/indian-express-bangla/media/media_files/2025/12/18/morning-workout-in-winter-2025-12-18-01-35-55.jpg)
Morning Workout in Winter: শীতের সকালে ওয়ার্কআউটে শরীর পড়তে পারে সমস্যায়।
Morning Workout in Winter: শীতকালে সকালে ঘুম থেকে উঠেই ব্যায়াম করার অভ্যাস অনেকেরই আছে। স্বাস্থ্য সচেতনতার দিক থেকে এটি প্রশংসনীয় হলেও বাস্তব হল, শীতের সকালে শরীর স্বাভাবিকভাবে ব্যায়ামের জন্য প্রস্তুত থাকে না। সঠিক প্রস্তুতি ছাড়া হঠাৎ এক্সারসাইজ শুরু করলে মাংসপেশিতে টান, জয়েন্টে ব্যথা এমনকী গুরুতর চোটের ঝুঁকিও বেড়ে যায়। এর পেছনে রয়েছে শরীরের স্বাভাবিক জৈবিক ছন্দ এবং শীতের প্রভাব।
রাতে ঘুমের সময় শরীর একটি গভীর বিশ্রাম ও মেরামতির পর্যায়ে যায়। এই সময় মাংসপেশি শিথিল থাকে, স্নায়ুতন্ত্র ধীর গতিতে কাজ করে এবং শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যায়। এটি শরীরের প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে দিনের ক্লান্তি কাটিয়ে শরীর নিজেকে সারিয়ে তোলে। ফলে সকালে ঘুম ভাঙার পর শরীর হঠাৎ করে ভারী কাজের জন্য তৈরি থাকে না।
সকালে উঠলে দেখা যায়, পেশি ও জয়েন্ট কিছুটা শক্ত, নড়াচড়ায় জড়তা রয়েছে। শীতকালে এই সমস্যা আরও বেশি হয়। ঠান্ডা আবহাওয়ায় রক্ত সঞ্চালন ধীর হয়ে যায়, বিশেষ করে হাত-পা ও পেশিতে। স্নায়ুর সংকেত পৌঁছতেও বেশ সময় লাগে। এর ফলে শরীরের প্রতিক্রিয়া ধীর হয় এবং পেশি প্রয়োজনীয়ভাবে প্রসারিত হতে পারে না। এই অবস্থায় হঠাৎ দৌড়ানো, লাফানো বা ভারী ব্যায়াম করলে চোট লাগার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়।
এই কারণেই সকালে ও বিশেষ করে শীতে ওয়ার্ম-আপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ওয়ার্ম-আপের মূল উদ্দেশ্য হল শরীরের তাপমাত্রা ধীরে ধীরে বাড়ানো। শরীর গরম হলে পেশিতে রক্ত প্রবাহ বাড়ে, অক্সিজেন পৌঁছায়, টেন্ডন ও লিগামেন্ট নমনীয় হয় এবং জয়েন্টে স্বাভাবিক লুব্রিকেশন সক্রিয় হয়। তখন শরীর ব্যায়ামের চাপ নিতে সক্ষম হয়।
শীতের সকালে ব্যায়াম
শীতে সকালে নিরাপদে ব্যায়াম করতে হলে কিছু সহজ অভ্যাস মেনে চলা দরকার। ব্যায়ামের আগে হালকা গরম জল দিয়ে স্নান করলে শরীরের ভেতরের তাপমাত্রা বাড়ে এবং পেশি শিথিল হয়। এটি শরীরকে বিশ্রামের অবস্থা থেকে সক্রিয় অবস্থায় নিয়ে আসতে সাহায্য করে। অনেকেই ব্যায়ামের আগে হালকা তেল দিয়ে শরীর ম্যাসাজ করেন। এতে রক্ত সঞ্চালন বাড়ে এবং ঠান্ডাজনিত শক্তভাব কমে।
আরও পড়ুন- হার্ট সার্জারির আগে হৃদরোগীদের অবশ্যই জানা উচিত এসব জরুরি বিষয়
ওয়ার্ম-আপের সময় হঠাৎ জোরালো মুভমেন্ট না করে ধীরে ধীরে শুরু করা সবচেয়ে নিরাপদ। প্রথমে ঘাড়, কাঁধ, কোমর ও হাঁটুর মতো ছোট জয়েন্টগুলো নড়াচড়া করানো উচিত। এরপর ধীরে ধীরে স্কোয়াট, লাঞ্জ বা হালকা মার্চিংয়ের মতো মুভমেন্ট যোগ করা যায়। এতে শরীরের ভেতরের প্রতিটি অংশ ধাপে ধাপে সক্রিয় হয়।
আরও পড়ুন- দূরে থাকুন, এসব খাবার বাড়াতে পারে আপনার মাইগ্রেনের ব্যথা!
