/indian-express-bangla/media/media_files/2025/11/24/parashnath-temple-1-2025-11-24-18-29-02.jpg)
Parasnath Jain Temple Kolkata: কলকাতায় পরেশনাথের জৈন মন্দির।
/indian-express-bangla/media/media_files/2025/11/24/parashnath-temple-2-2025-11-24-18-29-13.jpg)
পরেশনাথের জৈন মন্দির
Parasnath Jain Temple Kolkata: কলকাতা শহরকে আমরা বহুরূপী, বহু সংস্কৃতির মিলনের এক বিস্ময়কর আবাসভূমি হিসেবে জানি। ধর্ম, ভাষা, খাদ্য বা স্থাপত্য—প্রতিটি ক্ষেত্রেই এই শহর যেন বুকে ধরে রেখেছে নানা রঙের মানুষের ছোঁয়া। সেই বৈচিত্র্যেরই একটি অনন্য উদাহরণ পরেশনাথের জৈন মন্দির, যা শুধু ধর্মীয় স্থাপত্য নয়; বরং শিল্প, বিশ্বাস, নান্দনিকতা এবং নির্জন শান্তির এক অপূর্ব মিলনক্ষেত্র। শেঠ বদ্রীদাসের উদ্যোগে ১৮৬৭ সালে নির্মিত এই মন্দির কলকাতার মারোয়াড়ি এবং জৈন সম্প্রদায়ের দীর্ঘ ইতিহাসকে আজও গর্বের সঙ্গে ধারণ করে আছে। প্রতিষ্ঠাকালীন আচার-অনুষ্ঠান সম্পন্ন করেছিলেন শ্রী কল্যাণসুরীশ্বরজি মহারাজ, যাঁর মাধ্যমে মন্দিরের আধ্যাত্মিক গুরুত্ব আরও গভীর হয়েছে।
/indian-express-bangla/media/media_files/2025/11/24/parashnath-temple-3-2025-11-24-18-29-45.jpg)
মন্দিরের স্থাপত্যের বৈশিষ্ট্য
পরেশনাথ জৈন মন্দির আসলে একক কোনও মন্দির নয়; বরং চারটি পৃথক মন্দিরের সমাহার। শীতলনাথজি, চন্দ্রপ্রভুজি, মহাবীর স্বামী এবং দাদাওয়াড়ি—এই চার মন্দিরের স্থাপত্যশৈলী এমনই মনোমুগ্ধকর যে প্রথম দেখাতেই বোঝা যায়, প্রতিটি ইঞ্চিতে সূক্ষ্ম নকশা, রঙিন কাচ, রূপালি-সোনালি কারুকাজ এবং মূর্তিশিল্পের নিখুঁত সৌন্দর্য ফুটিয়ে তুলতে কারিগররা কত মন দিয়ে কাজ করেছিলেন। সূর্যের আলো যখন মন্দিরের কাচের জানালায় পড়ে ঝিলিক দেয়, মনে হয় যেন পুরো প্রাঙ্গণটি এক স্বর্গীয় আভায় ভেসে যাচ্ছে।
/indian-express-bangla/media/media_files/2025/11/24/parashnath-temple-4-2025-11-24-18-30-16.jpg)
অন্যতম জনপ্রিয় ফটোস্পট
কলকাতার ব্যস্ততার মাঝেও এই মন্দিরে ঢুকলেই আলাদা এক শান্ত পরিবেশ মনকে স্পর্শ করে। এখানে নেই ভিড়ের কোলাহল, নেই কোনও পাণ্ডার বাড়বাড়ন্ত। মন্দিরের প্রাঙ্গণে দাঁড়ালেই চারপাশের নীরবতা, সাজানো বাগান, পাথরের কারুকাজ এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশ ভ্রমণকারীদের মনকে মুহূর্তেই স্নিগ্ধ করে তুলতে পারে। ভিতরে ছবি তোলা নিষিদ্ধ হলেও বাইরের প্রতিটি কোণই যেন একেকটি দৃষ্টিনন্দন ফ্রেম। তাই ইনস্টাগ্রামপ্রেমীদের কাছে এই মন্দির আজ অন্যতম জনপ্রিয় ফটোস্পট।
