Orange Pith Benefits: কমলালেবুর এই অংশটায় বিরাট উপকার, অথচ ফেলে দেন বেশিরভাগ মানুষই!

Orange Pith: শীতে কমলালেবু খাওয়ার বিরাট উপকারিতা। এই সময় বাজারে প্রচুর কমলালেবু ওঠেও। এই ফলের নির্দিষ্ট একটা অংশে রয়েছে বিরাট গুণ। যেটা কিন্তু খাওয়া দূর, বেশিরভাগ মানুষ ফেলেই দেন।

Orange Pith: শীতে কমলালেবু খাওয়ার বিরাট উপকারিতা। এই সময় বাজারে প্রচুর কমলালেবু ওঠেও। এই ফলের নির্দিষ্ট একটা অংশে রয়েছে বিরাট গুণ। যেটা কিন্তু খাওয়া দূর, বেশিরভাগ মানুষ ফেলেই দেন।

author-image
Chinmoy Bhattacharjee
New Update
Orange Pith Benefits: কমলালেবুর পিথের তন্তু।

Orange Pith Benefits: কমলালেবুর পিথের তন্তু।

Orange Pith: শীতের মরশুম এলে কমলালেবু আমাদের খাবারের তালিকায় নিয়মিত জায়গা করে নেয়। কিন্তু বেশিরভাগ মানুষই লেবুর খোসা ছাড়ানোর পর ভেতরের সাদা নরম স্তরটি—যাকে অরেঞ্জ পিথ (Orange Pith) বলে, তেতো লাগার কারণে সরিয়ে ফেলেন। অথচ এই সাদা তন্তুই হল কমলালেবুর আসল পুষ্টিগুণের ভাণ্ডার। শীতে যখন আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, ঠিক তখনই এই সাদা তন্তু শরীরকে দেয় বাড়তি সুরক্ষা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কমলালেবু খাওয়ার সময় সামান্য পিথ রেখে দিলে হজম, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ থেকে শুরু করে হৃদ্‌যন্ত্রের স্বাস্থ্য—সবকিছুতেই দেখা যায় উল্লেখযোগ্য উপকার। কারণ, এতে রয়েছে ফাইবার, ফ্ল্যাভোনয়েড এবং ভিটামিন। তাই শীতে কমলালেবুর সাদা তন্তু না ফেলে খেলে যে অবাক করা উপকার পাবেন, অন্য কিছুতে তা পাবেন না।

Advertisment

এতে রয়েছে উচ্চমাত্রার ফাইবার

কমলালেবুর মূল সাদা অংশটিতে আছে উচ্চমাত্রার ফাইবার। এই ফাইবার সাধারণ কমলালেবুর রস বা শুধু ফলের পাল্পের তুলনায় অনেক বেশি কাজের। ফাইবার পাচনতন্ত্রকে ভালো রাখতে সাহায্য করে, খাবার হজম হওয়ার সময় রক্তে শর্করা ধীরে ধীরে শোষিত হয়, ফলে রক্তে গ্লুকোজের হঠাৎ ওঠানামা কমে। শীতে অনেকেই ভারী খাবার খান এবং তার ফলে বদহজম বা অম্বলের সমস্যা দেখা দেয়। পিথ নিয়মিত খেলে এই সমস্ত সমস্যা কমে যায়। পেট থাকে অনেকটা হালকা এবং পরিষ্কার।

আরও পড়ুন- মুম্বই কাঁপিয়ে দিয়েছিল ভয়াবহ সন্ত্রাস! ফিরে দেখা ২৬/১১

কমলালেবুর এই সাদা তন্তুতে রয়েছে প্রচুর ভিটামিন সি (Vitamin C)। আমরা সাধারণত কমলালেবুর রসকে ভিটামিন সি-এর উৎস হিসেবে মনে করি, কিন্তু অনেকেই জানেন না যে পিথেও ভিটামিন সি-এর উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি আছে। এটি শরীরকে ঠান্ডা-কাশি থেকে রক্ষা করে, ত্বককে দেয় উজ্জ্বলতা এবং শীতে শুষ্কতার হাত থেকে ত্বককে বাঁচায়। ভিটামিন সি (Vitamin C) কোষকে মেরামত করতেও সাহায্য করে। ফলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা স্বাভাবিকের তুলনায় আরও সক্রিয়ভাবে কাজ করে।

Advertisment

আরও পড়ুন- শীতেও কি গ্রীষ্মের মত একটু বেশি রাতে ডিনার করেন? অজান্তেই ডাকছেন চরম বিপদ!

