/indian-express-bangla/media/media_files/2025/12/09/martin-parr-death-1-2025-12-09-23-09-48.jpg)
Martin Parr: মার্টিন পার।
/indian-express-bangla/media/media_files/2025/12/09/martin-parr-death-2-2025-12-09-23-10-03.jpg)
প্রয়াত আন্তর্জাতিক ফটোগ্রাফার
Martin Parr Death: বিখ্যাত ব্রিটিশ ডকুমেন্টারি ফটোগ্রাফার মার্টিন পার আর নেই। ২০২৫ সালের ৬ ডিসেম্বর ব্রিস্টলে তাঁর বাসভবনে ৭৩ বছর বয়সে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। রঙ, মুহূর্ত, হাস্যরস এবং সমকালীন জীবনের অদ্ভুত বৈপরীত্য তাঁর ক্যামেরায় যে ভাবে ধরা পড়েছে, তা আধুনিক ফটোগ্রাফির ইতিহাসে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন এনে দিয়েছে। তাঁর মৃত্যুতে ফটোগ্রাফির জগতে গভীর শূন্যতা সৃষ্টি হলেও তাঁর তোলা অসংখ্য ছবি, প্রকাশিত বই, প্রদর্শনী এবং প্রতিষ্ঠিত ফাউন্ডেশন ভবিষ্যতেও তাঁর কাজকে জীবন্ত রাখবে।
/indian-express-bangla/media/media_files/2025/12/09/martin-parr-death-3-2025-12-09-23-10-38.jpg)
সারেতে জন্ম
১৯৫২ সালে ইংল্যান্ডের সারে অঞ্চলে জন্মগ্রহণ করেন মার্টিন পার। ছোটবেলাতেই ছবি তোলার প্রতি তাঁর গভীর আগ্রহ তৈরি হয়। তাঁর দাদু ছিলেন একজন অপেশাদার ফটোগ্রাফার। সেই সূত্রেই পার ক্যামেরা হাতে নিয়ে জীবনের ছোট ছোট দৃশ্যগুলো ধরে রাখার আনন্দ নিয়েছিলেন। পরবর্তীতে ম্যানচেস্টার পলিটেকনিকে ফটোগ্রাফি নিয়ে পড়াশোনা করার সময় তিনি আরও গভীরভাবে সমাজ পর্যবেক্ষণ, মানুষের আচরণ এবং দৈনন্দিন জীবনের অসংখ্য অনুচ্চারিত মুহূর্ত নিয়ে কাজ শুরু করেন। উত্তর ইংল্যান্ড ও আয়ারল্যান্ডের গ্রামীণ মানুষ, তাঁদের কাজকর্ম, ধর্মীয় আচার এবং সাধারণ জীবনযাপন তাঁর প্রথমদিকের ছবিগুলিকে সমৃদ্ধ করেছে।
/indian-express-bangla/media/media_files/2025/12/09/martin-parr-death-4-2025-12-09-23-11-07.jpg)
ফটোগ্রাফি কেরিয়ার
তাঁর কেরিয়ারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং আলোচিত কাজ ছিল নিউ ব্রাইটন–এ ছুটির দিনে ছুটি কাটাতে আসা সাধারণ মানুষের জীবনকে কেন্দ্র করে তৈরি করা ছবি সিরিজ। এই সিরিজ প্রকাশিত হয়েছিল, 'দ্য লাস্ট রিসর্ট' (The Last Resort) নামে। তখনকার সময়ে ডকুমেন্টারি ফটোগ্রাফিতে প্রধান ধারা ছিল সাদা-কালো ছবি। কিন্তু পার বেছে নিয়েছিলেন উজ্জ্বল রং, তীব্র আলো, এবং মানুষের একেবারে স্বাভাবিক, কখনও কখনও অস্বস্তিকর বাস্তবতা তুলে ধরার এক নতুন ভাষা। অনেক সমালোচক প্রথমে তাঁর কাজকে 'খুব বেশি বাস্তব' বা 'অতিরিক্ত প্রখর' বলে মন্তব্য করলেও পরে সবাই মেনে নেন যে, এই কাজ সমকালীন ব্রিটিশ সমাজ বোঝার অন্যতম নির্ভরযোগ্য দলিল।
/indian-express-bangla/media/media_files/2025/12/09/martin-parr-death-5-2025-12-09-23-11-46.jpg)
ম্যাগনাম ফটোস
