/indian-express-bangla/media/media_files/2025/12/07/morning-breathing-exercise-2025-12-07-09-04-09.jpg)
Morning Breathing Exercise: সকালে করুন এই ব্যায়াম।
Morning Breathing Exercise: সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর শরীর এবং মস্তিষ্ক ধীরে ধীরে সক্রিয় হতে শুরু করে। এই সময় আমরা কেউই খুব বেশি শক্তি বা সতেজতা অনুভব করি না, কারণ দীর্ঘ ঘুমের পরে শরীরের ভিতরে অক্সিজেন সরবরাহ তুলনামূলক কমে যায়। আধুনিক জীবনযাত্রা, দূষণ, স্ট্রেস এবং ইলেকট্রনিক ডিভাইসের অতিরিক্ত ব্যবহার আমাদের শ্বাসযন্ত্রকে দুর্বল করে দেয়। ফলে সারাদিন অনেকেই ক্লান্তি, মাথা ঘোরা, অবসাদ, মনোযোগের অভাব এবং শ্বাসকষ্টের মত সমস্যায় ভোগেন। কিন্তু প্রতিদিন মাত্র ১০ মিনিট অনুলোম বিলোম করলে এই সমস্যাগুলির বেশিরভাগটাই কমে যেতে পারে এবং শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে।
একটা ব্যায়ামেই কমবে ফুসফুসের সমস্যা
অনুলোম বিলোম এমন একটি প্রাণায়াম যা ফুসফুসকে গভীরভাবে খুলে দেয় এবং প্রতিটি কোষে বিশুদ্ধ অক্সিজেন পৌঁছে দেয়। যখন আমরা এক নাক দিয়ে শ্বাস নিই এবং অন্য নাক দিয়ে শ্বাস ছাড়ি, তখন ফুসফুসের ভেতরের শ্বাসনালিগুলি প্রসারিত হয়। এর ফলে শুধু অক্সিজেনের প্রবাহই বাড়ে না, বরং শরীরের ভেতরে জমে থাকা কার্বন ডাই অক্সাইড দ্রুত বের হয়ে যায়। নিয়মিত অনুলোম বিলোম শরীরকে নতুন শক্তি দেয়, রক্তকে বিশুদ্ধ করে এবং মস্তিষ্কে অক্সিজেন পৌঁছে মানসিক চাপ কমায়।
আরও পড়ুন- বিপদ ডাকছেন! কাল থেকে বরং ছেড়ে দিন নন-স্টিক প্যান, পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের
শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা কমে গেলে পেশীগুলি দুর্বল হয়ে পড়ে এবং ক্লান্তি দ্রুত এসে যায়। মন আনমনা হয়ে যায়, কাজের গতিও কমে যায়। আর অতিরিক্ত মানসিক চাপ এবং দূষিত পরিবেশে থাকার ফলে আমরা অনেক সময় অগভীরভাবে শ্বাস নিতে থাকি। এর ফলে শরীর পুরোপুরি অক্সিজেন পায় না। অনুলোম বিলোম করলে গভীর শ্বাস নেওয়ার অভ্যাস তৈরি হয়, ফুসফুসের ভলিউম বাড়ে এবং শরীর বেশি সময় ধরে সতেজ থাকে। নিয়মিত এই অনুশীলন স্নায়ুকে শান্ত করে, হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখে এবং ইমিউন সিস্টেমকে শক্তিশালী করে।
আরও পড়ুন- ট্যাটুতে মহাবিপদ! কালি থেকে বাড়ছে স্কিন ক্যানসারের চরম আশঙ্কা
অনুলোম বিলোম মস্তিষ্কে অক্সিজেন সরবরাহ বাড়িয়ে মানসিক ভারসাম্য ফিরিয়ে আনে। উদ্বেগ, টেনশন এবং বিরক্তিভাব দ্রুত কমে যায়। যাঁরা সারাদিন কম্পিউটার বা মোবাইল ব্যবহার করেন তাঁদের চোখ, মাথা এবং মন একইসঙ্গে বিশাল চাপের মধ্যে থাকে। এই শ্বাস-প্রশ্বাস ব্যায়াম সেই চাপকে কমিয়ে মনকে শান্ত করে। ফলে দিনের কাজের প্রতি আগ্রহ বাড়ে এবং মনোযোগ ধরে রাখা সহজ হয়। পাশাপাশি হরমোনজনিত অস্থিরতা কমাতে সাহায্য করে।
ফুসফুসের কার্যক্ষমতা বাড়ানো অনুলোম বিলোমের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক। যাঁদের শ্বাসকষ্ট, এলার্জি বা ধুলোবালিতে সমস্যা আছে তাঁরা প্রতিদিন ১০ মিনিট অনুলোম বিলোম করলে উন্নতি টের পাবেন। ফুসফুসের ভেতরের বাতাসের চলাচল বৃদ্ধি পায় এবং সর্দি-কাশি, কনজেশন (congestion), ইনফেকশন হওয়ার আশঙ্কা কমে। হৃদরোগীদের ক্ষেত্রেও এটি অত্যন্ত উপকারি। কারণ, গভীর শ্বাস-প্রশ্বাস রক্তসঞ্চালন উন্নত করে এবং হৃদপিণ্ডের ওপর চাপ কমিয়ে দেয়।
আরও পড়ুন- শরীরে এই লক্ষণগুলো দেখলে আজই হোন সাবধান! সতর্ক থেকে এড়ান বড় বিপদ
সকালে অনুলোম বিলোম করার সঠিক পদ্ধতি জানা খুবই জরুরি। শান্ত এবং পরিষ্কার একটি স্থানে বসে মেরুদণ্ড সোজা রাখতে হবে। প্রথমে ডান নাসারন্ধ্র বন্ধ রেখে বাম নাসারন্ধ্র দিয়ে ধীরে শ্বাস নিতে হবে। তারপর বাম নাসারন্ধ্র বন্ধ করে ডান নাসারন্ধ্র দিয়ে ধীরে শ্বাস ছাড়তে হবে। এরপর বিপরীত ক্রমে প্রক্রিয়াটি করতে হবে। শ্বাস নিতে হবে গভীরভাবে, কিন্তু কখনোই জোর করে নয়। ধীরে, নিয়ন্ত্রিত এবং মনোযোগ ধরে রেখে শ্বাস নেওয়াই এই ব্যায়ামের মূল কৌশল।
আধুনিক জিম, মূল্যবান সাপ্লিমেন্ট বা অক্সিজেন বাড়ানোর যন্ত্র ব্যবহার করার আগে প্রতিদিন মাত্র ১০ মিনিট অনুলোম বিলোম করলে যে উপকার পাওয়া যায়, তা অনেকেই কল্পনাও করতে পারেন না। এই ছোট্ট প্র্যাকটিস কয়েক দিনের মধ্যে আপনার শরীরের বদলে যাওয়া অনুভব করাতে শুরু করবে। শ্বাস দীর্ঘ হবে, মন শান্ত হবে এবং শরীরে এমন একটি সতেজ শক্তি তৈরি হবে যা সারাদিন আপনাকে কর্মক্ষম রাখবে। অনুলোম বিলোম শুধু একটি যোগ ব্যায়াম নয়—এটি শরীরের প্রতিটি কোষকে জীবন্ত করে তোলার একটি প্রাকৃতিক শক্তি।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us