অরেঞ্জ পিথ (Orange Pith)–এর আর একটি বড় বৈশিষ্ট্য হচ্ছে যে, এতে আছে সাইট্রাস ফ্ল্যাভোনয়েডস (Citrus Flavonoids), বিশেষ করে হেসপেরিডিন (Hesperidin) এবং নারিনজেনিন (Naringenin)। এই দু’টি উপাদানকে সুপার অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বলা হয়। এগুলি শরীরের ভিতরে জমে থাকা টক্সিন বা ফ্রি র‌্যাডিক্যাল কমায়, ফলে হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি কমে, রক্তচাপ স্থিতিশীল থাকে এবং রক্তনালিগুলি সুস্থ থাকে। বড় শহরের দূষণ, স্ট্রেস বা অনিয়মিত জীবনযাপনে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস (oxidative stress) বেড়ে যায়। এই দুটি ফ্ল্যাভোনয়েড সেটিকে কমাতে অসাধারণ ভূমিকা নেয়।

আরও পড়ুন- আধুনিক ভারতকে ব্যবসা শিখিয়েছিলেন বাঙালি রামদুলাল!

অধিকাংশ মানুষ মনে করেন পিথ খেলে ফলের স্বাদ নষ্ট হয়। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খুব অল্প মাত্রায় পিথ রাখলেই যথেষ্ট পুষ্টিগুণ পাওয়া যায় এবং স্বাদের তেমন কোনও পরিবর্তন হয় না। প্রতিটি কোয়ার টুকরোর সঙ্গে যদি পাতলা সাদা স্তরটা রেখে খাওয়া হয়, শরীর সব ধরনের প্রয়োজনীয় ফাইবার এবং ফ্ল্যাভোনয়েডস (flavonoids) সহজেই পায়। আর যদি তিক্ত স্বাদ একটু বেশি অনুভূত হয়, তাহলে পিথ কেটে দইয়ের সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়া যায়। স্মুদি, সালাদ বা ওটসের মধ্যেও পিথ মিশিয়ে খেলে স্বাদ বেশ ভালো লাগে।

আরও পড়ুন- শরীর ঠিক রাখতে দুধ খাচ্ছেন? কারা এড়িয়ে চলবেন দুধ, জানুন বিস্তারিত

শীতকালে ত্বক, গলা, শ্বাসনালির সমস্যা অনেকেই অনুভব করেন। এই সময় শরীরের ভিতরে সঠিক হাইড্রেশন (hydration) এবং পুষ্টিগুণ রক্ষা করা খুব জরুরি। অরেঞ্জ পিঠ (Orange Pith) শরীরের জলধারণ ক্ষমতা বজায় রাখে এবং এসেনশিয়াল মিনারেলস (essential minerals) যেমন পটাসিয়াস (potassium)–এর সরবরাহ বজায় রাখে। পটাসিয়াম (Potassium) রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং পেশির কর্মক্ষমতা বাড়ায়। ফলে ঠান্ডা আবহাওয়াতেও ক্লান্তি কম লাগে।

অনেক গবেষণায় বলা হয়েছে, পিথে থাকা ফ্ল্যাভোনয়েডস (flavonoids) প্রদাহ নিয়ন্ত্রণে বিশেষভাবে কার্যকর। আর্থ্রাইটিস (Arthritis), জয়েন্ট পেইন (joint pain) বা শীতের হাড়কাঁপানো ঠান্ডায় জয়েন্টের জড়তা—সব ক্ষেত্রেই এই প্রাকৃতিক অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি (anti-inflammatory) উপাদান শরীরকে আরাম দেয়। নিয়মিত অল্পমাত্রায় পিথ খেলে শরীর স্বাভাবিকভাবেই ইনফ্লেমেশন কমাতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে সুস্থতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

শুধু তাই নয়, অরেঞ্জ পিঠ (Orange Pith) শরীরে স্যাটাইটি (satiety) বা পেট ভরার অনুভূতি বাড়ায়। অর্থাৎ দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখে। যাঁরা শীতে অতিরিক্ত খাওয়ার অভ্যাস নিয়ন্ত্রণ করতে চান বা ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান, তাঁদের জন্য এটি অত্যন্ত উপকারী। কারণ পিথ ধীরে ধীরে হজম হয়, রক্তে শর্করা স্থির রাখে এবং অতিরিক্ত খাবারের প্রতি আকর্ষণ কমায়। ফলের মিষ্টি অংশের সঙ্গে এই তন্তু শরীরে অনেক বেশি ব্যালান্সড নিউট্রেশন (balanced nutrition) দেয়।

সুতরাং শীতে কমলালেবুর খোসা ছাড়ানোর সময় সাদা অংশটি পুরোপুরি ফেলে দেবেন না। অরেঞ্জ পিঠের উপকারিতা (Orange Pith Benefits) শুধু শরীরকে নয়, আপনার ইমিউনিটি সিস্টেম (immunity system)–কেও শক্তিশালী করে। শীতে যখন ঠান্ডা, ভাইরাল, দুর্বলতা—সবকিছুর সঙ্গে লড়াই করতে হয়, তখন এই ছোট্ট সাদা স্তরটি আপনার বিরাট উপকার করতে পারে। প্রতিদিনের খাবারে খুব কম পরিমাণে এটি খাওয়াও দারুণ কার্যকর। আর পুষ্টিবিদদের মতে, ফলের ভেতরের অংশের চেয়ে এই পিথ অনেক বেশি স্বাস্থ্য সহায়ক (health booster)।

benefits Orange Pith