Oversleeping Causes: অতিরিক্ত ঝিমুনিতে কাজে, লেখাপড়ায় বিরাট অসুবিধা? এই কায়দায় সহজে দূর করুন ক্লান্তি!

Oversleeping Causes: এই সমস্যা দূর করতে হলে প্রথমে বুঝতে হবে এই অতিরিক্ত ঝিমুনির কারণটা ঠিক কী! এটা জেনে রাখা দরকার যে, ভয় নেই। আর, সহজে দূর করুন আপনার এই ঝিমুনি।

Oversleeping Causes: এই সমস্যা দূর করতে হলে প্রথমে বুঝতে হবে এই অতিরিক্ত ঝিমুনির কারণটা ঠিক কী! এটা জেনে রাখা দরকার যে, ভয় নেই। আর, সহজে দূর করুন আপনার এই ঝিমুনি।

author-image
Chinmoy Bhattacharjee
New Update
Oversleep Problem: জেনে নিন অতিরিক্ত ঘুমের সমস্যাগুলো কী! কীভাবেই বা দূর করবেন।

Oversleep Problem: জেনে নিন অতিরিক্ত ঘুমের সমস্যাগুলো কী! কীভাবেই বা দূর করবেন এই সমস্যা?

Oversleep Problem: মানুষের শরীর সাধারণত রাতে সাত থেকে আট ঘণ্টা ঘুমের পর স্বাভাবিকভাবে সতেজতা অনুভব করে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, অনেকে আট-নয় ঘণ্টার ঘুমের পরেও অদ্ভুত ক্লান্তি, মাথা ভার হওয়া, ঘুম ঘুম ভাব বা দিনের বেলায় ঝিমুনি অনুভব করছেন। এই অবস্থাকে অনেকেই অবহেলা করেন বলে মনে হয়, এটা সাময়িক ব্যাপার। কিন্তু শরীর যখন বারবার ৯–১০ ঘণ্টা বা তারও বেশি ঘুম চাইতে শুরু করে, তখন বুঝতে হবে ভেতরে কিছু না কিছু গড়বড় হয়েছে। এই অতিরিক্ত ঘুমের প্রবণতার পিছনে আছে নানা শারীরিক, মানসিক, জীবনধারা সম্পর্কিত কারণ।

Advertisment

অনেক ক্ষেত্রেই ঘুমের মান এমনভাবে নষ্ট হয় যে, শরীর তার ঘাটতি পূরণ করতে বাধ্য হয়। আর, সেজন্যই বাড়তি ঘুম চায়। রাতে ঠিকমতো ঘুম না হলে সকালে দীর্ঘক্ষণ ঘুমালেও বিশ্রামের অনুভূতি আসে না। স্ক্রিন দেখার অভ্যাস, অনিদ্রা, রাতের ঘুমে ঘন ঘন বাধা—সবই শরীরকে অতিরিক্ত ঘুমের দিকে ঠেলে দেয়। ফলে ব্যক্তি যতই বেশি সময় ঘুমাক না কেন, ক্লান্তি থেকেই যায়। কারণ, মস্তিষ্ক গভীর ঘুমের পর্যায়ে পৌঁছতে পারে না।

আরও পড়ুন- বয়স ৪০, ক্লান্ত লাগে? নিন এই জিনিস নিজেই বুঝবেন, বদলে গেছে হালচাল!

অতিরিক্ত ঘুমের অন্যতম কারণ হল ব্লাড সুগারের ওঠানামা। যখন রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বারবার হঠাৎ বেড়ে যায় বা কমে যায়, তখন শরীরের শক্তির ভারসাম্য নষ্ট হয়। এতে সকালবেলা মাথা ভার লাগে, চোখ খুলতে কষ্ট হয় এবং দিনের শুরুতেই অলসতা গ্রাস করে। এই পরিবর্তন শরীরকে ঘন ঘন পুনরুদ্ধার মোডে পাঠায়, ফলে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি ঘুমের দরকার পড়ে।

আরও পড়ুন- রোগা হতে চান? ফলো করুন অভিনেত্রী অদিতি রাও হায়দারির এই রুটিন, দিনে মাত্র ৩ বার

এছাড়া ডিপ্রেশন বা দীর্ঘদিনের মনমরা ভাবও বেশি ঘুমের জন্য দায়ী। মানসিক চাপ, আবেগজনিত ক্লান্তি বা অনুপ্রেরণার অভাব মস্তিষ্কের স্লিপ-ওয়েক চক্রকে বদলে দেয়। ডিপ্রেশনে আক্রান্ত ব্যক্তিরা প্রায়ই বলেন, 'ঘুমালেও আরাম পাওয়া যায় না। আবার জেগে থাকার মত শক্তিও নেই। ফলে শরীর নিজেকে রক্ষা করতে ধীরগতিতে চলে এবং অতিরিক্ত ঘুমের মাধ্যমে শক্তি ধরে রাখার চেষ্টা করে।'

