/indian-express-bangla/media/media_files/2025/11/19/bird-2025-11-19-11-55-49.jpg)
Bird: প্রাণীজগৎ সত্যিই বৈচিত্র্যময়! যা বারবার বুঝিয়ে দেয়, বিপুল এই পৃথিবীর সামান্যটুকুই আমরা জানি!
Platypus Venom: নাম শুনলে প্রথমেই মনে পড়ে এমন এক প্রাণীর কথা, যা পৃথিবীর সবচেয়ে অদ্ভুত স্তন্যপায়ীদের মধ্যে অন্যতম। অস্ট্রেলিয়ার নদী আর মিঠে জলের খালে এই প্রাণী ডিম পাড়ে, মুখে ঠোঁটের মতো অংশ রয়েছে, জলের নীচে বৈদ্যুতিক সংকেত অনুভব করতে পারে। একইসঙ্গে বিষও ছাড়তে পারে।
বিস্ময়কর প্রাণী
এই বিস্ময়কর প্রাণীই হল প্ল্যাটিপাস। কিন্তু এই প্রাণীর নাম অনেকেই জানেন না। সবচেয়ে বিপজ্জনক দিক হল, এর যে বিষ আছে, তার যে কোনও প্রতিষেধক আজও তৈরি হয়নি, সেটাও অনেকেরই অজানা। পৃথিবীতে বিষাক্ত প্রাণী বলতে আমরা সাধারণত সাপ, বিছে বা মাকড়সার কথা ভাবি। তাই প্ল্যাটিপাসের কথা কারও মাথাতেই আসে না। আর, স্তন্যপায়ী প্রাণীদের মধ্যে এরকম বিষপ্রয়োগের ক্ষমতা খুব কমই দেখা যায়।
আরও পড়ুন- শোবার ঘরে ভুলেও এই জিনিসগুলো রাখবেন না, ছড়াবে অশান্তি!
পুরুষ প্ল্যাটিপাসের পিছনের পায়ের গোড়ায় তিক্ষ্ণ কাঁটা থাকে। যা দেখতে সাধারণ গাছের কাঁটার মতো হলেও এতে লুকিয়ে থাকে একটি জটিল বিষগ্রন্থি। এই গ্রন্থি প্রজননমূলক সময়ে আরও শক্তিশালী হয় এবং তখনই পুরুষ প্ল্যাটিপাস অন্য পুরুষদের সঙ্গে লড়াই করতে এই বিষ ব্যবহার করে। অর্থাৎ এই বিষ শিকার ধরার জন্য নয়, বরং প্রতিদ্বন্দ্বীকে দুর্বল করার জন্য তৈরি।
আরও পড়ুন- সুরের আলোর পথযাত্রী, জন্মদিনে সলিল চৌধুরীর জীবনের নানা অজানা দিক স্মরণ
যদি কোনও মানুষ বা প্রাণী এই বিষের সংস্পর্শে আসে, তা হলে তার ব্যথার তীব্রতা এতটাই বেশি হয় যে তা সহ্য করা যায় না। যাঁরা প্ল্যাটিপাসের বিষে আক্রান্ত হয়েছেন, তাঁদের মধ্যে অনেকে বলেছেন যে এই যন্ত্রণা সাধারণ হাড় ভেঙে যাওয়ার ব্যথার চেয়েও বেশি। কোনও কোনও ক্ষেত্রে এই যন্ত্রণা কয়েক সপ্তাহ বা কয়েক মাস পর্যন্ত স্থায়ী হয়েছে। আরও বিস্ময়ের ব্যাপার হল, প্রচলিত ব্যথানাশক ওষুধ যেমন মরফিন এই ব্যথা কমাতে পারে না। বিষটি শরীরের স্নায়ুতন্ত্রকে এমনভাবে প্রভাবিত করে যে সাধারণ ব্যথানাশক ওষুধের প্রয়োগে কোনও লাভই হয় না।
আরও পড়ুন- বিশ্বের ৬টি ঐতিহাসিক রেলওয়ে স্টেশন, এগুলো আজ পুরোপুরি হোটেল
