/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/13/nipah-virus-2026-01-13-12-55-39.jpg)
Nipah Virus Symptoms and Prevention: নিপা ভাইরাস প্রতিরোধে যেগুলো জানা জরুরি।
Nipah Virus Symptoms and Prevention: নিপা ভাইরাস (Nipah virus) বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম বিপজ্জনক সংক্রামক রোগগুলির একটি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এই ভাইরাসকে টপ-১০ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত প্যাথোজেনের তালিকায় রেখেছে। কারণ, এটি দ্রুত ছড়াতে পারে এবং মৃত্যুহার তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি। কোভিড সংক্রমণের চাপ সামলাতে সামলাতেই ভারতে নিপাহ ভাইরাস নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। মহারাষ্ট্রে বাদুড়ের শরীরে এই ভাইরাসের অ্যান্টিবডি ধরা পড়েছে।
নিপা ভাইরাস মূলত একটি জুনোটিক রোগ, অর্থাৎ যা প্রাণী থেকে মানুষের শরীরে ছড়ায়। সাধারণত ফলখেকো বাদুড় এই ভাইরাসের প্রধান বাহক হিসেবে পরিচিত। কখনও কখনও শূকরও এই ভাইরাস বহন করতে পারে এবং সেখান থেকে মানুষের মধ্যে সংক্রমণ ছড়াতে পারে। ভারতে অতীতে পশ্চিমবঙ্গ, অসম এবং কেরালায় নিপা ভাইরাসের সংক্রমণের ঘটনা ধরা পড়েছে, যার মধ্যে কেরালার প্রাদুর্ভাব ছিল সবচেয়ে ভয়ংকর।
আরও পড়ুন- ছদ্মবেশে বেলুড় মঠে ছিলেন স্বামী বিবেকানন্দের ছোটভাই ভূপেন্দ্রনাথ দত্ত
নিপা ভাইরাসের লক্ষণ
নিপা ভাইরাসের লক্ষণ শুরুতে খুব সাধারণ ভাইরাল জ্বরের মতই মনে হতে পারে। আক্রান্ত ব্যক্তির বমি বমি ভাব, বমি, সর্দি-কাশি, জ্বর ও শরীরে ব্যথা হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে শ্বাসকষ্ট, তীব্র দুর্বলতা এবং শরীরে জলাভাব দেখা যায়। পরিস্থিতি গুরুতর হলে মস্তিষ্কে সংক্রমণ বা এনসেফালাইটিস হতে পারে, যার ফলে খিঁচুনি, অচেতনতা এমনকী কোমায় চলে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। এই কারণেই নিপা ভাইরাসের উপসর্গ (Nipah virus symptoms) কখনও হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়।
আরও পড়ুন- ঘুম থেকে উঠেই এই একটি প্রাকৃতিক পানীয় পান করলে ত্বক হবে উজ্জ্বল, দাগছোপ ও নিস্তেজতা দূর হবে
বর্তমানে নিপা ভাইরাসের এমন কোনও নির্দিষ্ট ওষুধ বা টিকা নেই, যা এই রোগকে সম্পূর্ণভাবে সারিয়ে তুলতে পারে। চিকিৎসা মূলত সাপোর্টিভ কেয়ারের ওপর নির্ভরশীল। রোগীকে পর্যাপ্ত তরল দিতে হয় যাতে ডিহাইড্রেশন না হয়, অক্সিজেন থেরাপির প্রয়োজন হতে পারে এবং বমি বা অন্যান্য উপসর্গ কমানোর জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধ দেওয়া হয়। দ্রুত চিকিৎসা শুরু হলে মৃত্যুঝুঁকি কিছুটা হলেও কমানো সম্ভব হয়, তবে নিপা ভাইরাসের চিকিৎসা (Nipah virus treatment) এখনও চিকিৎসকদের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ।
আরও পড়ুন- শিশুদের ব্লাড প্রেসার কেন বাড়ছে, আটকাতে কী করবেন?
নিপা ভাইরাসের ক্ষেত্রে প্রতিরোধই সবচেয়ে বড় অস্ত্র। যেসব এলাকায় বাদুড়ের উপস্থিতি বেশি, সেখানে সতর্ক থাকা অত্যন্ত জরুরি। গাছে ঝুলে থাকা ফলই হোক বা কাটা ফল না ধুয়ে খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে, কারণ সেগুলিতে বাদুড়ের লালা বা মূত্র লেগে থাকতে পারে। বাদুড় বা অসুস্থ শূকরের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা অত্যন্ত প্রয়োজন। পাশাপাশি অন্যান্য ভাইরাল সংক্রমণের মতোই নিয়মিত হাত ধোয়া, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং অসুস্থ ব্যক্তির কাছাকাছি গেলে সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত।
আরও পড়ুন- ডায়াবেটিস রোগীদের প্রতিদিন এই ১টি অভ্যাস রক্তে শর্করা ও হজম দুটোই নিয়ন্ত্রণে রাখে
ভারতের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা আগেও নিপা ভাইরাস মোকাবিলা করেছে এবং ভবিষ্যতেও সচেতনতা ও দ্রুত নজরদারির মাধ্যমে এই ধরনের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। সাধারণ মানুষের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল আতঙ্কিত না হয়ে সঠিক তথ্য জানা এবং সন্দেহজনক লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া। নিপা ভাইরাস কতটা ঠেকানো যাবে তা মূলত সচেতনতা, স্বাস্থ্যবিধি এবং পরিবেশগত সতর্কতার ওপর নির্ভরশীল।


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us