/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/10/mehndi-side-effects-2026-01-10-15-30-48.jpg)
Mehndi Side Effects: মেহেন্দির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে?
Mehndi Side Effects: মেহেন্দি ভারতীয় সংস্কৃতির সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে থাকা একটি সৌন্দর্যচর্চার উপাদান। বিয়ে, উৎসব কিংবা বিশেষ অনুষ্ঠানে হাত এবং পায়ে মেহেন্দি লাগানোকে শুভ বলে মনে করা হয়। বহু মানুষই বিশ্বাস করেন যে মেহেন্দি শুধুমাত্র সাজসজ্জার অংশ নয়, এর স্বাস্থ্যগত উপকারও রয়েছে।
খাঁটি মেহেদি শরীরের অতিরিক্ত তাপ কমাতে সাহায্য করে এবং ত্বক ও চুলের জন্যও উপকারী। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে অনেকেই মেহেন্দি লাগানোর পর জ্বালা, চুলকানি, লালভাব বা ফুসকুড়ির সমস্যায় ভুগেছেন। চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, মেহেন্দি লাগানোর পর হালকা চুলকানি কিছু ক্ষেত্রে স্বাভাবিক হতে পারে, বিশেষ করে সংবেদনশীল ত্বকের মানুষের ক্ষেত্রে। তবে যদি জ্বালাপোড়া তীব্র হয়, ত্বক লাল হয়ে যায়, ফোসকা পড়ে বা জ্বালা দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে সেটিকে কখনই হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। দেরাদুনের কৈলাস হাসপাতালের কনসালট্যান্ট চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. পুনম সাইনির মতে, 'এই ধরনের প্রতিক্রিয়া সাধারণত অ্যালার্জিক কন্টাক্ট ডার্মাটাইটিসের ইঙ্গিত দেয়।'
আরও পড়ুন- ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য নারকেলের জল অমৃত নাকি বিষ? ফের পানের আগে এখানে জানুন
ডা. সাইনি জানিয়েছেন, বর্তমানে বাজারে পাওয়া অনেক মেহেন্দিই প্রাকৃতিক নয়। দ্রুত রং বানানোর জন্য এতে বিভিন্ন ক্ষতিকর রাসায়নিক মেশানো হয়। এই রাসায়নিকগুলির মধ্যে সবচেয়ে বিপজ্জনক হল প্যারাফেনিলিন ডায়ামিন (PPD)। এটি একটি শক্তিশালী কয়লা-আলকাতরা দিয়ে তৈরি রঞ্জক, যা ত্বকে মারাত্মক অ্যালার্জি তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে কালো মেহেন্দিতে এই উপাদানটির উপস্থিতি বেশি থাকে।
আরও পড়ুন- শীতকালে রান্নাঘরের এই জিনিসটি চায়ে মিশলেই বদলে যাবে শরীর, জানলে চমকে যাবেন!
শুধু পিপিডিই নয়, কালো মেহেন্দিতে কেরোসিন, পেট্রল, বেনজিনের মতো ক্ষতিকর দ্রব্য এবং সীসা, ক্যাডমিয়াম, নিকেল, তামা এবং অ্যালুমিনিয়ামের মতো ভারী ধাতুও থাকতে পারে। এই সব উপাদান ত্বকের গভীর স্তরের ক্ষতি করতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদে ত্বকের স্বাভাবিক গঠন নষ্ট করে দিতে পারে। মেহেন্দি লাগানোর পর যদি হঠাৎ করে ত্বক জ্বালা করতে শুরু করে, তাহলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। চিকিৎসকদের মতে, প্রথমেই ঠান্ডা জল এবং হালকা সাবান দিয়ে মেহেন্দি ধুয়ে ফেলতে হবে। এরপর ত্বককে আর্দ্র রাখতে হালকা ময়েশ্চারাইজার বা ইমোলিয়েন্ট ব্যবহার করা যেতে পারে। ঠান্ডা কম্প্রেস জ্বালা কমাতে সাহায্য করে। এই ব্যাপারে, দেরি না করে একজন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের সঙ্গে যোগাযোগ করা সবচেয়ে জরুরি।
আরও পড়ুন- জানুন শীতকালে ওজন বৃদ্ধি রোধ করার উপায়, স্থূলতা এড়াতে এই বিষয়গুলি মনে রাখবেন!
প্রাকৃতিক মেহেন্দি এবং রাসায়নিক মেহেন্দির পার্থক্য চেনা অত্যন্ত প্রয়োজন। খাঁটি মেহেন্দির পেস্ট সাধারণত সবুজ-বাদামি বা কাদার মত রঙের হয়। এটি ত্বকে লাগানোর পর প্রথমে কমলা আভা দেয়। ধীরে ধীরে ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে গাঢ় লালচে-বাদামি রং ধারণ করে। এর গন্ধ হয় ঘাস বা পাতা পিষে দেওয়ার মত। অন্যদিকে রাসায়নিক বা কালো মেহেন্দির রং শুরু থেকেই কালো হয় এবং এটি লাগানোর সঙ্গে সঙ্গেই ত্বকে গাঢ় রং বসে যায়।
আরও পড়ুন- মাত্র ২ চামচ কফি পাউডারে চুল করুন কালো, জানুন চুল পড়া বন্ধ করা ও চুল ঘন করার গোপন উপায়
এই ধরনের মেহেন্দির গন্ধ তীব্র এবং অনেক সময় ব্লিচ বা কেমিক্যালের মত হয়। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন, মেহেদির প্যাকেটের লেবেল ভালো করে পড়ে দেখা উচিত। আর এতে পিপিডি (PPD) বা অন্য ক্ষতিকর রাসায়নিকের উল্লেখ থাকলে, সেই পণ্য এড়িয়ে চলাই সবচেয়ে নিরাপদ।
রাসায়নিক মেশানো মেহেন্দি
সব মিলিয়ে বলা যায়, মেহেন্দি স্বাভাবিক অবস্থায় ত্বকের জন্য উপকারী হলেও রাসায়নিক মেশানো মেহেন্দি ভয়ানক ক্ষতি করতে পারে। সৌন্দর্যের জন্য সাময়িক লাভের আশায় ত্বকের স্থায়ী ক্ষতি ডেকে আনা বুদ্ধিমানের কাজ নয়। তাই মেহেন্দি ব্যবহারের আগে সচেতন হওয়া, খাঁটি পণ্য বেছে নেওয়া এবং কোনও অস্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us