/indian-express-bangla/media/media_files/2025/12/04/protein-rich-fruit-2025-12-04-16-13-30.jpg)
Protein Rich Fruit: প্রোটিন সমৃদ্ধ ফল।
Protein Rich Fruit: খাবার আর ফল দিয়েই শরীর ঠিক রাখতে সবাই চান। হুঁ থেকে টুঁ করতে যাতে ডাক্তারের কাছে ছুটতে না হয়, সেটাই কাম্য। আর, সেজন্য দরকার সঠিক পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ খাবার। বর্তমানে প্রায় প্রতিটি ঘরে কেউ না কেউ রক্তচাপের সমস্যায় ভোগেন। বাড়িতে কেউ না কেউ হৃদরোগে ভুগছেন, এমন পরিবারও অজস্র।
আর, এক্ষেত্রে পারফেক্ট হতে পারে কিউই। এই ছোট সবুজ রঙের ফলের বিরাট পুষ্টিগুণ। অনেকেই কিউই শুধুমাত্র স্বাদের জন্য খান, কিন্তু এই ফলের ভেতরে লুকিয়ে রয়েছে শরীরের অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ভিটামিন, খনিজ, ফাইবার আর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। কিউইকে প্রোটিনসমৃদ্ধ ফল বলা হয় কারণ এতে সাধারণ ফলের তুলনায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ প্রোটিন থাকে। একটি মাঝারি কিউইতে প্রায় ১.১ গ্রাম প্রোটিন। যা আপেল, কমলা বা কলার তুলনায় অনেকটাই বেশি। তাই এটি শীতকালে শক্তি বাড়ানো, পেশী শক্তিশালী করা এবং দুর্বলতা দূর করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত কার্যকর।
আরও পড়ুন- বয়স ৪০, ক্লান্ত লাগে? নিন এই জিনিস নিজেই বুঝবেন, বদলে গেছে হালচাল!
বিশেষজ্ঞদের মতে কিউইতে অ্যাক্টিনিডিন নামে একটি বিশেষ এনজাইম থাকে, যা খাবারের সঙ্গে শরীরে প্রবেশ করা প্রোটিন দ্রুত ভাঙতে সাহায্য করে এবং হজম প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী করে। অর্থাৎ আপনি যে প্রোটিন খাচ্ছেন, কিউই তা ভালোভাবে ভেঙে শরীরে কাজে লাগতে সাহায্য করে। ফলে পেশী পুনরুদ্ধার দ্রুত হয়, শরীর ক্লান্তি কম অনুভব হয় এবং শক্তির ঘাটতি পূরণ হয়। কিউইতে উপস্থিত ভিটামিন সি, ভিটামিন কে, পটাশিয়াম, ফাইবার, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট মিলিতভাবে শরীরকে আরও শক্তিশালী করে।
আরও পড়ুন- রোগা হতে চান? ফলো করুন অভিনেত্রী অদিতি রাও হায়দারির এই রুটিন, দিনে মাত্র ৩ বার
হৃদরোগীদের জন্য কিউই সত্যিই অমৃতের মত কাজ করে। কারণ কিউই রক্তে জমে থাকা খারাপ কোলেস্টেরল কমায় এবং রক্ত পাতলা রাখতে সাহায্য করে। পটাশিয়াম সোডিয়ামের প্রভাব কমিয়ে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে, ফলে হৃদয় বা হার্টের ওপর চাপ কমে এবং হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়। নিয়মিত কিউই খেলে রক্ত জমাট বাঁধার সমস্যা কমে এবং রক্ত সঞ্চালন ভালো থাকে, যা হৃদরোগীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আরও পড়ুন- এই ছ’টি খাবার আমাদের হার্টের স্বাস্থ্যের জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকারক
হজম শক্তি দুর্বল হলে শরীর ভারী লাগে, বিশেষ করে শীতকালে কোষ্ঠকাঠিন্য, অ্যাসিডিটি ও গ্যাসের সমস্যা বেড়ে যায়। কিউইয়ে থাকা ফাইবার ও অ্যাক্টিনিডিন এনজাইম পেটকে হালকা রাখতে সহায়তা করে। এটি খাবার দ্রুত ভেঙে হজমে সাহায্য করে। ফলে পেটের সমস্যা কমে এবং হজম প্রক্রিয়া শক্তিশালী হয়। প্রতিদিন একটি কিউই খেলে পেট পরিষ্কার থাকে এবং শরীর সারাদিন প্রাণবন্ত অনুভব করে।
আরও পড়ুন- কীভাবে সহজে আপনার শরীর পেতে পারে ভিটামিন বি১২, জানুন চিকিৎসকদের মত
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার ক্ষেত্রেও কিউই অত্যন্ত কার্যকর। এতে প্রচুর ভিটামিন সি আছে। যা শরীরকে সর্দি-কাশি, ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া এবং মরশুমি সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে। ভিটামিন সি কোলাজেন তৈরি করতেও সাহায্য করে, যা শরীরের বিভিন্ন টিস্যু পুনরুদ্ধার করে এবং দুর্বলতা কমায়। তাই শীতকালে প্রতিদিন কিউই খেলে ইমিউনিটি অনেকটাই বাড়বে।
কিউই শরীরে শুধু প্রোটিনের জোগানই দেয় না। শরীরে প্রোটিনের ব্যবহারও বাড়ায়। ফলে শরীর আরও শক্তিশালী হয় এবং ক্লান্তি কমে যায়। এটি টিস্যু মেরামত করতে সাহায্য করে। যা পেশী ও হাড়ের স্বাস্থ্যের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যাঁরা নিয়মিত ব্যায়াম করেন বা শরীরে দুর্বলতা অনুভব করেন, প্রতিদিন কিউই খেলে তাঁদের শক্তি বাড়বে। বৃদ্ধি পাবে স্থিতিশীলতাও।
ত্বকের ভিতরের কোষকে রক্ষা করে
শুধু তাই নয়, কিউই চেহারার জন্যও উপকারি। এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান ত্বকের ভিতরের কোষকে রক্ষা করে, বার্ধক্যের ছাপ কমায় এবং ত্বককে উজ্জ্বল করে। শীতকালে ত্বক শুষ্ক হয়ে যায়, কিউই খেলে ত্বক ভেতর থেকে আর্দ্র থাকে। সর্বোপরি বলা যায়, এই ছোট সবুজ ফলটিই হতে পারে আপনার দৈনিক শক্তির বড় উৎস। এটি শুধু প্রোটিনের ঘাটতিই পূরণ করে না, বরং পুরো শরীরকে ভিতর থেকে সুস্থ এবং সতেজ রাখে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে প্রতিদিন ১টি কিউই খেলে শরীরের সার্বিক স্বাস্থ্য অনেকটাই উন্নত হয়।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us