/indian-express-bangla/media/media_files/2025/12/02/drinking-water-2025-12-02-01-06-33.jpg)
Drinking water: জল পান।
Health Care: আমরা প্রায়ই শুনে থাকি যে সুস্থ থাকতে হলে সারাদিন পর্যাপ্ত জল পান করা জরুরি। সত্যি কথা হল, শরীরের প্রতিটি অঙ্গকে সঠিকভাবে কাজ করাতে জল অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। কিন্তু অনেকেই জানেন না যে অতিরিক্ত জল পান করাও সমানভাবে বিপজ্জনক হতে পারে।
সাম্প্রতিক সময়ে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানিয়েছেন যে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি জল পান করলে শরীরে ওভার হাইড্রেশন (overhydration) বা ওয়াটার ইনটক্সিকেশন (water intoxication) নামের বিপজ্জনক অবস্থা তৈরি হতে পারে। শরীরের ভেতরের জল ও লবণের ভারসাম্য নষ্ট হলে নানা জটিলতায় ভুগতে হয়, যা অনেক সময় সাধারণ মানুষ বুঝতেই পারেন না।
আরও পড়ুন- ভারতের এই ৬টি অদ্ভুত বেগুনি পাখি, যাদের একবার দেখলে চোখ ফেরানো যায় না!
শরীরের ইলেক্ট্রোলাইটের সঠিক ভারসাম্য বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে সোডিয়ামের মাত্রা কমে গেলে কোষ ফুলে ওঠে এবং এই অবস্থাকে বলা হয় হাইপোন্যাট্রেমিয়া (hyponatremia)। এটি মারাত্মক মাথাব্যথা, বমি, বমি বমি ভাব, দুর্বলতা, বিভ্রান্তি এমনকী খিঁচুনি পর্যন্ত ঘটাতে পারে।
আরও পড়ুন- সূর্য সেনের বিপ্লবী সেনাদলের প্রধান, স্বাধীন ভারতেও জেলে ছিলেন ৮ বছর
যাঁরা একবারে অতিরিক্ত জলপান করেন বা অল্প সময়ে প্রচুর জল যাঁদের শরীরে ঢোকে, তাঁদের শরীরে এই ভারসাম্যহীনতা দ্রুত তৈরি হয়। শরীরের কিডনি প্রতিঘণ্টায় মাত্র ০.৮ থেকে ১ লিটার জল বের করে দিতে পারে। এর বেশি জল শরীরে ঢুকলে কিডনির ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে, ফলে বাকি জল রক্তে মিশে শরীরে সোডিয়ামের পরিমাণ কমিয়ে দেয়।
আরও পড়ুন- শীত পড়তেই বাড়ছে ত্বকের সমস্যা, ঘরে থাকা ১ উপাদানেই মিলবে গ্লাস-স্কিন জেল্লা
যাঁদের আগে থেকেই কিডনির রোগ, হার্টের সমস্যা বা লিভার সিরোসিস রয়েছে, তাঁরা অতিরিক্ত জলপান করলে আরও বেশি সমস্যায় পড়তে পারেন। তাঁদের শরীরে জল জমে পেট ফাঁপা, শ্বাসকষ্ট, দুর্বলতা এবং সোডিয়াম হ্রাসের সমস্যা দেখা দিতে পারে। চিকিৎসকরা তাই এই রোগীদের জল খাওয়ার পরিমাণ সীমিত রাখার পরামর্শ দেন এবং শরীরের সাড়া কেমন তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করার কথা বলেন।
আরও পড়ুন- প্রথমবার 'শ্বশুরবাড়ি', কী করেছিলেন এই বলি নায়িকার স্বামী? শুনলে চমকে উঠবেন!
প্রতিদিন একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের সাধারণ অবস্থায় ২ থেকে ৩ লিটার জলই যথেষ্ট। একই বয়স, ওজন, শারীরিক কার্যকলাপ, আবহাওয়া এবং ঘামের পরিমাণ কমবেশি হতে পারে। গরমে বা ব্যায়ামের সময় ঘাম বেশি হলে জলের প্রয়োজন বাড়বে, আবার শীতকালে তুলনামূলক কম লাগতে পারে। তবে যে ভুলটি বেশিরভাগ মানুষই করেন, তা হল- একবারে বেশি জল পান করা। সারাদিন অল্প পরিমাণে জল পান করাই শরীরের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ। এমনটাই মনে করে থাকেন চিকিৎসকরা।
অতিরিক্ত জল পানের লক্ষণ
অতিরিক্ত জল পানের (drinking water) লক্ষণগুলো অনেকেরই চেনা। কিন্তু, না জানায় অনেকেই তা গুরুত্ব দেন না। সেগুলো কী? ঘন ঘন প্রস্রাব, সম্পূর্ণ স্বচ্ছ প্রস্রাব, সারাক্ষণ মাথাব্যথা, বমি বমি ভাব, পেট ফাঁপা, বিরক্তি, বিভ্রান্তি, পেশীতে টান—এসবই। পাশাপাশি প্রস্রাবের রঙ শরীরের জলের পরিমাণ বোঝার সবচেয়ে সহজ উপায়। হালকা হলুদ রঙ হলে বুঝবেন জল যথেষ্ট পরিমাণে শরীরে আছে। আর একেবারে পরিষ্কার হলে বুঝতে হবে আপনি প্রয়োজনের চেয়ে বেশি জল পান করেছেন।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us