১৯৯৪ সালে মার্টিন পার যোগ দেন বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী ফটোগ্রাফি এজেন্সি ম্যাগনাম ফটোস (Magnum Photos)–এ। এই সিদ্ধান্ত নিয়ে শুরুতে অনেক বিতর্ক হয়। কারণ, পারের রঙিন ছবির তীব্রতা এবং তীক্ষ্ণ বাস্তববোধ অনেক পুরনো ধাঁচের ডকুমেন্টারি ফটোগ্রাফারদের কাছে গ্রহণযোগ্য ছিল না। তবুও তাঁর অসাধারণ কাজ ও শক্তিশালী ভিশন তাঁকে ম্যাগনাম ফটোসের নেতৃত্বের আসনে পৌঁছে দেয়। তিনি এজেন্সির সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন এবং বিশ্বব্যাপী ফটোগ্রাফি ও ভিজ্যুয়াল গল্প বলার ধারা গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
/indian-express-bangla/media/media_files/2025/12/09/martin-parr-death-6-2025-12-09-23-12-37.jpg)
স্মল ওয়ার্ল্ড
ব্রিটিশ সমাজের বাইরে তিনি বিশ্বের নানা দেশে ভ্রমণ করে মানুষের অভ্যাস, পর্যটন, ভোগবাদ, এবং আধুনিক জীবনধারার অদ্ভুত বৈশিষ্ট্য নিয়ে বহু গুরুত্বপূর্ণ সিরিজ তৈরি করেছেন। তাঁর 'স্মল ওয়ার্ল্ড' (Small World) সিরিজে গণ-পর্যটনের ব্যস্ততা, ভিড়, রঙিন বিশৃঙ্খলা এবং মানুষের সীমাহীন প্রত্যাশা এক অনন্য ভঙ্গিতে ধরা পড়েছে। অন্যদিকে 'দ্য কস্ট অফ লিভিং' (The Cost of Living) সিরিজে মধ্যবিত্ত জীবনের চাপ, কৌতুক এবং নিঃশব্দ ক্লান্তি তুলে ধরেছেন। তাঁর ছবির বিশেষত্ব হল—তিনি কখনও মানুষকে বিচার করেননি। বরং আমাদের নিজেদের জীবনের প্রতিফলনই তিনি তুলে ধরেছেন, যা দেখে আমরা নিজেরাই বুঝতে পারি আমাদের আচরণ কতটা অদ্ভুত বা কখনও হাস্যকর।
/indian-express-bangla/media/media_files/2025/12/09/martin-parr-death-7-2025-12-09-23-14-59.jpg)
মার্টিন পার ফাউন্ডেশন
২০১৭ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন 'মার্টিন পার ফাউন্ডেশন' (Martin Parr Foundation)। এই ফাউন্ডেশন তাঁর তোলা ছবি, আর্কাইভ, নেগেটিভ এবং বই সংরক্ষণ করে, পাশাপাশি নতুন ফটোগ্রাফারদের সুযোগ ও পরামর্শ দেয়। ভবিষ্যতেও এই ফাউন্ডেশন তাঁর কাজকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিতে এবং নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
/indian-express-bangla/media/media_files/2025/12/09/martin-parr-death-8-2025-12-09-23-15-30.jpg)
কাজের মূল দর্শন
মার্টিন পার একবার বলেছিলেন, 'গুরুত্বপূর্ণ ছবি তুলি, কিন্তু সেগুলো দেখতে সহজ এবং মজার।' এই কথাটি তাঁর কাজের মূল দর্শন। তাঁর ছবি কখনও নাটকীয় নয়, আবার সাধারণও নয়—সেগুলো আমাদের জীবনকে নতুন আয়নায় দেখার একটি শক্তিশালী মাধ্যম। তাঁর মৃত্যু ফটোগ্রাফি বিশ্বের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। তবে তাঁর তোলা প্রতিটি ছবি, প্রতিটি ফটোবুক এবং প্রতিটি প্রদর্শনী তাঁর প্রভাবকে সময়ের গণ্ডি পেরিয়ে থাকায় আগামিদিনেও এগিয়ে রাখবে।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us