বিজ্ঞানীরা অনেক দিন ধরেই প্ল্যাটিপাসের এই বিষ নিয়ে গবেষণা করছেন। যেটি জানা গেছে তা হল, এই বিষে অন্তত ১৯ ধরনের বিশেষ রাসায়নিক উপাদান রয়েছে। যার মধ্যে কিছু উপাদানের কোনও পরিচিত বৈজ্ঞানিক নাম পর্যন্ত নেই। আরও আশ্চর্যের বিষয় হল, এই উপাদানগুলির মধ্যে একটি এমন ধরনের অ্যামাইনো অ্যাসিড রয়েছে যা সাধারণত প্রাণীজ জগতে দেখা যায় না। এই অদ্ভুত গঠনই বিজ্ঞানীদের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রতিষেধক তৈরি করার ক্ষেত্রে। যেহেতু এই বিষ অন্যান্য প্রাণীর বিষের সঙ্গে কোন মিল খুঁজে পাওয়া যায় না, তাই প্রতিষেধক তৈরির প্রচলিত পদ্ধতিও এখানে কাজ করছে না।
আরও পড়ুন- সেনাবাহিনী নেই, বিশ্বের এই ৫ দেশ কীভাবে কাটায় চরম শান্তিতে?
অনেকে ভাবতে পারেন, এই প্রাণীর বিষ এত বিপজ্জনক হলে মানুষ কেন বেশি আক্রান্ত হয় না। এর প্রধান কারণ হল, প্ল্যাটিপাস খুব শান্ত স্বভাবের প্রাণী এবং সাধারণত মানুষের সংস্পর্শে আসে না। শুধুমাত্র পুরুষ প্ল্যাটিপাস প্রজনন মরশুমে আগ্রাসী হয়ে ওঠে এবং তখনই তারা বিষ প্রয়োগ করতে পারে। তাই আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা অত্যন্ত বিরল, যা প্রতিষেধক তৈরির গবেষণাকে আরও জটিল করে তুলেছে।
/filters:format(webp)/indian-express-bangla/media/media_files/2025/11/19/platypus-2025-11-19-11-46-53.jpg)
তবে এই বিষ অদ্ভুত শুধুমাত্র তা ভয়ংকর জন্য নয়। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, এই বিষ চিকিৎসাক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিতে পারে। গবেষকরা দেখেছেন, প্ল্যাটিপাসের বিষে এমন কিছু উপাদান রয়েছে যা মানুষের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা বোঝার ক্ষেত্রে নতুন দিশা দেখাতে পারে। এর মধ্যে একটি রাসায়নিক মানুষের ডায়াবেটিস চিকিৎসায় ব্যবহৃত এক প্রোটিনের মত কাজ করে, তবে এর স্থায়িত্ব অনেক বেশি। এক অর্থে বলা যায়, যে বিষ আজ মানুষের ব্যথা বাড়ায়, ভবিষ্যতে সেই বিষই মানুষের ব্যথা কমানোর আবিষ্কারে সাহায্য করতে পারে।
প্রকৃতি মাঝে মাঝে এমন কিছু বিস্ময়কর জিনিস উপহার দেয়, যা আমাদের পূর্বধারণাকে ভেঙে নতুন প্রশ্নের জন্ম দেয়। প্ল্যাটিপাস তেমনই একটি প্রাণী। এর অদ্ভুত জৈবিক গঠন, আচরণ এবং বিষের অনন্য বৈশিষ্ট্য একে পৃথিবীর অন্যতম রহস্যময় প্রাণীতে পরিণত করেছে। যদিও আজও এর বিষের প্রতিষেধক তৈরি করা যায়নি, তবে গবেষণা অব্যাহত রয়েছে এবং ভবিষ্যতে হয়তো এই রহস্যময় প্রাণী মানবজাতিকে চিকিৎসাক্ষেত্রে নতুন দিশা দেখাতে পারে।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us