/indian-express-bangla/media/media_files/2025/11/24/parashnath-temple-5-2025-11-24-18-30-56.jpg)
মন্দিরে পৌঁছনোর পথ
শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মন্দিরে পৌঁছনোও খুবই সহজ। শিয়ালদহ, হাওড়া, সল্টলেক বা নিউটাউন—সব জায়গা থেকেই এখানে পৌঁছানোর জন্য রয়েছে সুব্যবস্থা। গৌরীবাড়ি বা খান্না বাসস্ট্যান্ড থেকে হাঁটলেই কয়েক মিনিটে পৌঁছে যাওয়া যায়। নিজের গাড়ি নিয়ে এলে রাস্তার ওপরই পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করতে হয়, যদিও জায়গা মিলবে কি না, তা সম্পূর্ণ ভাগ্যের ওপর নির্ভরশীল। তবে সাধারণ দর্শনার্থীরা অটো বা বাসে খুব স্বচ্ছন্দ্যেই এখানে পৌঁছে যেতে পারেন।
/indian-express-bangla/media/media_files/2025/11/24/parashnath-temple-6-2025-11-24-18-31-51.jpg)
মন্দিরের সময়সূচি
মন্দিরের সময়সূচি খুব নির্দিষ্ট—সকাল ৬টা ৩০ থেকে ১২টা পর্যন্ত এবং বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত। শান্তিপূর্ণ পরিবেশ উপভোগ করতে চাইলে সকালবেলায় যাওয়াই উত্তম। সকালের আলোতে মন্দিরের রঙিন কাচের জানালা ও মার্বেল প্রাঙ্গণ আরও বেশি মোহময় হয়ে ওঠে। শীতের দিনে সকালের হালকা ঠান্ডায় মন্দির ঘুরে দেখা এক বিশেষ অভিজ্ঞতা।
/indian-express-bangla/media/media_files/2025/11/24/parashnath-temple-7-2025-11-24-18-32-21.jpg)
প্রতীকী স্থাপত্য
কলকাতার অনেক পুরোনো প্রতীকী স্থাপত্যের মত এই মন্দিরও শুধু পবিত্র স্থান নয়। এটি শহরের সাংস্কৃতিক অতীতের এক অমূল্য অংশ। বহু মানুষ প্রতিদিন এখানে প্রার্থনা করতে আসেন, আবার অনেকে আসেন স্থাপত্য ও শান্তির সৌন্দর্য উপভোগ করতে। নানা ভাষা, নানা মত, নানা বিশ্বাসের মানুষের মিলনস্থল এই মন্দির চত্বর। যা কলকাতাকে আবারও মনে করিয়ে দেয়—এই শহর বৈচিত্র্যের মাঝেই একাত্ম হয়ে থাকা শিখিয়েছে পৃথিবীকে।
/indian-express-bangla/media/media_files/2025/11/24/parashnath-temple-8-2025-11-24-18-33-02.jpg)
অনিন্দ্য সুন্দর গন্তব্য
পরেশনাথের জৈন মন্দির তাই শুধু ধর্মীয় আকর্ষণ নয়; এটি ভ্রমণপ্রিয় মানুষ, স্থাপত্যপ্রেমী এবং ফটোগ্রাফারদের জন্যও এক অনিন্দ্য সুন্দর গন্তব্য। কলকাতার সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন, শান্ত এবং ইনস্টা-ফ্রেন্ডলি জায়গাগুলির মধ্যে এটি নিঃসন্দেহে শীর্ষে। ব্যস্ত শহরের মধ্যে এই মন্দিরে এমন একটি আবহ খুঁজে পাওয়া সত্যিই এক অনন্য অভিজ্ঞতা, যার কথা মনে থেকে যাবে দীর্ঘদিন।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us