমস্যা ভেবে ফেলে রাখলে পরে বড় বিপদ দেখা দিতে পারে।
কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন
ফুসফুসের ক্যানসারের প্রথম দিকের সবচেয়ে পরিচিত সংকেত হল দীর্ঘদিনের কাশি। সাধারণ সর্দি–কাশি সাধারণত এক–দু'সপ্তাহের মধ্যে কমে আসে। কিন্তু ফুসফুসের ক্যানসারের ক্ষেত্রে কাশি ধীরে ধীরে আরও খারাপ হতে থাকে। কখনও কাশি গভীর ও কর্কশ শোনায়, কখনও বেশি জোরে বা ঘনঘন হয়। অনেকেই প্রথমদিকে এটিকে অবহেলা করেন, মনে করেন আবহাওয়ার জন্য বা অ্যালার্জির কারণে এমন হচ্ছে। কিন্তু কয়েক সপ্তাহ ধরে কাশি কমে না, বরং বেড়েই চলে। আর, এমন হলে অবশ্যই চিকিৎসকের কাছে যাওয়া উচিত।
আরও পড়ুন- আলিপুরের পর কলকাতার দ্বিতীয় চিড়িয়াখানা, দর্শকদের ভিড়ে জমজমাট!
ঘনঘন সংক্রমণ ফুসফুসের ক্যানসারের আরেকটি সংকেত। বারবার নিউমোনিয়া বা ব্রঙ্কাইটিসের মত সংক্রমণ হওয়া, বিশেষ করে ফুসফুসের একই জায়গায় সংক্রমণ চক্রাকারে ফিরে আসা, ফুসফুসের ভেতরে কোনও বাধা বা টিউমারের উপস্থিতির ইঙ্গিত হতে পারে। স্বাভাবিকভাবে সুস্থ মানুষের ক্ষেত্রে একটি বড় সংক্রমণের পর শরীর ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করে। কিন্তু কয়েক মাস পর পর বা তারও আগে একই সমস্যা দেখা দিলে সতর্ক হওয়া জরুরি।
আরও পড়ুন- লেখাপড়া, কাজে মনসংযোগের অভাব? নিত্যদিনের এই পানীয়তে মিটবে সমস্যা!
অনেকে হালকা বুকধড়ফড় বা ব্যথাকে গুরুত্ব দেন না, কিন্তু ফুসফুসের ক্যানসারের ক্ষেত্রে বুকের ব্যথা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ উপসর্গ। এই ব্যথা কখনও চাপের মত লাগে, কখনও তীক্ষ্ণভাবে বিঁধে যায় যেন। হাসলে, কাশলে বা গভীর শ্বাস নিলে ব্যথা আরও বাড়তে পারে। ফুসফুস টিস্যু বা তার আশপাশে থাকা স্নায়ু আক্রান্ত হলে এই ধরনের ব্যথা দেখা দেয়। দীর্ঘদিন ধরে যদি বুকের মাঝখানে বা পাশে ব্যথা থেকে যায়, অবশ্যই নজর দেওয়া উচিত।
আরও পড়ুন- চিনতে পারছেন? শীতে এই ছয় পরিযায়ী পাখির দেখা মেলে ভারতে!
কণ্ঠস্বর কর্কশ হয়ে যাওয়া বা বদলে যাওয়াও ফুসফুসের ক্যানসারের একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ। সাধারণ ঠান্ডা–জ্বর হলে গলা বসে যাওয়া স্বাভাবিক। তবে দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে গলা একইভাবে বসে থাকলে বা কণ্ঠস্বর অস্বাভাবিক কর্কশ শোনালে, তা ফুসফুসের কোনও টিউমার কাছাকাছি স্নায়ুতে চাপ সৃষ্টি করছে, এমন ইঙ্গিত হতে পারে। তাই দীর্ঘদিন কণ্ঠস্বর বদলে থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
আরও পড়ুন- ঘনঘন প্রস্রাবে নাজেহাল? ঘরের এই সামান্য জিনিস খেয়ে করুন বিনামূল্যে সমাধান
শ্বাসকষ্টও অনেক সময় ফুসফুসের ক্যানসারের শুরুতে দেখা দেয়। স্বাভাবিকভাবে হাঁটা, সিঁড়ি ভাঙা বা নিত্যদিনের কাজ করতে গিয়ে শ্বাস নিতে কষ্ট হলে তা সাধারণত ক্লান্তি বলে মনে হতে পারে। কিন্তু শ্বাসকষ্ট ধীরে ধীরে বাড়তে থাকলে তা এড়িয়ে গেলে চলবে না। কারণ টিউমার বড় হলে শ্বাসনালিতে চাপ পড়ে, ফলে স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা কমে যায়। অনেকেই বলেন, যেন ঠিকমতো শ্বাস ঢুকছে না, বা ফুসফুস পুরোপুরি ভরছে না—এটাই সতর্কবার্তা।
আরেকটি উপসর্গ হল হঠাৎ অকারণে ওজন কমে যাওয়া। ডায়েট বা ব্যায়াম না করেও কয়েক সপ্তাহে ওজন কমে গেলে তা শুধু সাধারণ দুর্বলতা নয়। শরীরে ক্যানসার কোষ বেড়ে উঠলে শরীরের বিপাক প্রক্রিয়া দ্রুত হয়, বেশি শক্তি খরচ হয়। ফলে খাবার ঠিকভাবে হজম হলেও শরীর প্রয়োজনীয় পুষ্টি পায় না। তাই হঠাৎ ওজন কমে গেলে বিষয়টি খুব গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত।
দীর্ঘস্থায়ী ফুসফুসের ক্যানসারের একটি লুকিয়ে থাকা উপসর্গ হল, সারাদিন কাজ না করেও শরীর ভেঙে পড়ে, মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে যায়। অনেকে ভাবেন ঘুম কম হয়েছে বা কাজের চাপ বেশি। কিন্তু পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়ার পরও যদি শরীর ভারী লাগে, নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হয় বা শক্তি ক্রমশ কমে আসে, তবে এটি অস্বাভাবিক ঘটনা।
এছাড়া শরীরে হালকা ব্যথা, কাঁধ বা পিঠে অস্বস্তি, রক্ত-ওঠা কাশি, মুখমণ্ডলের ফোলা, ক্ষুধা কমে যাওয়া—এসবও ফুসফুসের ক্যানসারের সম্ভাব্য অতিরিক্ত উপসর্গ। সবসময় যে একসঙ্গে সব উপসর্গ দেখা দেবে তা নয়। কখনও মাত্র এক–দুটি উপসর্গ থেকেই বিষয়টি ধরা পড়তে পারে। তাই নিজের শরীরের ছোট পরিবর্তনগুলিও লক্ষ্য রাখা প্রয়োজন।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us