/indian-express-bangla/media/media_files/2025/12/16/piles-treatment-2025-12-16-17-15-20.jpg)
Piles Treatment: অর্শের চিকিৎসা।
Piles Treatment Naturally: বর্তমান সময়ের অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস এবং দীর্ঘ সময় বসে কাজ করার অভ্যাসের কারণে নানা ধরনের রোগ শরীরে বাসা বাঁধছে। তার মধ্যে অর্শ বা পাইলস একটি অত্যন্ত পরিচিত এবং কষ্টকর সমস্যা। চিকিৎসা বিজ্ঞানে একে হেমোরয়েডস বলা হলেও সাধারণ মানুষের কাছে এটি অর্শ বা পাইলস (Piles) অথবা অর্শের উপমাংস অর্থাৎ হেমোরয়ডাল ম্যাস (Hemorrhoidal mass) নামেই বেশি পরিচিত। এই রোগে মলদ্বারের ভেতরে বা বাইরে মাংসপিণ্ডের মত অংশ ফুলে ওঠে। যার ফলে ব্যথা, জ্বালা, চুলকানি এবং কখনও রক্তপাতও হতে পারে।
অর্শের প্রকারভেদ
অর্শ মূলত দুই ধরনের হয়ে থাকে। একটি হল শুকনো অর্শ, যেখানে ব্যথা ও ফোলা বেশি হলেও রক্তপাত হয় না। অন্যটি হল রক্তপাতযুক্ত অর্শ। প্রাথমিক পর্যায়ে অর্শ হলে ঘরোয়া উপায়ে অনেক সময়ই উপশম হতে পারে। তবে দীর্ঘদিন অবহেলা করলে গুরুতর আকার নিতে পারে সমস্যা।
আরও পড়ুন- শাড়ি পরলেও হতে পারে ক্যানসার? লক্ষণ জেনে সাবধানে থাকার পথ বাতলেছেন বিশেষজ্ঞরা
শুকনো অর্শের উপমাংস শুকিয়ে ফেলতে প্রথমেই দরকার মলদ্বারের ফোলা আর প্রদাহ কমানো। সে ক্ষেত্রে হালকা গরম জলে বসে থাকা অত্যন্ত কার্যকর একটি ঘরোয়া পদ্ধতি। নিয়মিত গরম জলে বসলে মলদ্বারের পেশি শিথিল হয়, রক্ত সঞ্চালন ভালো হয় এবং ব্যথা ও জ্বালা অনেকটাই কমে আসে। কেউ কেউ এই জলে সামান্য অ্যাপসাম লবণ বা আপেল সাইডার ভিনেগার মিশিয়ে ব্যবহার করেন, যা উপকার আরও বাড়াতে পারে।
আরও পড়ুন- ভেষজ পদ্ধতিতে খুশকি থেকে মুক্তি পাওয়ার ১৫টি ঘরোয়া উপায়, জানুন কারণ ও স্থায়ী সমাধান
অর্শের ব্যথা ও ফোলা হঠাৎ বেড়ে গেলে বরফ বা আইস প্যাক ব্যবহারেও সাময়িক স্বস্তি পাওয়া যায়। বরফ সরাসরি ত্বকে না লাগিয়ে একটি নরম কাপড়ে জড়িয়ে অর্শের জায়গায় ধরলে সেই অংশ কিছুটা অসাড় হয়ে যায় এবং ফোলা কমে। এতে যন্ত্রণা দ্রুত কমে আসে।
আরও পড়ুন- গর্বের মুহূর্ত, ৫৪তম বিজয় দিবসে ৭১-এর যুদ্ধবীরদের দেশজুড়ে শ্রদ্ধাঞ্জলি, স্মরণ সেনাবাহিনীর
উইচ হ্যাজেল নামের একটি প্রাকৃতিক উপাদান অর্শের চিকিৎসায় বহুদিন ধরেই ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এর মধ্যে প্রদাহ কমানোর এবং ক্ষত শুকানোর ক্ষমতা রয়েছে। তুলোয় বিশুদ্ধ উইচ হ্যাজেলের রস নিয়ে অর্শের ওপর আলতো করে লাগালে চুলকানি এবং জ্বালা কমে যেতে পারে। নারকেল তেলও অর্শের ক্ষেত্রে বেশ উপকারী। এটি প্রাকৃতিকভাবে ত্বক আর্দ্র রাখে এবং জ্বালা কমাতে সাহায্য করে। নিয়মিত নারকেল তেল ব্যবহার করলে মলদ্বারের চামড়া নরম হয়ে যায় এবং চুলকানির প্রবণতাও কমে আসে।
আরও পড়ুন- উদ্বেগে ভুগছেন? কমাতে সবচেয়ে কাজের সহজ উপায় এগুলোই
অ্যালোভেরা বা ঘৃতকুমারীর পাতা অর্শের চিকিৎসায় বহুল ব্যবহৃত একটি প্রাকৃতিক উপাদান। এর রস প্রদাহ কমায়, ক্ষত সারাতে সাহায্য করে এবং জ্বালা প্রশমিত করে। অর্শের জায়গায় অ্যালোভেরার রস লাগালে অনেক সময় দ্রুত আরাম পাওয়া যায়। যদি ঘরোয়া উপায়ে আরাম না মেলে, তবে চিকিৎসকের পরামর্শে কিছু ওষুধ বা ক্রিম ব্যবহার করা যেতে পারে। ফোলা এবং ব্যথা কমাতে উপযুক্ত ওষুধ এবং হালকা স্টেরয়েডযুক্ত ক্রিম সাময়িক স্বস্তি দিতে পারে। তবে নিজে ওষুধ ব্যবহার না করে অবশ্যই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
/filters:format(webp)/indian-express-bangla/media/media_files/2025/12/16/piles-treatment-jpg-1-2025-12-16-17-18-05.jpg)
অর্শ সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণে আনতে খাদ্যাভ্যাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নিয়মিত উচ্চ ফাইবারযুক্ত খাবার খেলে মল নরম থাকে এবং মলত্যাগ সহজ হয়। পর্যাপ্ত জল পান না করলে কোষ্ঠকাঠিন্য বাড়ে, যা অর্শের সমস্যা আরও তীব্র করে তোলে। তাই জল, ফলের রস ও হালকা তরল খাবার বেশি করে খাওয়া প্রয়োজন। অন্যদিকে অতিরিক্ত মশলাদার খাবার, ফাস্ট ফুড, চিজ, লাল মাংস, অ্যালকোহল এবং ধূমপান অর্শের সমস্যা বাড়াতে পারে। এই ধরনের খাবার খাওয়ার অভ্যাস যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলাই ভালো।
হালকা অর্শ সাধারণত এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যে সেরে যেতে পারে যদি সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও চিকিৎসা করা হয়। তবে দীর্ঘদিন ধরে সমস্যা চলতে থাকলে বা ব্যথা অসহনীয় হয়ে উঠলে সার্জনের পরামর্শ প্রয়োজন হতে পারে। আধুনিক চিকিৎসায় লেজার পদ্ধতিতে অর্শের চিকিৎসা খুবই কার্যকর এবং তুলনামূলকভাবে কম কষ্টকর। সব মিলিয়ে বলা যায়, অর্শ সাধারণ হলেও তার অবহেলা জটিল রোগে পরিণত হতে পারে। প্রাথমিক অবস্থাতেই সঠিক যত্ন, ঘরোয়া চিকিৎসা ও জীবনযাত্রার পরিবর্তনের মাধ্যমে এই সমস্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us