/indian-express-bangla/media/media_files/2025/11/20/pesticide-loaded-fruits-2025-11-20-16-28-06.jpg)
Pesticide Loaded Fruits: ফলের কীটনাশক শরীরের নানা ক্ষতি করে।
Pesticide Loaded Fruits: ফল স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় ফল থাকলে শরীর প্রয়োজনীয় ভিটামিন, খনিজ, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ফাইবার পায়, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। কিন্তু আধুনিক কৃষিকাজে অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহার করার ফলে অনেক ফলেই এখন ক্ষতিকর রাসায়নিকের উপস্থিতি দেখা যায়।
বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগ পরিচালিত প্রকল্প (USDA Pesticide Data Program) প্রতিবছর যে রিপোর্ট প্রকাশ করে, তাতে দেখা যায়—কিছু ফল নিয়মিতভাবেই উচ্চমাত্রার কীটনাশক দূষণের কারণে তালিকার শীর্ষে থাকে। এসব ফল নিয়মিতভাবে ধোয়া বা খোসা ছাড়ালেও অনেক সময় রাসায়নিক পুরোপুরি দূর হয় না। তাই কোন ফলগুলোতে সবচেয়ে বেশি কীটনাশক থাকে এবং কেন থাকে, তা জানা খুবই জরুরি।
আরও পড়ুন- শীতকালে ফাটা পায়ের গোড়ালি সারাতে ঘরে বসেই করুন এই সহজ রাতের প্রতিকার
বর্তমান কৃষিপদ্ধতিতে রোগ প্রতিরোধ, পোকামাকড় প্রতিরোধ এবং উৎপাদন বাড়ানোর উদ্দেশ্যে নানা ধরণের কীটনাশক ব্যবহার করা হয়। অনেক সময় ফসলের সংরক্ষণ বাড়াতে বা পরিবহনের সময় যাতে নষ্ট না হয়, সেই লক্ষ্যে ফল তোলার পরও রাসায়নিক স্প্রে করা হয়। এসব রাসায়নিক শরীরে গেলে দীর্ঘমেয়াদে ক্যানসার, হরমোনজনিত সমস্যা, কিডনির ক্ষতি, স্নায়বিক সমস্যার মত রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। USDA-এর টেস্ট রিপোর্ট অনুযায়ী, নীচের ছয়টি ফল নিয়মিতভাবেই সবচেয়ে বেশি কীটনাশকযুক্ত হিসেবে ধরা পড়ে।
আরও পড়ুন- এই ৫ বিরল প্রাণী, দেখা মেলে শুধু শীতেই!
স্ট্রবেরি
স্ট্রবেরি এই তালিকার এক নম্বরে থাকা ফল। এর নরম ও পাতলা খোসা রাসায়নিক শোষণ করে রাখে এবং সহজে ধুয়ে যায় না। স্ট্রবেরি অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় চাষের সময় প্রচুর ফাঙ্গিসাইড, ইনসেক্টিসাইড এবং হার্বিসাইড ব্যবহার করা হয়। ফলটি নষ্ট হওয়া রোধ করতে সংগ্রহের পরও প্রিজারভেটিভ রাসায়নিক দেওয়া হয়। ফলে নিয়মিত স্ট্রবেরি খেলে শরীরে ক্ষতিকর রাসায়নিক প্রবেশের সম্ভাবনা বেড়ে যায়।
আরও পড়ুন- মূলা খেলে গ্যাস হয়? কীভাবে খেলে হবে না, জেনে নিন আচার্য বালকৃষ্ণর থেকে
আপেল
আপেল এই তালিকার দ্বিতীয় স্থানে থাকার প্রধান কারণ এর পাতলা খোসা। আপেল সাধারণত খোসা-সহই খাওয়া হয়, ফলে খোসায় থাকা কীটনাশক সরাসরি শরীরে প্রবেশ করে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, আপেলের একটি নমুনায় প্রায়ই একাধিক ধরনের রাসায়নিক পাওয়া যায়। অনেক কৃষক আপেলের চাকচিক্য বাড়াতে ওয়াক্স ও কীটনাশক ব্যবহার করেন, যা ধুয়ে ফেললেও পুরোপুরি দূর হয় না।
আরও পড়ুন- ডাকহরকরা থেকে তিন কন্যা, প্রতিটি চরিত্রে অনন্য, তবুও কেন আত্মহত্যার কথা ভেবেছিলেন কালী ব্যানার্জি?
চেরি এবং আঙুর
চেরিও উচ্চমাত্রার রাসায়নিক বহনকারী ফলগুলোর মধ্যে অন্যতম। এতে এমন কিছু কীটনাশক পাওয়া যায় যা কিছু দেশে ইতিমধ্যেই নিষিদ্ধ। চেরির কোমল খোসা এবং পোকামাকড়ের প্রতি সংবেদনশীলতা এর অন্যতম কারণ। তাই বাণিজ্যিক চাষে প্রচুর রাসায়নিক ব্যবহার করা হয় যা ক্ষতিকর। আঙুরের ক্ষেত্রেও একই সমস্যা দেখা যায়, বিশেষ করে নন-অর্গানিক আঙুরে। আঙুর অনেকগুলো ছোট ছোট দলে বা ক্লাস্টারে জন্মায়, ফলে পোকামাকড় আক্রমণের আশঙ্কা বেশি থাকে। কৃষকরা তাই একাধিক কীটনাশক ব্যবহার করেন। অনেক সময় আঙুরের রং ও সতেজতা ধরে রাখতেও অতিরিক্ত রাসায়নিক প্রয়োগ করা হয়।
পিচ ফল এবং নাসপাতি
পিচ ফল (Peach) নরম খোসা এবং অতিরিক্ত মিষ্টতার কারণে কীটনাশকের শিকার হয় সহজেই। পিচ চাষে প্রচুর স্প্রে ব্যবহার করা হয় কারণ ফলটি দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। USDA রিপোর্টে দেখা যায়, পিচ প্রায়ই উচ্চ মাত্রার কীটনাশক বহন করে। শেষে রয়েছে নাসপাতি (Pear)। নাসপাতির ওপর সাধারণত বিভিন্ন ধরনের ফাঙ্গিসাইড ও ইনসেক্টিসাইড ব্যবহার করা হয়, যা ফল সংগ্রহের পরও দীর্ঘদিন থেকে যায়। বাণিজ্যিকভাবে সংরক্ষণ করার সময়ও নাশপাতিতে রাসায়নিক প্রয়োগ করা হয় যাতে এটি দীর্ঘসময় তাজা থাকে। ফলে ভোক্তাদের কাছে পৌঁছানো নাশপাতিতে উচ্চমাত্রায় কীটনাশক পাওয়া যায়।
অর্গানিক ফল কেনার চেষ্টা করা উচিত
এখন প্রশ্ন হলো—এই ফলগুলো কি পুরোপুরি এড়িয়ে চলতে হবে? উত্তর হল, না। তবে কিছু সতর্কতা অবশ্যই প্রয়োজন। ফল ভালোভাবে লবণ-জল বা বেকিং সোডা মিশ্রিত জলে ধুয়ে নেওয়া উচিত। সম্ভব হলে অর্গানিক ফল কেনার চেষ্টা করা উচিত। এমনকী স্থানীয় কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি ফল কিনলে রাসায়নিক ব্যবহারের মাত্রা কম থাকে। খোসা ছাড়িয়ে খাওয়ার পরামর্শও বিশেষজ্ঞরা দেন—যদিও এতে কিছু পুষ্টিগুণ কমে যায়, তবু রাসায়নিকের ঝুঁকিটা অন্তত কমে।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us