/indian-express-bangla/media/media_files/2025/11/22/miss-universe-2025-2025-11-22-17-19-47.jpg)
Miss Universe 2025: মিস ইউনিভার্স ২০২৫।
Miss Universe 2025: ফাতিমা বশ—২০২৫ সালের মিস ইউনিভার্স প্রতিযোগিতার ৭৪তম আসরের মুকুটজয়ী। মাত্র ছয় বছর বয়স থেকেই তাঁর জীবনে শুরু হয়েছিল নানা চ্যালেঞ্জের যাত্রা। ছোটবেলায় তাঁকে ডাইস্লেক্সিয়া, ADHD এবং অতিরিক্ত চঞ্চলতার সমস্যায় ভুগতে হয়েছে। এই অবস্থাগুলো সব শিশুর কাছেই খুবই কঠিন ব্যাপার। কারণ তা পড়াশোনা, স্মরণশক্তি, মনোযোগ এবং দৈনন্দিন কাজে বড় ধরনের সমস্যা তৈরি করে। কিন্তু এই কঠিন সময়ই ফাতিমাকে শেখায় কীভাবে নিজের দুর্বলতাকে শক্তিতে রূপান্তরিত করতে হয়।
মেক্সিকোর টাবাস্কো প্রদেশের ছোট্ট শহর ভিলাহারমোসায় জন্ম ফাতিমার। সাধারণ পরিবারের মেয়ে হলেও তাঁর স্বপ্ন ছিল বিশাল। ছোটবেলা থেকেই তিনি মানুষ, প্রাণী এবং প্রকৃতির প্রতি গভীর সহানুভূতি অনুভব করতেন। স্কুলজীবনে তাঁর ডাইস্লেক্সিয়ার কারণে পড়া ও লেখা খুব কঠিন ছিল। অনেক শব্দ তিনি উলটোভাবে পড়তেন, বাক্য মনে রাখতে পারতেন না, এমনকি সাধারণ নোটও বুঝতে সময় লাগত। অন্যদিকে ADHD তাঁকে মনোযোগ ধরে রাখতে দিত না। শিক্ষকরা অনেক সময়ই তাঁর ভুল বোঝেন, বন্ধুরাও তাঁর সঙ্গে তাল মেলাতে পারত না। এর ফলেই শুরু হয়েছিল বুলিং—যা কোনও শিশুর জন্যই মানসিকভাবে খুব কঠিন পরিস্থিতি।
নিজেই জানিয়েছেন অভিজ্ঞতার কথা
ফাতিমা এক সাক্ষাৎকারে বলেন—'আমি যদি বুলিংয়ের অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে না যেতাম, তাহলে আজ আমি যেমন মানুষ হয়েছি, তেমন হতে পারতাম না। আমি নিজের ওপর বিশ্বাস করতে শিখতাম না, অন্যের কষ্ট বোঝার ক্ষমতাও পেতাম না।' তাঁর কথায় স্পষ্ট, জীবনের প্রতিকূল সময় তাঁকে যে পরিমাণ শক্তি ও সহানুভূতি দিয়েছে, তা তাঁর সাফল্যের মূল ভিত্তি।
আরও পড়ুন- বাজার থেকে গাজর কিনতে ভুলবেন না, মিষ্টি নাকি তেতো বুঝবেন কীভাবে?
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিবারের ভালোবাসা, শিক্ষকদের বোঝাপড়া এবং চিকিৎসকদের পরামর্শে ফাতিমা ধীরে ধীরে তাঁর সমস্যাগুলো মোকাবিলা করতে শেখেন। ডাইস্লেক্সিয়া থাকা সত্ত্বেও তিনি পড়ার নতুন পদ্ধতি রপ্ত করেন। ADHD থাকা সত্ত্বেও নিজের মনোযোগ বাড়ানোর কৌশল শিখে নেন। তিনি বুঝতে পারেন, শেখার অসুবিধা মানেই ব্যর্থতা নয়—বরং ভিন্নভাবে শেখার আরেকটি রাস্তা।
আরও পড়ুন- মাঝে মধ্যে, বিশেষ অনুষ্ঠানে ১টা সিগারেট খান! জানেন আপনার কী হতে পারে?
বড় হয়ে তিনি মডেলিংয়ের দিকে ঝোঁকেন। মেকআপ, ফ্যাশন, প্রকৃতি এবং টেকসই লাইফস্টাইল নিয়ে তাঁর আগ্রহ তাঁকে নতুন পথ দেখাতে থাকে। মানুষের সঙ্গে কাজ করতে তিনি ভালোবাসতেন, মানুষের কষ্ট তিনি বুঝতেন—এই গুণগুলো তাঁকে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় আলাদা করে তোলে।
আরও পড়ুন- শনিবারে ৫ সহজ কাজেই নাকি ভাগ্য বদলায়, নামে টাকার ঢল! গোপন টোটকা শাস্ত্রেই!
২০২৫ সালের মিস ইউনিভার্স প্রতিযোগিতার মঞ্চে তিনি শুধু সৌন্দর্যের পরিচয় দেননি; দিয়েছেন মন ও মনের শক্তির প্রমাণও। ফাইনালে তিনি বলেন—'আমরা প্রত্যেকেই প্রকৃত নিজস্বতা নিয়ে জন্মাই। নিজের সত্যকে অনুসরণ কর। নিজের ভেতরের আলোকে গ্রহণ কর।' তাঁর এই বক্তব্য শুধু বিচারকদেরই নয়, সারা বিশ্বের মানুষের মন স্পর্শ করেছে।
আরও পড়ুন- হাতের কাছে যখন এই সহজ উপায়, কেন খরচা করে চুল কালো করবেন?
ফাতিমা এখন বিশ্বজুড়ে তরুণদের অনুপ্রেরণা। তিনি শেখান—শেখার অসুবিধা বা মানসিক চ্যালেঞ্জ কোনওদিনই কারও ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে পারে না। বরং সঠিক সময়ে সঠিক পরিচর্যা ও সমর্থন পেলে প্রতিটি শিশুই নিজের সত্যিকার সম্ভাবনাকে আবিষ্কার করতে পারে। ফাতিমার গল্প মনে করিয়ে দেয়—আমরা সবাই নিজের মত শক্তিশালী। যতই চ্যালেঞ্জ আসুক, প্রতিটি অভিজ্ঞতার মধ্যেই লুকিয়ে থাকে শেখার এবং বেড়ে ওঠার সুযোগ। আজ তিনি শুধু বিশ্বের সুন্দরী নন—তিনি সংগ্রাম থেকে উঠে আসা এক মানবিক শক্তির প্রতীক।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us