/indian-express-bangla/media/media_files/2025/11/27/migratory-birds-2-2025-11-27-13-24-41.jpg)
Migratory Birds: পরিযায়ী পাখি।
/indian-express-bangla/media/media_files/2025/11/27/greater-flamingo-2-2025-11-27-13-25-30.jpg)
পরিযায়ী পাখি
Migratory Birds in India: প্রতিবছর শীত নামতেই ভারত জেগে ওঠে এক বিশেষ সুরে—পরিযায়ী পাখিদের ডানায় ভর করে আসে নতুন প্রাণ, নতুন রং, নতুন উন্মাদনা। পৃথিবীর নানা প্রান্তে যখন তাপমাত্রা প্রচণ্ড কমে যায় এবং হ্রদ-নদী বরফে ঢেকে যায়, তখন উষ্ণতার খোঁজে লক্ষ লক্ষ পাখি ভারত উপমহাদেশে আসে আশ্রয় নিতে। এই সময় দেশের জলাভূমি, উপকূল, নদীকূল, তৃণভূমি আর অরণ্য যেন নতুন করে সাজিয়ে তোলে নিজেদের। শীতের রোদ, নরম বাতাস আর বিস্তীর্ণ জলভূমির ওপরে পাখিদের ভেসে বেড়ানো দৃশ্য প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে এক অনন্য উপহার। যাঁরা পাখি দেখতে ভালোবাসেন, তাঁদের জন্য শীতকালই সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ সময়। কারণ এই সময় এমন সব প্রজাতি দেখা যায়, যা বছরের অন্য সময়ে খুবই বিরল।
/indian-express-bangla/media/media_files/2025/11/27/bar-headed-goose-2025-11-27-13-26-15.jpg)
বার-হেডেড গুজ।
ভারতে শীতের সময়ে যে পাখিটির জন্য সবচেয়ে বেশি অপেক্ষা থাকে, তা হল বার-হেডেড গুজ। এটিকে পৃথিবীর অন্যতম পরিচিত পরিযায়ী পাখি বলা হয়। এটি অবিশ্বাস্য উচ্চতায়—কখনও কখনও ২৭,০০০ ফুটেরও বেশি—হিমালয়ের ওপর দিয়ে উড়ে আসে। বরফশীতল বাতাস আর কম অক্সিজেনের পরিবেশ পেরিয়ে যখন এরা ভারতের হ্রদ ও জলাভূমিতে নামে, তখন সেই দৃশ্য সত্যিই বিস্ময়কর। রাজস্থানের কেওলাদেও, হিমাচলের পং ড্যাম লেক, ওডিশার চিল্কা—এদের প্রধান গন্তব্য। ধবধবে সাদা মাথা, কালো বার-স্ট্রাইপ আর ভরাট ডাক—সব মিলিয়ে এরা শীতের এক বিশেষ আকর্ষণ।
/indian-express-bangla/media/media_files/2025/11/27/amur-falcon-2025-11-27-13-27-08.jpg)
আমুর ফ্যালকন
পরিযায়ী পাখিদের তালিকায় আরেক নাম হল আমুর ফ্যালকন। পৃথিবীর অন্যতম দীর্ঘপথ পাড়ি দেওয়া এই ছোট র্যাপ্টরটি পূর্ব রাশিয়া ও চিন থেকে উড়ে দক্ষিণ আফ্রিকার পথে আসে। সেই পথে ভারতের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে নাগাল্যান্ডে। সেখানে প্রতিবছর কয়েক লক্ষ আমুর ফ্যালকন আকাশ ভরে উড়ে বেড়ায়। নাগাল্যান্ডের স্থানীয় মানুষের প্রচেষ্টায় আজ এই প্রজাতি আবার ব্যাপক সংখ্যায় ভারতে ফিরে এসেছে। আকাশজুড়ে হাজার হাজার আমুর ফ্যালকন একযোগে উড়ে চলা—এই দৃশ্য শুধু দৃষ্টিনন্দন নয়, প্রকৃতির এক মহোৎসব।
/indian-express-bangla/media/media_files/2025/11/27/greater-flamingo-1-2025-11-27-13-33-29.jpg)
গ্রেটার ফ্লেমিঙ্গো
যে পাখিটি মাটি থেকে আকাশ পর্যন্ত গোলাপি রঙের জোয়ার তোলে, সে হল গ্রেটার ফ্লেমিঙ্গো। ভারতের উপকূলীয় অঞ্চলে এরা দলে দলে আসে শীতের সময়। মুম্বইয়ের থানে ক্রিক অঞ্চল এদের জন্য বিশেষ পরিচিত। সেখানে পুরো মোহনা একসময় গোলাপি হয়ে ওঠে। গুজরাতের কচ্ছ, তামিলনাড়ু ও অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলেও কয়েক হাজার গ্রেটার ফ্লেমিঙ্গোর দেখা মেলে। কাদায় থাকা ক্ষুদ্র প্রাণী আর শৈবাল খেয়ে এদের পালকে ফুটে ওঠে গোলাপি আভা। পাশাপাশি, এদের ছন্দময় দলবদ্ধ চলাফেরা এবং লম্বা সরু পা—সব মিলিয়ে প্রকৃতি ফটোগ্রাফারদের কাছে যেন জ্যাকপট।
