/indian-express-bangla/media/media_files/2025/04/19/BAwE3LnqEW9QmouiVgDP.jpg)
Vegetables: শাক-সবজি।
Potato Juice for Skin Brightening: সুস্থ, উজ্জ্বল ও দাগহীন ত্বক পাওয়ার ইচ্ছা প্রায় সবারই থাকে। এই কারণেই কেউ দামি স্কিন কেয়ার প্রোডাক্ট ব্যবহার করেন, আবার অনেকেই ভরসা রাখেন ঘরোয়া উপায়ের ওপর। সাম্প্রতিক সময়ে এমনই একটি ঘরোয়া উপায় হিসেবে আলোচনায় এসেছে মুখে আলুর রস লাগানো। সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে ইউটিউব ও ব্লগে নানা দাবি দেখা যায়। কিন্তু সত্যিই কি আলুর রস ত্বক উজ্জ্বল করতে পারে? নাকি এটি সাময়িক এক ধরনের ভিজ্যুয়াল ইফেক্ট মাত্র। এই প্রশ্নের উত্তর জানতে হলে বিশেষজ্ঞদের মতামত জানা জরুরি।
চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে
চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, আলুতে প্রাকৃতিকভাবে অ্যাজেলেইক অ্যাসিডের উপস্থিতি রয়েছে। এই উপাদানটি চিকিৎসাবিজ্ঞানে হাইপারপিগমেন্টেশন, ব্রণের দাগ এবং অসম ত্বকের রং কমাতে ব্যবহৃত হয়। সেই কারণেই আলুর রস মুখে লাগালে ত্বক কিছুটা উজ্জ্বল ও সতেজ দেখাতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞরা স্পষ্টভাবে জানাচ্ছেন যে এটি কোনও স্থায়ী স্কিন ব্রাইটেনিং সমাধান নয়। নিয়মিত ব্যবহারের পরও এর ফলাফল দীর্ঘদিন শরীরে থাকে না।
আরও পড়ুন- প্রতিদিন খাবারে থাকুক এই সবজি, কোষ্ঠকাঠিন্য দৌড়ে পালাবে!
এই প্রসঙ্গে জনপ্রিয় ত্বক বিশেষজ্ঞ বিজ্ঞানী আঁচল পন্থ জানিয়েছেন, বেশিরভাগ সুস্থ ত্বকের ক্ষেত্রে মুখে আলুর রস লাগানো সাধারণত নিরাপদ। এটি ত্বকের জন্য ক্ষতিকর নয়, তবে এর থেকে অলৌকিক পরিবর্তন আশা করা উচিত নয়। আলুর রস ব্যবহারের পর ত্বক কিছু সময়ের জন্য ফ্রেশ ও উজ্জ্বল দেখালেও কয়েক ঘণ্টা বা এক-দু’দিনের মধ্যেই সেই প্রভাব কমে যায়। মূলত এটি ত্বকের উপরিভাগে হালকা এক ধরনের কুলিং ও টাইটেনিং ইফেক্ট তৈরি করে।
আরও পড়ুন- ট্রেডমিলে এই পথে হাঁটলেই কমবে পেটের মেদ? জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞ
আলুর রস ব্যবহারের সঠিক পদ্ধতিও এখানে গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, কাঁচা আলু ভালোভাবে ধুয়ে রস বের করে একটি তুলোর প্যাডে নিয়ে মুখে লাগানো যেতে পারে। এটি প্রায় পঁচিশ থেকে ত্রিশ মিনিট রেখে সাধারণ জল দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হয়। এরপর অবশ্যই একটি হালকা ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা জরুরি, কারণ আলুর রস ত্বককে কিছুটা শুষ্ক করে দিতে পারে। সংবেদনশীল ত্বকের ক্ষেত্রে আগে প্যাচ টেস্ট করা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
আরও পড়ুন- এই ৫টি ভালো অভ্যাস ক্যান্সারের আশঙ্কা কমাতে পারে, জানিয়েছে হু
শুধু ত্বক উজ্জ্বল করাই নয়, চোখের নীচের ফোলাভাব কমাতেও আলু ব্যবহারের কথা বলেন অনেক চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ। ঠান্ডা আলুর টুকরো কিছুক্ষণ চোখের ওপর রাখলে রক্তনালীর সংকোচন ঘটে এবং ফোলাভাব কমে যেতে পারে। এর ফলে চোখের চারপাশ কিছুটা ফ্রেশ দেখায় এবং ডার্ক সার্কেলের উপস্থিতিও সাময়িকভাবে হালকা হতে পারে। তবে এটিও কোনও স্থায়ী চিকিৎসা নয়, বরং একটি অস্থায়ী আরাম দেওয়ার পদ্ধতি।
আরও পড়ুন- তুলসী পাতা এভাবে ব্যবহার করুন, ব্রণ দূর করে মুখ হবে স্বাভাবিক উজ্জ্বল
এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার করে বোঝা জরুরি যে আলু কোনও মেডিক্যাল ট্রিটমেন্টের বিকল্প নয়। যদি ত্বকে দীর্ঘদিনের দাগ, মেলাজমা বা তীব্র পিগমেন্টেশন থাকে, তাহলে শুধুমাত্র ঘরোয়া উপায়ে তার সমাধান সম্ভব নয়। সে ক্ষেত্রে অবশ্যই চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। আলুর রস সেখানে সহায়ক হিসেবে কাজ করতে পারে, কিন্তু এটা চিকিৎসা নয়। সেটা মনে রাখা উচিত।


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us