Pollution Fighting Foods: দূষণে শ্বাসকষ্ট বাড়ছে, ফুসফুস সুস্থ রাখবে এই সাধারণ ফল, সবজি

Pollution Fighting Foods: বায়ুদূষণে দুর্বল ফুসফুসকে শক্তিশালী রাখতে জানুন কোন ফল ও সবজি শরীরের অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমিয়ে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় ও শ্বাসপ্রশ্বাস প্রক্রিয়াকে সহজ করে।

Pollution Fighting Foods: বায়ুদূষণে দুর্বল ফুসফুসকে শক্তিশালী রাখতে জানুন কোন ফল ও সবজি শরীরের অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমিয়ে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় ও শ্বাসপ্রশ্বাস প্রক্রিয়াকে সহজ করে।

author-image
Chinmoy Bhattacharjee
New Update
Indian Vegetable Market: ভারতীয় সবজি বাজার।

Indian Vegetable Market: ভারতীয় সবজি বাজার।

Pollution Fighting Foods: শীত পড়তেই দেশজুড়ে বায়ুদূষণ বেড়ে যায় এবং সেই সঙ্গে বাড়তে থাকে শ্বাসকষ্ট, কাশি, অ্যালার্জি ও ফুসফুসজনিত নানা সমস্যা। বিশেষজ্ঞদের মতে, দূষণের ক্ষতিকর কণাগুলো আমাদের ফুসফুসে ঢুকে শরীরে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস বাড়ায়, যার ফলে কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং দীর্ঘমেয়াদে শ্বাসপ্রশ্বাসের ক্ষমতা কমে যায়। এই অবস্থায় বাইরে বের হলে ভালো মানের মাস্ক পরা যেমন দরকার, তেমনই দরকার খাদ্যাভ্যাসে এমন কিছু ফল ও সবজি যুক্ত করা যা শরীরকে ভিতর থেকে শক্তিশালী করে। কারণ পুষ্টিবিদরা বলছেন, দূষণের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট-সমৃদ্ধ খাদ্য শরীরকে যথেষ্ট সুরক্ষা দেয়। তাই দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় কিছু নির্দিষ্ট খাবার যোগ করলে ফুসফুসের কার্যক্ষমতা বাড়ে, শ্বাসনালিতে জমে থাকা মিউকাস কমে এবং শরীরের স্বাভাবিক প্রতিরোধশক্তি বৃদ্ধি পায়।

Advertisment

ব্রকোলি এবং অন্যান্য ক্রুসিফেরাস সবজি এই তালিকায় প্রথম। ব্রকোলিতে থাকা সালফোরাফেন শরীর থেকে ক্ষতিকর বেঞ্জিনের মতো দূষক পদার্থ বের করে দিতে সাহায্য করে। বেঞ্জিন বায়ুদূষকের মধ্যে অন্যতম ভয়ংকর টক্সিন, যা দীর্ঘদিন শরীরে গেলে ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে। ব্রকোলির ভিটামিন-সি ও বিটা-ক্যারোটিন শরীরে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে, ফলে ফুসফুসের কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া থেকে রক্ষা পায়। গবেষণা বলছে, ব্রকোলির অঙ্কুরে এই সালফোরাফেনের পরিমাণ সাধারণ ব্রকোলির তুলনায় বহু গুণ বেশি থাকে, তাই সালাদ বা স্মুদির সঙ্গে এগুলোও যোগ করা যেতে পারে।

আরও পড়ুন- সন্ন্যাসী রাজা'র গানে রাধাকান্ত লিখেও তাঁর প্রতিবাদে বদলে শশীকান্ত লিখতে বাধ্য হয়েছিলেন গীতিকার

Advertisment

শীতকালীন পাতা বা সবজির অন্যতম সর্ষে শাক। যা ফুসফুসের জন্য অত্যন্ত উপকারী। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন-এ ও ভিটামিন-সি, যা কোষের প্রদাহ কমিয়ে শ্বাসনালিকে পরিষ্কার রাখে। এছাড়া শাকে থাকা প্রোবায়োটিক ফাইবার অন্ত্রে উপকারী ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা বাড়ায়, যার ফলে হজমশক্তি বাড়ে, শরীরে পুষ্টি শোষণ ভালো হয় এবং ইমিউনিটি আরও শক্তিশালী হয়। বায়ুদূষণের সময় যেহেতু শরীরের ওপর বাড়তি চাপ পড়ে, তাই হজম ও রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা ভালো থাকা খুবই জরুরি।

আরও পড়ুন- বহু অলৌকিক কাহিনির সাক্ষী, ৬০০ বছরের ইতিহাস বসিরহাট সংগ্রামপুর কালীবাড়ির

আমলা বা আমলকি একটি প্রাকৃতিক ভিটামিন-সি পাওয়ারহাউস। দিনে মাত্র একটি অমলাকী শরীরের ভিটামিন-সি এর চাহিদার বড় অংশ পূরণ করে। দূষণের কারণে শরীরে যে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস তৈরি হয়, সেই স্ট্রেস কমিয়ে ফুসফুসের টিস্যু রক্ষা করে আমলকি। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে এটি ফ্রি-র‌্যাডিকাল ধ্বংস করে, শ্বাস নেওয়া সহজ করে এবং ফুসফুসের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। বিশেষজ্ঞরা বলেন, দূষণ বাড়লে প্রতিদিন আমলকি খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা অত্যন্ত প্রয়োজন।

আরও পড়ুন- ঘুম পাচ্ছে না? এটা থাকলেই আপনার গাঢ় ঘুম আসবে চটপট!