/indian-express-bangla/media/media_files/2025/11/27/northern-pintails-2025-11-27-13-34-06.jpg)
নর্দান পিনটেইল
প্রতিটি শীতে যে হাঁসটি প্রায় সব জলাভূমিতেই চোখে পড়ে, সেটি হল নর্দান পিনটেইল। এর লম্বা সূচালো লেজ ও মসৃণ বাদামি-সাদা ডানা সহজেই চেনা যায়। ইউরোপ, উত্তর এশিয়া ও সাইবেরিয়া থেকে এরা উড়ে আসে ভারতের উষ্ণ জলাশয়ে। ভরতপুর, হরিকে, দীপোর বিল, সুরজপুরে—এদের নিয়মিত দেখা মেলে। শান্ত স্বভাব, বিভিন্ন প্রজাতির হাঁসদের সঙ্গে একসঙ্গে চলাফেরা, আর জলে খাবার খোঁজার শিল্প—সবই একে নবীন বার্ডওয়াচারদের কাছে আদর্শ প্রজাতিতে পরিণত করেছে।
/indian-express-bangla/media/media_files/2025/11/27/rosy-starling-2025-11-27-13-34-45.jpg)
রোজি স্টারলিং
যে পাখিটি আকাশ, মাঠ, গাছ—সবকিছু মিলিয়ে গোলাপি-কালো ঢেউ তোলে, সে হল রোজি স্টারলিং। অন্য অনেক পরিযায়ী পাখির মত একা নয়, এরা বড় দল বেঁধে আসে। ভারতের মহারাষ্ট্র, গুজরাত, রাজস্থান ও কর্ণাটকে এদের বড় বড় ঝাঁক দেখা যায়। কখনও দেখা যায় হাজার হাজার স্টারলিং একসঙ্গে মাটিতে নেমে ফল খাচ্ছে—এমন দৃশ্য একদিকে বিস্ময়কর, অন্যদিকে জীবন্ত প্রকৃতির সৌন্দর্যকে আরও উজ্জ্বল করে তোলে।
/indian-express-bangla/media/media_files/2025/11/27/siberian-rubythroat-2025-11-27-13-35-15.jpg)
সাইবেরিয়ান রুবিথ্রোট
যাঁরা অরণ্যের নির্জনতায় ছোট, চঞ্চল আর লাজুক পাখি খোঁজেন, তাঁদের জন্য শীতের বিশেষ উপহার হল সাইবেরিয়ান রুবিথ্রোট। সাইবেরিয়া থেকে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে এরা উত্তর ও পূর্ব ভারতে আসে। পুরুষ পাখির গলায় উজ্জ্বল রুবির মতো লাল দাগ রয়েছে। যা একে আলাদা করে তোলে। ঘন ঝোপঝাড়ে লুকিয়ে থাকার স্বভাবের জন্য এদের খুঁজে পাওয়া রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা। উত্তরাখণ্ড, পশ্চিমবঙ্গ, উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং হিমালয়ের পাদদেশে অনেক সময়ে এদের দেখা পাওয়া যায়।
/indian-express-bangla/media/media_files/2025/11/27/migratory-birds-1-2025-11-27-13-36-44.jpg)
শীতের পাখি
শীতের এই ছয় পরিযায়ী পাখি শুধু প্রকৃতিকে নয়, মানবমনকেও সমৃদ্ধ করে তোলে। এদের উপস্থিতি আমাদের জলাভূমি এবং বনাঞ্চলের স্বাস্থ্য সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেয়। পাখিদের এই বার্ষিক সফর আমাদের শেখায় যে প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের বন্ধন কত গভীর। তাই শীতের এই সোনালি সময়ে যদি কোথাও নদী, হ্রদ বা অরণ্যের পাশে থাকার, দেখার সুযোগ হয়, চোখ খোলা রাখুন—কোনও এক ডাল থেকে বা জলের ওপরে ভেসে থাকা ডানার শব্দে হয়তো দেখা হয়ে যাবে এক নতুন অতিথির সঙ্গে।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us