Madhyamgram Kalibari Temple: জাগ্রত মন্দির, পূরণ হয় মনস্কামনা, ভক্তদের ভরসা মধ্যমগ্রাম কালীবাড়ি

Madhyamgram Kalibari Temple: মধ্যমগ্রাম কালীবাড়ি কলকাতার কাছেই অন্যতম জাগ্রত ও প্রাচীন কালী মন্দির। কীভাবে যাবেন, মন্দির দর্শনের সময়, ইতিহাস ও পূজার বিশেষত্ব—সব জানুন এক ক্লিকেই।

Madhyamgram Kalibari Temple: মধ্যমগ্রাম কালীবাড়ি কলকাতার কাছেই অন্যতম জাগ্রত ও প্রাচীন কালী মন্দির। কীভাবে যাবেন, মন্দির দর্শনের সময়, ইতিহাস ও পূজার বিশেষত্ব—সব জানুন এক ক্লিকেই।

author-image
Chinmoy Bhattacharjee
New Update
Madhyamgram Kalibari: মধ্যমগ্রাম কালীবাড়ি।

Madhyamgram Kalibari: মধ্যমগ্রাম কালীবাড়ি।

Madhyamgram Kalibari Temple: কলকাতা এবং শহরতলির আধ্যাত্মিক পরিবেশে যে কয়েকটি মন্দির মানুষের মনকে সবচেয়ে বেশি আকর্ষণ করে, মধ্যমগ্রাম কালীবাড়ি তার অন্যতম। মধ্যমগ্রাম এলাকায় অবস্থিত এই মন্দিরটি শুধু একটি উপাসনালয় নয়, বরং আধ্যাত্মিক শক্তি, বিশ্বাস এবং মানুষের অন্তরের আশ্রয়স্থল।

Advertisment

কবে প্রতিষ্ঠা?

১৯৫১ খ্রিস্টাব্দে এই মন্দির প্রতিষ্ঠা হয়, আর সেই সময়ে প্রথম নির্মিত হয় মায়ের আটচালা মন্দির। এখানকার দেবী কালীকে অনেকে 'সর্বমঙ্গলা' বলে ডাকেন, কারণ বিশ্বাস করা হয়—মন থেকে ডাকা হলে দেবী ভক্তদের সকল মনোবাঞ্ছা পূরণ করেন।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মন্দির প্রাঙ্গণ আরও বড় হয়েছে। কালী মন্দিরের পাশে তৈরি হয়েছে রাধাকৃষ্ণ মন্দির, যেখানে প্রতিদিন সকালে আরতি হয়। এরপর রয়েছে মহাদেবের মন্দির। সেখানে দুই শিব ও দুই নন্দী একসঙ্গে বিরাজমান। এমন দৃশ্য একসঙ্গে খুব কম মন্দিরেই দেখা যায়। বড় ঠাকুরের নিজের আলাদা মন্দির এবং ভগবান রামকৃষ্ণের মন্দির মিলে পুরো জায়গাটি যেন ধর্মীয় বৈচিত্র্যের এক অপূর্ব উদাহরণ। কয়েক বছর আগে নির্মিত সিদ্ধিবিনায়ক মন্দিরও এখানে আসা দর্শনার্থীদের অন্যতম আকর্ষণ।

Advertisment

আরও পড়ুন- শুরু হয়ে গেছে রাজ্য হস্তশিল্প মেলা, বাংলার শিল্পীদের অসাধারণ হাতের কাজ দেখতে জমছে ভিড়

মন্দির প্রাঙ্গণে রয়েছে দুর্গা দালান, যেখানে বিভিন্ন উৎসবে বিশেষ পূজা এবং আরতি অনুষ্ঠিত হয়। রন্ধনশালায় বড় উৎসবের দিনে ভোগ রান্না করা হয়। এছাড়াও রয়েছে ভগিনী নিবেদিতার একটি মূর্তি, যা এই মন্দিরের পরিবেশকে আরও শান্ত, পবিত্র এবং চিন্তাশীল করে তোলে।

আরও পড়ুন- দূর করুন ঠোঁটের কালো দাগ, কাজে লাগান এই ঘরোয়া উপায়!

মধ্যমগ্রাম কালীবাড়ির অন্যতম বিশেষ দিক হল, এর সহজ যাতায়াত ব্যবস্থা। শিয়ালদহ থেকে বারাসাত, হাসনাবাদ বা বনগাঁ লোকাল ধরে নেমে পড়লেই মধ্যমগ্রাম রেল স্টেশন। সেখান থেকে মধ্যমগ্রাম চৌমাথার দিকে হাঁটতে হাঁটতে সাত থেকে দশ মিনিটেই পৌঁছে যাওয়া যাওয়া যায় এই মন্দিরে। বাসে এলে নামতে হবে মধ্যমগ্রাম চৌমাথা স্টপেজে। তারপর দশ থেকে বারো মিনিট হাঁটলেই মন্দির প্রাঙ্গণ। অসুস্থ বা বয়স্ক কেউ থাকলে টোটো চেপে সরাসরি প্রবেশদ্বার অবধি পৌঁছানো যায়। সোদপুর থেকেও প্রতি দশ মিনিট অন্তর মধ্যমগ্রাম কালীবাড়ি যাওয়ার বাস পাওয়া যায়। পাশাপাশি কলকাতা বিমানবন্দর থেকেও মধ্যমগ্রাম রুটে প্রচুর বাস চলে।

আরও পড়ুন- চুল পড়া ঠেকাতে, পাকা চুল ঘন কালো করতে কাজে লাগান এই অব্যর্থ ঘরোয়া টোটকা!

মন্দিরে দর্শনের সময় বলতে সারাদিনই মন্দির দর্শনার্থীদের জন্য খোলা থাকে। কেবল দুপুরে ও রাতে ঠাকুরের শয়নের সময় সাময়িক বন্ধ থাকে। যে কেউ নিজের সুবিধামতো যে কোনও সময়ে এসে দেবীর দর্শন করতে পারেন। বিশেষ করে সন্ধ্যা আরতির সময় মন্দির প্রাঙ্গণের পরিবেশ আরও পবিত্র, শক্তিময় ও শান্ত হয়ে ওঠে—যা একবার দেখলে ভোলা যায় না।

আরও পড়ুন- শীত পড়তেই আমলকি খাচ্ছেন, জানেন কীভাবে খেলে সবচেয়ে বেশি উপকার পাবেন?

মধ্যমগ্রাম কালীবাড়ির সবচেয়ে বড় শক্তি হল ভক্তদের বিশ্বাস। এখানে আসা বহু মানুষের অভিজ্ঞতা একথাই বলে যে, মন থেকে মন্দিরে এসে প্রার্থনা করলে দেবী কালী মনোবাঞ্ছা পূরণ করেন। বহু বছরের এই বিশ্বাসই মন্দিরটিকে আজ ধীরে ধীরে কলকাতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আধ্যাত্মিক কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। যাঁরা প্রথমবার আসতে চান, তাঁদের জন্য পরামর্শ হল—মন্দির প্রাঙ্গণে ভিড় সাধারণত সন্ধ্যা ও শনি, মঙ্গলবার এবং অমাবস্যার পূজার দিনে বেশি হয়। তাই সম্ভব হলে সকালের দিকে এলে শান্তভাবে দেবীদর্শন করা যায়। মন্দিরের বাইরে ফুল, প্রদীপ, প্রসাদ—সবই পাওয়া যায়, তাই আলাদা করে কিছু আনার দরকার নেই। 

Temple Madhyamgram Kalibari