English Channel Swimmer: জন্মদিনে কিংবদন্তি মিহির সেনকে স্মরণ, জানুন তাঁর জীবনের অজানা কথা

Mihir Sen: ১৬ নভেম্বর কিংবদন্তি বাঙালি সাঁতারু মিহির সেনের জন্মদিন। প্রথম ভারতীয় হিসেবে ১৯৫৮ সালে ইংলিশ চ্যানেল অতিক্রম করে তিনি বিশ্বখ্যাতি অর্জন করেন। জানুন তাঁর জীবনকাহিনি।

Mihir Sen: ১৬ নভেম্বর কিংবদন্তি বাঙালি সাঁতারু মিহির সেনের জন্মদিন। প্রথম ভারতীয় হিসেবে ১৯৫৮ সালে ইংলিশ চ্যানেল অতিক্রম করে তিনি বিশ্বখ্যাতি অর্জন করেন। জানুন তাঁর জীবনকাহিনি।

author-image
Chinmoy Bhattacharjee
New Update
Mihir Sen: মিহির সেন।

Mihir Sen: মিহির সেন।

English Channel Swimmer: ভারতের সাঁতারের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় নাম হলেন মিহির সেন। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন এই বাঙালি সাঁতারু প্রথম ভারতীয় হিসেবে ১৯৫৮ সালে ইংলিশ চ্যানেল অতিক্রম করে বিশ্বজোড়া পরিচিতি লাভ করেন। দূরগামী সাঁতারে তার অসাধারণ দক্ষতার জন্য ১৯৬৯ সালে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস তাঁকে 'বিশ্বের শ্রেষ্ঠ লং-ডিস্ট্যান্স সাঁতারু' হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিল।

Advertisment

মিহির সেন পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়ায় ১৯৩০ সালের ১৬ নভেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা ছিলেন ডাক্তার রমেশচন্দ্র সেন, মায়ের নাম ছিল লীলাবতী সেন। মধ্যবিত্ত পরিবারের এই সন্তান খুব অল্প বয়সেই কটকে চলে যান লেখাপড়ার জন্য। তাঁর শিক্ষাজীবনে সবচেয়ে বড় প্রেরণা ছিলেন তাঁর মা। 

আরও পড়ুন- পরমাণু বোমা মারলেও এই ৭ আশ্চর্য প্রাণীর কিছু হবে না! কীর্তি শুনলে অবাক হয়ে যাবেন

Advertisment

উৎকল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি আইনে স্নাতক হন। উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে গিয়ে ব্যারিস্টারি পড়ার স্বপ্ন ছিলেন তাঁর, কিন্তু আর্থিক বাধা সামনে আসে। ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী বিজু পট্টনায়েক তাঁর প্রতিভা চিনে অর্থ সহায়তা করলে ১৯৫০ সালে মাত্র কয়েকটি টাকা ও তৃতীয় শ্রেণির টিকিট নিয়ে তিনি বিলেতে রওনা দেন।

আরও পড়ুন- ট্যাংরার চিনে-কালীর অদ্ভুত ইতিহাস, জাগ্রত দেবীর প্রতি অগাধ বিশ্বাস ভক্তদের

লন্ডনে সংগ্রামের জীবন

লন্ডনে পৌঁছে তীব্র আর্থিক সংকটের মুখোমুখি হন মিহির সেন। রেলওয়ে স্টেশনে কুলির কাজ করতেন। দিনে কঠোর পরিশ্রম, রাতে পড়াশোনা—এভাবেই চলছে তাঁর জীবন। ভারতীয় হাই কমিশনের সঙ্গে যোগাযোগের পর তিনি লিংকনস ইন-এ ব্যারিস্টারি পড়ার সুযোগ পান। ইন্ডিয়া হাউসে কাজ করতেন, আর রাতের সময় আইন পড়তেন। এই সময় একটি স্থানীয় পত্রিকায় আমেরিকান সাঁতারু ফ্লোরেন্স চ্যাডউইকের সাক্ষাৎকার পড়ে মিহির সেনের মনে জন্ম নেয় ইংলিশ চ্যানেল অতিক্রম করার স্বপ্ন। যদিও এর আগে তাঁর দীর্ঘ সাঁতারের অভিজ্ঞতা ছিল না।

আরও পড়ুন- সন্ধ্যায় বানিয়ে ফেলুন মুচমুচে চিজ পকোড়া, পরিবারের লোকজনের মুখে লেগে থাকবে!

প্রশিক্ষণ শুরু করার পর তিনি দ্রুতই ফ্রি স্টাইল সাঁতারে দক্ষতা অর্জন করেন। অনেক ব্যর্থতা ও চেষ্টা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত ১৯৫৮ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর প্রথম ভারতীয় হিসেবে ইংলিশ চ্যানেল অতিক্রম করেন। হয়েছিলেন বিশ্বের চতুর্থ দ্রুততম। এই সাফল্যের ফলে ভারত-সহ বিশ্বজুড়ে তাঁর নাম ছড়িয়ে পড়ে। ইন্ডিয়া হাউসে লর্ড ফ্রেইবার্গের হাত থেকে তিনি সম্মাননা গ্রহণ করেন। 

আরও পড়ুন- ভারতের এই ৫টি স্থাপত্যের বয়স ৫০০ বছরেরও বেশি, গিয়েছেন কখনও?

ইংল্যান্ডে সাফল্য পাওয়ার পর দেশে ফিরে তিনি কলকাতা হাইকোর্টে ফৌজদারি আইনজীবী হিসেবে কাজ শুরু করেন। পরবর্তীতে ব্যবসায়ও অসম্ভব সাফল্য লাভ করেন। তাঁর কোম্পানি সরকারি অনুমোদন পায় এবং দ্রুতই ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম রেশম রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান হয়ে ওঠে। ১৯৭৭ সালের নির্বাচনে তিনি নির্দল প্রার্থী হন।
 এতে তাঁর ব্যবসা সরকারের বিরোধিতার শিকার হয় এবং শ্রমিক ইউনিয়নের চাপে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ হয়ে যায়।

মিহির সেনের অসাধারণ কৃতিত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি পেয়েছেন— পদ্মশ্রী (১৯৫৯), পদ্মভূষণ (১৯৬৭), গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস (১৯৬৯), ব্লিটজ নেহেরু ট্রফি (১৯৬৭)। তিনি ছিলেন নিঃসন্দেহে ভারতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সাঁতারু। জীবনের শেষদিকে মিহির সেন অ্যালঝাইমার্স এবং পারকিনসন রোগে আক্রান্ত হন। দীর্ঘ অসুস্থতার পর ১৯৯৭ সালের ১১ জুন তিনি মারা যান।

swimmer English Channel