/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/04/oral-cancer-risk-factors-2026-01-04-21-30-25.jpg)
Oral Cancer Risk Factors: মুখের ক্যানসার কেন হয়, জানুন।
Oral Cancer Risk Factors: মুখের ক্যানসার এমন একটি রোগ যা খুব ধীরে ধীরে শরীরে প্রভাব ফেলতে শুরু করে এবং প্রাথমিক অবস্থায় অনেক সময় কোনও স্পষ্ট উপসর্গ দেখা যায় না। ফলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মানুষ বিষয়টিকে গুরুত্ব দেন না। কিন্তু সময়ের সঙ্গে এই রোগ মারাত্মক আকার নিতে পারে। মুখ, জিহ্বা, মাড়ি, ঠোঁট কিংবা গলার ভেতরের অংশে এই ক্যানসার দেখা দিতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, কিছু নির্দিষ্ট অভ্যাস ও শারীরিক অবস্থার কারণে মুখের ক্যানসারের ঝুঁকি অনেকটাই বেড়ে যায়।
বাড়তে পারে ক্যানসারের ঝুঁকি
মুখের স্বাস্থ্য ঠিক না থাকলে ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়তে পারে, এই বিষয়টি অনেকেই জানেন না। দীর্ঘদিন ধরে দাঁতের ধারালো অংশ, ঠিকমতো বসানো হয়নি এমন ডেনচার বা মুখের ভেতরের সংক্রমণ থেকে ক্রমাগত জ্বালা সৃষ্টি হলে মুখের টিস্যু ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই ক্ষতিগ্রস্ত টিস্যু থেকেই ধীরে ধীরে প্রি-ক্যানসারাস পরিবর্তন শুরু হতে পারে। নিয়মিত দাঁত পরিষ্কার না করা, মুখের ঘা দীর্ঘদিন অবহেলা করা কিংবা মাড়ির সমস্যাকে গুরুত্ব না দেওয়াও ঝুঁকি বাড়ায়।
আরও পড়ুন- গোড়ালি ব্যথার জন্য ওষুধ না, প্রতিদিন এই ৩টি ব্যায়ামেই মিলবে আরাম
নিয়মিত অ্যালকোহল সেবন মুখের ক্যানসারের আর একটি বড় কারণ। অ্যালকোহল মুখের ভেতরের সংবেদনশীল আবরণকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং ক্যানসার সৃষ্টিকারী উপাদানগুলিকে সহজে আক্রমণ করার সুযোগ করে দেয়। যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে মদ্যপান করেন, তাঁদের মুখের কোষগুলি ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ে। তামাকের সঙ্গে অ্যালকোহল একসঙ্গে গ্রহণ করলে এই ঝুঁকি আরও কয়েকগুণ বেড়ে যায়।
আরও পড়ুন- ছোটদের খেলা হলেও এই বোর্ড গেমগুলি বয়স্কদের মস্তিষ্ক আরও ধারালো করে তোলে
সূর্যের অতিরিক্ত অতিবেগুনি রশ্মিও ঠোঁটের ক্যানসারের অন্যতম কারণ হতে পারে। বিশেষ করে যাঁরা দীর্ঘ সময় বাইরে কাজ করেন এবং ঠোঁটের সুরক্ষার জন্য কোনও ব্যবস্থা নেন না, তাঁদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি বেশি। দীর্ঘদিন সূর্যের আলোয় থাকার ফলে ঠোঁটের ত্বকের কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ক্যানসারের সম্ভাবনা তৈরি হয়।
আরও পড়ুন- সকালে খালিপেটে খান এই বীজ, শীতকালে উপকারিতা অবাক করে দেবে
এইচপিভি সংক্রমণও মুখ এবং গলার ক্যানসারের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। বিশেষ করে HPV-16 নামে স্ট্রেনটি মুখগহ্বর ও গলার টিস্যুতে ক্যানসার সৃষ্টি করতে পারে বলে গবেষণায় জানা গেছে। এই সংক্রমণ দীর্ঘদিন শরীরে সক্রিয় থাকলে কোষের স্বাভাবিক গঠন পরিবর্তিত হতে শুরু করে, যা ভবিষ্যতে ক্যানসারের দিকে এগিয়ে যেতে পারে।
আরও পড়ুন- প্রতিদিন সকালে পালং শাকের রস খেলেই কি পেটের চর্বি গলবে? জানুন ১৫ দিনে আপনার কী হতে পারে!
তামাক সেবন মুখের ক্যানসারের সবচেয়ে বড় ঝুঁকির কারণ হিসেবে ধরা হয়। সিগারেট, বিড়ি, চুরুট, পাইপ কিংবা চিবোনো তামাক—যে কোনও রূপেই হোক, তামাক মুখের টিস্যুর সরাসরি ক্ষতি করে। এতে থাকা ক্যানসার সৃষ্টিকারী রাসায়নিক উপাদানগুলি দীর্ঘ সময় ধরে মুখের কোষে জমে গিয়ে জেনেটিক পরিবর্তন ঘটাতে পারে। অনেক ক্ষেত্রেই মুখের ক্যানসারের মূল কারণ হিসেবে তামাককেই দায়ী করা হয়।
শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হলে ক্যানসারের ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতা, কিছু নির্দিষ্ট ওষুধের দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহার বা কেমোথেরাপির মতো চিকিৎসার কারণে ইমিউন সিস্টেম দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। তখন শরীর, অস্বাভাবিক কোষ বৃদ্ধি সহজে শনাক্ত করতে পারে না এবং ক্যানসার কোষ বাড়ার সুযোগ পায়।
এই সমস্ত ঝুঁকির কারণ সম্পর্কে সচেতন হওয়াই মুখের ক্যানসার প্রতিরোধের প্রথম ধাপ। নিয়মিত মুখ ও দাঁতের যত্ন নেওয়া, তামাক ও অতিরিক্ত অ্যালকোহল এড়িয়ে চলা, সূর্যের আলো থেকে ঠোঁটকে সুরক্ষা দেওয়া এবং সন্দেহজনক কোনও উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। মুখের ভেতরে দীর্ঘদিন ঘা, অস্বাভাবিক ফোলা বা ব্যথা অবহেলা করা উচিত নয়। সময়মতো সচেতন হলে মুখের ক্যানসার থেকে নিজেকে অনেকটাই সুরক্ষিত রাখা সম্ভব।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us