আরও পড়ুন- এই ছ’টি খাবার আমাদের হার্টের স্বাস্থ্যের জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকারক 

আজকের ব্যস্ত জীবনধারায় দীর্ঘদিনের চাপ, নিরন্তর দায়িত্ব পালন, কাজের তাড়া বা মানসিক বার্নআউট শরীরকে অবসন্ন করে দেয়। এই ক্লান্তি শুধুমাত্র শরীরে নয়, স্নায়ুতন্ত্রেও প্রভাব ফেলে। ফলে মনে হয় কিছুই করতে ইচ্ছা করছে না এবং শরীর যেন আরও দশ-পনেরো মিনিট নয়, বরং কয়েক ঘণ্টা বাড়তি ঘুম চায়। বার্নআউটের কারণে ঘুম–ঘুম ভাব দিনভর লেগেই থাকে, যা ধীরে ধীরে অতিরিক্ত ঘুমের অভ্যাসে পরিণত হয়।

আরও পড়ুন- কীভাবে সহজে আপনার শরীর পেতে পারে ভিটামিন বি১২, জানুন চিকিৎসকদের মত

একইসঙ্গে হরমোনের অসামঞ্জস্যও ঘুমের পরিমাণ বাড়াতে পারে। বিশেষ করে থাইরয়েড হরমোন কমে গেলে শরীরের বিপাক হার কমে যায়, শক্তি উৎপাদন দুর্বল হয় এবং মস্তিষ্ক ধীরগতির হয়ে পড়ে। যাঁরা হাইপোথাইরয়েডিজমে ভোগেন, তাঁদের সাধারণত দীর্ঘ ঘুমেও ক্লান্তি কাটে না। শরীর যেন সর্বক্ষণ বিশ্রাম চায়। একইসঙ্গে ওজন বৃদ্ধি, পেশিগত দুর্বলতা এবং মন্থর চলাফেরাও সমস্যা তৈরি করতে পারে।

ভিটামিনের ঘাটতিও শরীরের অতিরিক্ত ঘুমের অন্যতম বড় কারণ। ভিটামিন বি-১২, ভিটামিন ডি, ম্যাগনেসিয়াম বা লোহা (Iron) কমে গেলে কোষে শক্তি উৎপাদন বাধাপ্রাপ্ত হয়। তখন যে কোনও কাজেই দ্রুত ক্লান্তি চলে আসে। শরীর বুঝতে পারে সে পর্যাপ্ত শক্তি তৈরি করতে পারছে না এবং সে ঘুমকে ব্যবহার করে নিজেকে পুনরুদ্ধার করার চেষ্টা করছে। ফলে বারবার বেশি সময় ঘুমানোর প্রবণতা বাড়ে।

এই অতিরিক্ত ঘুমের অভ্যাসকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে কখনই অবহেলা করা যায় না, কারণ এটি শরীরের একটি সতর্কবার্তা। যদি ধারাবাহিকভাবে ১০ ঘণ্টার বেশি ঘুমের প্রয়োজন হয়, তবে বিশেষজ্ঞরা সাধারণত খাবারের অভ্যাস, মানসিক স্বাস্থ্যের অবস্থা, হরমোন, ভিটামিন লেভেল ও ঘুমের প্যাটার্ন পরীক্ষা করার পরামর্শ দেন। কারণ শারীরিক শক্তি, স্নায়বিক নিয়ন্ত্রণ এবং হরমোনের স্বাভাবিক ছন্দ বজায় রাখার জন্য ঘুম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত ঘুম মানেই স্বাস্থ্য ভালো, এই ধারণা কিন্তু ঠিক নয়। বরং বেশি ঘুম শরীরের ভেতরের কোনও সমস্যাকেই ইঙ্গিত করে। 

কারণ জানা জরুরি

তাই যদি দেখেন আপনি ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাসে আক্রান্ত না হয়েও, স্ক্রিনের পিছনে অতিরিক্ত সময় ব্যয় না করেও বা শারীরিক ক্লান্তি ছাড়াই নিয়মিত বেশি ঘুমাচ্ছেন, তাহলে কারণটি খুঁজে বের করা জরুরি। জীবনযাপনে কিছু ছোট পরিবর্তন যেমন: নিয়মিত ঘুমের রুটিন, স্ক্রিন টাইম কমানো, পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ, পর্যাপ্ত জলপান এবং মানসিক চাপ কমানোর অভ্যাস অনেক ক্ষেত্রে ঘুমের মান উন্নত করতে সাহায্য করে। তবে সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া দরকার।

problem oversleep