Natural Hair Dye: মাত্র ২ চামচ কফি পাউডারে চুল করুন কালো, জানুন চুল পড়া বন্ধ করা ও চুল ঘন করার গোপন উপায়

Natural Hair Dye: মাত্র ২ চামচ কফি পাউডারে চুল করুন কালো, চুল পড়া কমান এবং খুশকি দূর করুন। কোনও কেমিক্যাল ছাড়াই ঘরোয়া হেয়ার ডাই তৈরির সহজ পদ্ধতি জানুন।

Natural Hair Dye: মাত্র ২ চামচ কফি পাউডারে চুল করুন কালো, চুল পড়া কমান এবং খুশকি দূর করুন। কোনও কেমিক্যাল ছাড়াই ঘরোয়া হেয়ার ডাই তৈরির সহজ পদ্ধতি জানুন।

author-image
Chinmoy Bhattacharjee
New Update
Natural Hair Dye: প্রায় বিনা খরচে চুল কালো করার উপায় জানুন।

Natural Hair Dye: প্রায় বিনা খরচে চুল কালো করার উপায় জানুন।

Natural Hair Dye: বর্তমান সময়ে অতিরিক্ত চুল পড়া একটি খুবই সাধারণ সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অল্প বয়সেই অনেকের চুলে পাক ধরে যাচ্ছে, আবার কারও চুল পাতলা হয়ে যাচ্ছে দ্রুত। বেশিরভাগ মানুষই এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে বাজারচলতি কেমিক্যালযুক্ত হেয়ার ডাই ব্যবহার করেন। কিন্তু এই ডাইগুলোর বিরাট পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া। যাতে মাথার ত্বকে জ্বালা, চুল আরও বেশি পড়ে যাওয়া, খুশকি বেড়ে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা যায়। তাই এখন অনেকেই ঝুঁকছেন ন্যাচারাল হেয়ার ডাই (Natural Hair Dye) বা প্রাকৃতিক হেয়ার কেয়ারের দিকে।

Advertisment

ঘরোয়া উপায়ে তৈরি এই ন্যাচারাল হেয়ার ডাই কেবল চুল কালো করতেই সাহায্য করে না, বরং চুলের গোড়া মজবুত করে, চুল পড়া কমায় এবং খুশকি দূর করতেও কার্যকর। সবচেয়ে বড় কথা, এতে কোনও ক্ষতিকর কেমিক্যাল নেই, ফলে দীর্ঘদিন ব্যবহার করলেও চুলের ক্ষতি হয় না।

ন্যাচারাল হেয়ার ডাই

এই ন্যাচারাল হেয়ার ডাই (Natural Hair Dye) তৈরিতে প্রধান উপাদান হল কফি পাউডার। কফিতে থাকা প্রাকৃতিক পিগমেন্ট চুল ধীরে কালো করে দেয়। পাশাপাশি কফি মাথার ত্বকে (স্কাল্পে) রক্তসঞ্চালন বাড়িয়ে চুলের বৃদ্ধি ত্বরান্বিত করে। এর সঙ্গে চা পাতা ব্যবহার করা হয়, যা চুলে গাঢ় রং করতে সাহায্য করে এবং চুলে স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা আনে।

এই হেয়ার ডাই তৈরির জন্য প্রথমে একটি পাত্রে প্রায় দেড় থেকে পৌনে দুই গ্লাস জল নিতে হবে। সেই জলে চা পাতা এবং কফি পাউডার দিয়ে ভালোভাবে ফুটিয়ে নিতে হবে। জল কমে গাঢ় হয়ে এলে সেটি নামিয়ে ঠান্ডা করে রাখতে হবে। এই গাঢ় চা-কফির মিশ্রণই চুল কালো করার মূল উপাদান হয়ে উঠবে।

আরও পড়ুন- বেরোনোর সময় হাঁচি হলে কি বিপদ নিশ্চিত? শুভ কাজ শুরুর আগে হাঁচি কি সত্যিই অশুভ, না কি সবটাই কুসংস্কার?

এরপর একটি মিক্সার জারে বিটের টুকরো, অ্যালোভেরা জেল এবং কয়েকটি পনিরকুল বা থানকুনি পাতা নিয়ে ভালো করে মিশিয়ে পেস্ট বানাতে হবে। বিট প্রাকৃতিক রং আনতে সাহায্য করে, অ্যালোভেরা মাথার ত্বককে ঠান্ডা রাখে এবং চুল পড়া কমায়, আর থানকুনি পাতা ডাই ব্যবহারের সময় ত্বকে কোনও জ্বালা বা ফোলাভাব হতে দেয় না।

আরও পড়ুন- শীতকালে হাত ও পায়ের আঙুল ফুলে যায় কেন? ব্যথা বা চুলকানি কমাতে জানুন ঘরোয়া প্রতিকার!

এরপর একটি লোহার কড়াইয়ে আমলকি পাউডার হালকা আঁচে ভেজে নিতে হবে। পাউডারের রং গাঢ় বাদামি হলে চুলা বন্ধ করতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে যেন পুড়ে না যায়। ঠান্ডা হলে এর সঙ্গে আগের তৈরি বিট-অ্যালোভেরা পেস্ট মিশিয়ে নিতে হবে। প্রয়োজন মত সেই গাঢ় চা-কফির জল যোগ করে ঘন পেস্ট তৈরি করতে হবে। অল্প আঁচে আবার কিছুক্ষণ গরম করলে পেস্টটি আরও গাঢ় কালো রং হবে।

আরও পড়ুন- ৫১ বছর বয়সেও ২৫-এর মতো পেশীবহুল শরীর, জানুন বলিউডের গ্রিক গডের ফিটনেস রহস্য

এই ন্যাচারাল হেয়ার ডাই ব্যবহার করার আগে শ্যাম্পু দিয়ে চুল পরিষ্কার করে নিতে হবে। পরিষ্কার ও শুকনো চুলে এই পেস্ট ভালোভাবে লাগাতে হবে। রচুল বেশি থাকলে সেই অংশে একটু বেশি করে ডাই লাগানো যেতে পারে। প্রায় একঘণ্টা রেখে হালকা গরম জল দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলতে হবে। ধোয়ার সময় শ্যাম্পু ব্যবহার না করাই ভালো। চাইলে বাকি থাকা চা-কফির জল দিয়ে ধুলে চুল আরও উজ্জ্বল হবে।

আরও পড়ুন- বলের মতো নরম এবং তুলতুলে রুটি বানাতে এই ৭টি কথা অবশ্যই মনে রাখুন!

নিয়মিত সপ্তাহে দুই থেকে তিনবার এই হেয়ার ডাই ব্যবহার করলে ধীরে ধীরে চুল কালো হতে শুরু করবে। পাশাপাশি চুল পড়া কমবে, চুল ঘন এবং মসৃণ হবে। খুশকির সমস্যাও অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে থাকবে। যেহেতু এটি সম্পূর্ণ কেমিক্যাল-মুক্ত, তাই যাঁদের হেয়ার ডাইতে অ্যালার্জি হয় তাঁরাও নিরাপদে ব্যবহার করতে পারেন।

তবে মনে রাখতে হবে, এটি কোনও ম্যাজিক নয়। প্রাকৃতিক উপাদান হওয়ায় ফল পেতে কিছুটা সময় লাগবে। ধৈর্য ধরে নিয়মিত ব্যবহার করলেই ভালো ফল পাওয়া সম্ভব। গুরুতর মাথার ত্বকের সমস্যা বা চুল পড়ার পেছনে কোনও শারীরিক কারণ থাকলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

natural Hair Dye