রামফল একটি কম পরিচিত কিন্তু অত্যন্ত পুষ্টিকর ফল, বিশেষত দূষণের মরশুমে এই ফলের উপকারিতা বিরাট। এতে ভিটামিন-সি, ভিটামিন-বি৬, ম্যাগনেশিয়াম, পটাশিয়াম এবং ফাইবার রয়েছে, যা শরীরকে ভিতর থেকে শক্তি জোগায়। রামফলের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট কোষকে দূষণের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করে এবং এর লো গ্লাইসেমিক ইনডেক্স রক্তে অতিরিক্ত শর্করার বৃদ্ধি আটকায়। ফলে এটি ডায়াবেটিক-বান্ধব ফল হিসেবেও বিশেষভাবে পরিচিত। শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে রামফল সত্যিই বেশ কাজের।

আরও পড়ুন- খুব কম খরচে দেখান ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘ হাসপাতালে, জেনে নিন কোন ডাক্তার কবে বসেন

টমেটো ফুসফুসের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ খাবার। টমেটোতে রয়েছে লাইকোপেন নামে এক শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা ফুসফুসের কোষের ক্ষয় কমাতে সাহায্য করে। টমেটো শরীরে প্রদাহ কমায়, শ্বাসনালি পরিষ্কার রাখে এবং অ্যাজমা বা হাঁপানির মতো শ্বাসপ্রশ্বাসজনিত সমস্যার ঝুঁকি কমায়। সালাড, স্যুপ, তরকারি বা জুস– যেভাবেই খান না কেন, দূষণের সময় টমেটো নিয়মিত খাওয়া অত্যন্ত দরকারি।

আদা এমন একটি উপাদান যা শ্বাসনালি পরিষ্কার রাখতে অনন্য। এতে থাকা অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান প্রদাহ কমায়, শ্বাসনালিতে জমে থাকা মিউকাস ভেঙে দেয় এবং শ্বাস নেওয়া সহজ করে। আদা শরীরের স্ট্রেস-রেসপন্স সিস্টেমকেও শক্তিশালী করে, যার ফলে দূষণের চাপ সহ্য করার ক্ষমতা বেড়ে যায়। সকালে গরম জলের সঙ্গে আদা বা রান্নায় আদা-ব্যবহার—দুটিই ফুসফুসের স্বাস্থ্যের জন্য ভালো।

হলুদ বা টারমেরিক দূষণ-প্রতিরোধী খাদ্যের মধ্যে অন্যতম। হলুদের কারকিউমিন শরীরের প্রদাহ কমায়, কোষকে অক্সিডেটিভ ক্ষতি থেকে রক্ষা করে এবং শ্বাসনালিকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। দূষণের প্রভাবে শরীরে যে ইমিউনিটি কমে যায়, কারকিউমিন সেই রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।

কমায় হাঁপানির ঝুঁকি

শেষে আসে ফ্ল্যাক্সসিড বা তিসি বীজ। এতে রয়েছে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড এবং লিগন্যান, যা শরীরে প্রদাহ কমায়, ফুসফুসের কোষ সুস্থ রাখে এবং অ্যাজমা বা হাঁপানি-জাতীয় সমস্যার ঝুঁকি কমায়। দূষণের ধোঁয়া-ধুলো থেকে শরীরকে রক্ষা করতে ওমেগা-৩ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি শ্বাসনালিতে প্রদাহ কমায় এবং শ্বাসযন্ত্রের বা ব্রঙ্কিয়াল ফাংশন উন্নত করে। সকালের স্মুদি, দই, সালাদ বা ওটসে ফ্ল্যাক্সসিড যোগ করলে সহজেই এর উপকারিতা পাওয়া যায়।

দূষণের সময় শুধু মাস্ক নয়, সঠিক খাদ্যাভ্যাসও ফুসফুসকে শক্তিশালী রাখতে বড় ভূমিকা পালন করে। তাই প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট-সমৃদ্ধ এই ফল ও সবজি যোগ করলে শরীর দূষণের চাপ ভালোভাবে সামলাতে পারে এবং শ্বাসপ্রশ্বাস থাকে স্বস্তিদায়ক।

Pollution foods