/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/27/oral-cavity-cancer-risk-2026-01-27-16-15-55.jpg)
Oral Cavity Cancer Risk: মুখের ক্যানসার প্রতিরোধের উপায় জেনে নিন।
Oral Cavity Cancer Risk: বর্তমান সময়ে জীবনযাত্রার গতি এতটাই বদলে গেছে যে আমাদের শরীর অনেক সময় তার সঙ্গে তাল মেলাতে পারছে না। দীর্ঘ সময় কাজ, মানসিক চাপ, অনিয়মিত খাওয়া, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব এবং সহজলভ্য ক্ষতিকর অভ্যাস ধীরে নানা জটিল রোগের পথ প্রশস্ত করছে। এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে ক্যানসারের মতো রোগে, যেখানে এক সময় যে ক্যানসারগুলি তুলনামূলকভাবে কম দেখা যেত, সেগুলিই এখন দ্রুত বাড়ছে।
এই ব্যাপারে শীর্ষ অঙ্কোলজিস্ট ডা. সেওয়ান্তি লিমায়ের একটি মন্তব্য নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তাঁর মতে, ভারতে মুখগহ্বর বা ওরাল ক্যাভিটি ক্যানসার সংক্রমণের বাড়বাড়ন্ত এখন স্তন ক্যানসারের সঙ্গে পাল্লা দিচ্ছে। তিনি জানিয়েছেন, ভারতে ফিরে কাজ করার সময় তিনি দেখেছেন, কর্মস্থলেও বহু মহিলা নিয়মিত তামাক বা সুপারি চিবোচ্ছেন। এই অভ্যাস এতটাই স্বাভাবিক হয়ে গেছে যে অনেক সময় মানুষ এর ভয়াবহ পরিণতির কথা ভাবতেই চান না।
আরও পড়ুন- হৃদপিণ্ড শক্তিশালী ও সুস্থ রাখতে চান, এই অভ্যাস আজ থেকেই এড়িয়ে চলুন, পরামর্শ চিকিৎসকের
মুখের ক্যানসার বর্তমানে ভারতের অন্যতম সাধারণ ক্যানসারে পরিণত হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু কিছু অঞ্চল ও জনসংখ্যার মধ্যে এর সংখ্যা স্তন ক্যানসারের কাছাকাছি চলে গিয়েছে। এমনকী কোথাও আবার তা আশঙ্কাকেও ছাড়িয়ে গিয়েছে। হেড অ্যান্ড নেক অঙ্কোসার্জেন ডা. হিতেশ সিংভি এই প্রসঙ্গে জানিয়েছেন, সামগ্রিকভাবে এই পর্যবেক্ষণ যথেষ্ট বাস্তবসম্মত হলেও লিঙ্গভেদে ছবিটা কিছুটা আলাদা। তাঁর মতে, প্রতিবছর ভারতে প্রায় এক লক্ষেরও বেশি নতুন মুখের ক্যানসারের রোগী শনাক্ত হয়েছে। আর, এর বড় অংশই পুরুষ। অন্যদিকে স্তন ক্যানসারের ক্ষেত্রে সংখ্যাটি আরও বেশি হলেও তা মূলত মহিলাদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ।
আরও পড়ুন- হলুদ বা সোনালি সাবান ব্যবহারের ট্রেন্ড, ত্বকের জন্য এটা আশীর্বাদ না ক্ষতিকারক?
এই পরিস্থিতির মূল কারণ খুঁজতে গেলে চোখে পড়ে দৈনন্দিন কিছু অভ্যাস, যেগুলি দীর্ঘদিন ধরে মুখগহ্বরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। মুখ এমন একটি অঙ্গ যা সরাসরি আমরা যা খাই বা পান করি তার সংস্পর্শে আসে। নিয়মিত তামাক চিবানো, সুপারি খাওয়া, অতিরিক্ত মদ্যপান, দাঁতের ধারালো অংশ থেকে লাগাতার ক্ষত এবং মুখের ঠিকমতো পরিচর্যার অভাব—এই সবকিছু মিলিয়ে মুখের ভেতরের আবরণ ক্রমাগত জ্বালাপোড়ার সমস্যায় ভোগে। বছরের পর বছর ধরে এই সমস্যা বেড়ে কোষের স্বাভাবিক গঠন নষ্ট হয়ে যায় এবং সেখান থেকেই ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে।
আরও পড়ুন- মাত্র ১ লক্ষ টাকায় ঘুরে নিন এই ৬ দেশ
সবচেয়ে বিপজ্জনক দিক হল, মুখের ক্যানসারের প্রাথমিক লক্ষণগুলি অনেক সময় ব্যথাহীন হয়। ছোট ঘা, সাদা বা লালচে দাগ, মুখের ভেতরে শক্ত ভাব—এই উপসর্গগুলি সাধারণ আলসার ভেবে অনেকেই উপেক্ষা করেন বা ঘরোয়া চিকিৎসায় সময় নষ্ট করেন। যেহেতু খাওয়া বা কথা বলায় প্রথমদিকে তেমন সমস্যা হয় না, তাই চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার তাগিদও তৈরি হয় না। অথচ এই সময়েই রোগ ধরা পড়লে চিকিৎসা অনেক বেশি ফলদায়ক হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের ধারণা
বিশেষজ্ঞদের ধারণা, মুখের ক্যানসারের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় আশার জায়গা হল এটি অনেকটাই প্রতিরোধযোগ্য। স্তন ক্যানসারের মত রোগ যেখানে হরমোন ও জৈবিক নানা জটিল কারণে প্রভাবিত হয়, সেখানে মুখের ক্যানসার মূলত জীবনযাপনের ফল। তাই তামাক ও সুপারি সম্পূর্ণভাবে এড়িয়ে চলা, মদ্যপান কমানো, মুখের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং দীর্ঘদিনের কোনও ঘা বা পরিবর্তন হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই হতে পারে মুখের ক্যানসারের সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ।
আরও পড়ুন- দেশপ্রেমের আবহে ভিড় এড়িয়ে ঘুরে আসুন এই ৬ অফবিট জায়গায়, সত্যিই রিফ্রেশ হবেন
অন্যদিকে স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি অনেকাংশে নির্ভর করে হরমোনের ভারসাম্য ও সামগ্রিক বিপাকীয় স্বাস্থ্যের ওপর। পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়া, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব, অতিরিক্ত ওজন ও দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ শরীরের হরমোনের স্বাভাবিক ছন্দ নষ্ট করে দেয়, যা পরোক্ষভাবে স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই দুই ধরনের ক্যানসারের ক্ষেত্রেই সচেতন জীবনযাপন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সব মিলিয়ে বলা যায়, মুখের ক্যানসার আজ ভারতের এক বড় জনস্বাস্থ্য সমস্যায় পরিণত হচ্ছে, যার পেছনে রয়েছে সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য কিন্তু অত্যন্ত ক্ষতিকর কিছু অভ্যাস। সচেতনতা, সময়মতো চিকিৎসা এবং দৈনন্দিন জীবনযাপনে ছোট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনই এই রোগের বাড়বাড়ন্ত থামাতে পারে। সামান্য লক্ষণকেও গুরুত্ব দেওয়া এবং নিজের অভ্যাসের প্রতি নজর রাখাই হতে পারে ভবিষ্যতের বড় বিপদ থেকে রক্ষা পাওয়ার প্রথম ধাপ।


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us