শীতকালে খুব ঠান্ডা ঘরে ব্যায়াম করাও ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। যদি পরিবেশ খুব ঠান্ডা হয়, তাহলে শরীর যতই ওয়ার্ম-আপ করুক না কেন, পেশি আবার শক্ত হয়ে যেতে পারে। তাই সম্ভব হলে মাঝারি উষ্ণ বা বাতাসবিহীন জায়গায় ব্যায়াম করা ভালো।
আরও পড়ুন- এইডস কেন হয়? এই ৬ ভুল ধারণাই ডাকে ভয়ংকর বিপর্যয়!
এ সময় ব্যায়ামের তীব্রতা ধীরে বাড়ানো জরুরি। শ্বাস-প্রশ্বাস, হার্ট রেট ও শরীরের গরমভাব স্বাভাবিকভাবে বাড়তে দেওয়া উচিত। হঠাৎ খুব দ্রুত বা খুব ভারী ব্যায়াম করলে শরীর মানিয়ে নিতে পারে না। ব্যায়ামের সময় যদি কোথাও অস্বাভাবিক টান, জয়েন্টে ব্যথা বা নড়াচড়ায় অস্বস্তি অনুভূত হয়, তাহলে তা উপেক্ষা না করে গতি কমানো দরকার। ব্যথা মানে শরীরের সতর্ক সংকেত।
আরও পড়ুন- তরুণদের আকস্মিক মৃত্যু বেড়েছে, হৃদরোগই আসল কারণ নাকি কোভিডের টিকা, কী বলছে এইমস?
শীতের সকালে একটি সংক্ষিপ্ত কিন্তু কার্যকর ১৫ মিনিটের রুটিন শরীরকে নিরাপদে প্রস্তুত করতে পারে। প্রথমে হালকা জায়গায় হাঁটা বা স্পট জগিং করলে শরীর ধীরে গরম হয়। এরপর স্কোয়াট, লাঞ্জ বা গ্লুট ব্রিজের মতো ব্যায়াম রক্ত সঞ্চালন বাড়ায়। বড় করে হাত নড়িয়ে মার্চিং করলে শরীরের ওপরের অংশের জড়তা কমে। ধীরে ধীরে সূর্য নমস্কার ও হালকা স্ট্রেচিং শরীরের শক্তভাব দূর করে এবং শেষে কয়েক মিনিট গভীর শ্বাস-প্রশ্বাস শরীরকে শান্ত ও স্থিতিশীল করে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, শীতের সকালে ব্যায়াম করা খারাপ নয়, কিন্তু তা হতে হবে বুদ্ধিমানের মতো। শরীরকে সময় দিয়ে গরম করা, ধীরে শুরু করা এবং নিজের শরীরের সংকেত শোনা—এই তিনটি বিষয় মেনে চললে শীতকালেও সকালের ব্যায়াম হবে নিরাপদ, উপকারী ও দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যকর। উষ্ণতা শুধু শরীরের তাপমাত্রার নয়, এটি শরীরের প্রস্তুতির একটি অবস্থা।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us