/indian-express-bangla/media/media_files/2025/12/02/bengali-jaggery-cake-2025-12-02-16-18-01.jpg)
Bengali jaggery cake: নলেন গুড়ের কেক।
Bengali jaggery cake: নলেন গুড়ের নাম শুনলেই বাঙালির মনে শীতের বিশেষ স্বাদ ভেসে ওঠে। খেজুরের রসের ধোঁয়ায় মেশানো নলেন গুড়ের যে ঘ্রাণ, তা শীতের আলাদা আবহ তৈরি করে। পাটিসাপটা, পায়েস বা বিভিন্ন ধরনের পিঠেপুলি ছাড়াও এখন নলেন গুড় দিয়ে কেক তৈরির চল অনেক বেড়েছে। কারণ এই কেকের স্বাদ একেবারেই আলাদা—মোলায়েম, সুবাসিত এবং গুড়ের রসাল মিষ্টি। চায়ের সঙ্গে কিংবা শীতের সন্ধ্যায় পরিবার নিয়ে বসে খেলে মন ভরে যায়। অনেকে ভাবেন যে নলেন গুড়ের কেক বানানো কঠিন, কিন্তু বাস্তবে রেসিপিটি এতটাই সহজ যে সামান্য উপকরণেই বাড়িতে সহজে তৈরি করা যায় মাখনের মত নরম এই অসাধারণ কেক।
এই কেকের বৈশিষ্ট্য হল, এর ঘ্রাণ
নলেন গুড়ের কেকের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হল এর ঘ্রাণ। সাধারণ চিনি দিয়ে কেক বানালে যে স্বাদ পাওয়া যায়, তা কখনও নলেন গুড়ের সঙ্গে তুলনীয় নয়। খেজুর গাছের রস থেকে তৈরি এই গুড় নরম ও সোনালি রঙের হয় বলে কেকের রঙও হয়ে ওঠে আকর্ষণীয়। অনেকেই জানেন না—নলেন গুড় কেককে শুধু সুস্বাদুই নয়, বরং তুলনামূলক হজমেও সাহায্য করে। এটি স্বাদে যেমন দুর্দান্ত, তেমনই পরিবারের ছোট থেকে বড় সবাই নিরাপদে খেতে পারেন।
আরও পড়ুন- দামি ক্রিম না, কোরিয়ানদের মত উজ্জ্বল ত্বক পেতে কাজে লাগান স্রেফ একমুঠো চাল
এই কেক তৈরির জন্য প্রথমেই প্রয়োজন হয় গুড় ঠিকমতো গলিয়ে নেওয়ার। গুড়কে দুধে মেশানোর সময় দুধ খুব বেশি গরম হওয়া উচিত নয়। হালকা উষ্ণ দুধে গুড় সহজে গলে গিয়ে মসৃণ মিশ্রণ তৈরি হয়। এতে কেকের টেক্সচার হয় স্পঞ্জের মতো নরম এবং মুখে দিলেই গলে যায় এমন সুষম। টক দইয়ের ব্যবহার কেককে আরও ফুলিয়ে তুলতে সাহায্য করে এবং ডিম ছাড়া বানালেও কেকটি নরম হয়। বাঙালির রান্নাঘরে থাকা সাধারণ ময়দা, তেল বা গলানো মাখন, এলাচ গুঁড়ো, বেকিং পাউডার আর বেকিং সোডাই এই রেসিপির মূল।
আরও পড়ুন- বিরাট উপকারিতা, এইসব কারণে ব্ল্যাক টি পান করা উচিত প্রতিদিন
প্রস্তুতিতে সময় খুব কম লাগে। প্রথমেই শুকনো উপকরণগুলো চেলে নেওয়া দরকার, যাতে ময়দার দানা না থাকে এবং কেকের গঠন নির্ভুল থাকে। গুড় গলানোর সময় পুরো বাড়ি ভরে যায় অদ্ভুত মিষ্টি ঘ্রাণে, যা কেক বেক হওয়ার অপেক্ষাকে আরও আনন্দময় করে তোলে। যখন ভেজা–শুকনো উপকরণ একসঙ্গে মেশানো হয়, তখন ব্যাটারটি খুব বেশি না নেড়ে আলতোভাবে মেশালে কেক বেশি নরম হয়। ব্যাটার তৈরি হলে প্যানে ঢেলে ওভেনে দিলে গন্ধে পুরো ঘর ভরে যায়—নলেন গুড়ের উষ্ণ ঘ্রাণ যেন শীতের সকালকে আরও আরামদায়ক করে দেয়।
আরও পড়ুন- মাত্র ৭ দিনের মধ্যে ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা কমাতে পারে এই ২৫ খাবার
তবে শুধু ওভেন নয়, এই কেক গ্যাসেও বানানো যায়। বড় কড়াইতে একটি স্ট্যান্ড বসিয়ে ঢাকনা লাগিয়ে মাঝারি আঁচে ৪০-৪৫ মিনিট রান্না করলেও কেক হয়ে যায় একদম দোকানের মতো। বেক হয়ে গেলে কেককে প্যানে কয়েক মিনিট রেখে তারপর ছাঁচ থেকে বের করতে হয়—এতে কেক ভেঙে যাওয়ার ভয় থাকে না। ঠান্ডা হলে কেকের কাটা অংশে দেখা যায় সোনালি-বাদামি নরম স্তর, গুড়ের রং। ঘ্রাণ যেন প্রতিটি টুকরোতে ছড়িয়ে থাকে। কাজু বা কিশমিশ দিলে কেক আরও রসালো হয়।
আরও পড়ুন- কোন সময়ে বিয়েতে হয় রাজযোটক, আপনাদের কি রাজযোটক মিলন?
শীতের রাতে অতিথি এলে বা বিকেলের জলখাবারে যদি একটু আলাদা কিছু পরিবেশন করতে চান, তাহলে নলেন গুড়ের কেক নিঃসন্দেহে সেরা বাছাই হতে পারে। বিশেষ করে যাঁরা বাজারের কেক খেতে চান না, তাঁদের জন্য এটি নিরাপদ ও সুস্বাদু বিকল্প। ঘরের ছোটরা এই কেক খুব পছন্দ করে, কারণ এতে কৃত্রিম রং বা কোনও কেমিক্যাল থাকে না। শুধু গুড়ের স্বাদে ও ঘ্রাণেই তৈরি হয় এমন ঘরোয়া এক অনন্য কেক, যা একবার খেলেই বারবার বানাতে ইচ্ছে করবে।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us