/indian-express-bangla/media/media_files/2026/02/28/men-2026-02-28-15-29-01.jpg)
Men's Mental Health: এই ছবিটি AI প্রযুক্তি দ্বারা তৈরি।
'দ্য টাইমস'-এ প্রকাশিত সাম্প্রতিক একটি সমীক্ষা আধুনিক পুরুষতন্ত্রের এক গভীর ক্ষতের দিকে আঙুল তুলেছে। ১৮ থেকে ৪৫ বছর বয়সী প্রায় ২,০০০ পুরুষের ওপর চালানো এই সমীক্ষা বলছে, আজকের পুরুষরা 'চাপে' আছেন। নারীদের ক্রমবর্ধমান প্রত্যাশা, সম্পর্কের নতুন সমীকরণ এবং মানসিক ও আর্থিক স্থিতিশীলতার কঠিন মাপকাঠিতে দাঁড়িয়ে অনেক পুরুষই মনে করছেন, তাঁদের ওপর চাহিদার বোঝা এখন "অসহ্য"।
কিন্তু প্রশ্ন উঠছে অন্য জায়গায়: এই সংকট কি সত্যিই বাহ্যিক চাহিদার আধিক্য, নাকি দীর্ঘদিনের লালিত অভ্যাসের পরিবর্তনের অক্ষমতা?
পারফরম্যান্স আছে, প্রাণ নেই
জন্মলগ্ন থেকেই পুরুষদের শেখানো হয় 'ইউটিলিটি' বা উপযোগিতার পাঠ। তাঁদের শেখানো হয় সমস্যার সমাধান করতে, অর্থ জোগান দিতে এবং আবেগ বিসর্জন দিয়ে শক্ত থাকতে। বিশেষ করে ভারতীয় সমাজব্যবস্থায় ছেলেদের ছোটবেলা থেকেই ভীষণ যত্ন বা প্রশ্রয় দেওয়া হলেও, 'ইমোশনাল অ্যাকাউন্টেবিলিটি' বা মানসিক দায়বদ্ধতার পাঠ দেওয়া হয় না।
আরও পড়ুন- Rani Mukerji: 'মাছ ভাজা ছাড়া ভাত চলে না!' ডায়েট নিয়ে অকপট রানি মুখোপাধ্যায়, কী বলছেন পুষ্টিবিদরা?
ফলে পরিণত বয়সে যখন কোনো সম্পর্ক তাঁদের কাছ থেকে সহমর্মিতা, দুর্বলতা স্বীকার বা গভীর আলাপচারিতা দাবি করে, তখন তাঁরা সেটাকে 'চাপ' হিসেবে দেখেন। আসলে সেটি চাপ নয়, বরং সম্পূর্ণ এক অজানা এবং অপরিচিত দাবি যা মেটানোর সরঞ্জাম তাঁদের ঝুলিতে নেই।
পিতৃতন্ত্রের দ্বিমুখী ধার
পিতৃতন্ত্র কেবল পুরুষকে সুবিধাই দেয়নি, তাকে একটি সংকীর্ণ খাঁচায় বন্দিও করেছে। "প্রোভাইডার" বা জোগানদারের সেই পুরোনো ছাঁচ এখন ভাঙছে। আজকের নারীরা আর্থিক ও মানসিকভাবে অনেক বেশি স্বাবলম্বী। তাঁরা এখন এমন সঙ্গী চান না যিনি কেবল নিয়ন্ত্রণ করবেন, বরং এমন একজনকে চান যিনি পাশে দাঁড়াবেন।
আরও পড়ুন-Sleep Tips: ভালো ঘুমের সিক্রেট কি ফল? সোহা আলি খানের 'বেডটাইম রুটিন' নিয়ে কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা?
সমীক্ষায় দেখা গেছে, ভারতের শহুরে পুরুষদের একটি বড় অংশ একাকীত্বে ভুগছেন। কিন্তু সেই কষ্ট স্বীকার করার বদলে তাঁরা বেছে নিচ্ছেন নীরবতা অথবা সম্পর্ক থেকে দূরত্ব। যখন কোনো নারী সঙ্গীর তাঁকে 'প্রয়োজন' পড়ে না, তখন সেই পুরুষ নিজেকে অপ্রয়োজনীয় বা 'রিডানড্যান্ট' মনে করতে শুরু করেন। এই পরিচিতির সংকটই অনেক সময় প্রকাশ পায় বিরক্তি বা বিমুখতা হিসেবে।
দায়বদ্ধতা বনাম অজুহাত
নিবন্ধটি একটি কঠোর সত্যের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয়, অপরিচিতি কোনো আচরণের কারণ হতে পারে, কিন্তু তা চিরস্থায়ী অজুহাত হতে পারে না। সম্পর্কের আধুনিক ব্যাকরণ এখন আর কেবল 'রোল' বা ভূমিকার ওপর টিকে নেই; তা টিকে আছে মানসিক অংশগ্রহণের ওপর। আর এই নতুন ব্যাকরণ শিখতে গেলে পুরনো অনেক কিছু ভুলতে (Unlearn) হবে। পুরুষত্বের যে সংস্করণ নিজেকে বদলাতে রাজি নয়, আজকের ভালোবাসা আর তাকে পুরস্কৃত করছে না।
আরও পড়ুন-এক নয়, একসঙ্গে ৫ প্রেমিকা! বিদেশের মাটিতে প্রেমিকের ফোনে মেসেজ দেখেই পায়ের তলা থেকে মাটি সরল শানায়ার
সমীক্ষার ফল যদি সঠিক হয়, তবে পুরুষরা সত্যিই বিপদে আছেন। কিন্তু সেই বিপদ থেকে উদ্ধারের পথ নারীদের প্রত্যাশা কমানো নয়, বরং পুরুষদের নিজস্ব বিবর্তন।
সঙ্গীর স্বাধীনতাকে নিজের অস্তিত্বের সংকট না ভেবে, তাকে নতুনভাবে চেনার সুযোগ হিসেবে দেখা। দুর্বলতা বা সেনসিটিভিটিকে দুর্বলতা না ভেবে, সাহসের পরিচয় হিসেবে গ্রহণ করা। ভালোবাসা কঠিন হয়নি, বরং তা এখন অনেক বেশি সচেতনতা দাবি করছে। সেই দাবি মেটানোর দায়িত্ব এখন পুরুষদেরই।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us