Pulsatile Tinnitus: বাঁ কানে ‘শোঁ শোঁ’ শব্দ, কেন শোনা যায়, কখন এটি বিপজ্জনক হতে পারে?

Pulsatile Tinnitus: কানে হৃদস্পন্দনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে শোঁ শোঁ বা ধকধক শব্দ শুনছেন? এটি কি বিপজ্জনক? পালসেটাইল টিনিটাসের কারণ, লক্ষণ, চিকিৎসা সম্পর্কে সহজ বাংলায় জানুন।

Pulsatile Tinnitus: কানে হৃদস্পন্দনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে শোঁ শোঁ বা ধকধক শব্দ শুনছেন? এটি কি বিপজ্জনক? পালসেটাইল টিনিটাসের কারণ, লক্ষণ, চিকিৎসা সম্পর্কে সহজ বাংলায় জানুন।

author-image
Chinmoy Bhattacharjee
New Update
Pulsatile Tinnitus: কানে শোনা যায় প্রবাহের শব্দ।

Pulsatile Tinnitus: কানে শোনা যায় প্রবাহের শব্দ।

Pulsatile Tinnitus: হঠাৎ করে কানে শোঁ শোঁ শব্দ, যেন রক্তপ্রবাহের আওয়াজ বা হৃদস্পন্দনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ধকধক কিছু হচ্ছে—এই অভিজ্ঞতা অনেকের কাছেই ভীতিকর মনে হতে পারে। বিশেষ করে যদি শব্দটি কেবল একটি কানে, যেমন বাঁ কানে, স্পষ্টভাবে শোনা যায়, তাহলে উদ্বেগ আরও বাড়ে। সাধারণত আমরা কানে ভোঁ ভোঁ বা ঝিঁ ঝিঁ শব্দের কথা শুনে থাকি, যাকে টিনিটাস বলা হয়। তবে কিছু ক্ষেত্রে এই শব্দ হৃদস্পন্দনের সঙ্গে মিলিয়ে ওঠানামা করে, যা সাধারণ টিনিটাসের থেকে আলাদা।

Advertisment

চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এই সমস্যাকে বলা হয় পালসেটাইল টিনিটাস। এটি টিনিটাসের একটি তুলনামূলকভাবে বিরল ধরন। এই অবস্থায় আক্রান্ত ব্যক্তি এমন একটি শব্দ শোনেন, যা আশপাশের কেউ শুনতে পান না। শব্দটি কখনও শোঁ শোঁ, কখনও ধকধক, আবার কখনও রক্ত চলাচলের মতো অনুভূত হয় এবং বেশিরভাগ সময় তা হৃদস্পন্দনের সঙ্গে মিল রেখে শোনা যায়।

আরও পড়ুন- শীতের সকালে এক্সারসাইজ? পড়তে পারেন বিপদে, জানুন স্মার্ট হ্যাকস

বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক ক্ষেত্রেই এই ধরনের শব্দের কারণ খুব সাধারণ হতে পারে। কানে অতিরিক্ত ময়লা জমে গেলে, কানের মধ্যে তরল জমা হলে বা হালকা সংক্রমণ হলে বাইরের শব্দ কম শোনা যায়। তখন শরীরের ভেতরের রক্তপ্রবাহের আওয়াজ বেশি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। বিশেষ করে কানের আশপাশ দিয়ে যেসব ধমনি ও শিরা চলে গেছে, সেখানে রক্ত চলাচলের শব্দ কানে ধরা পড়ে।

আরও পড়ুন- হার্ট সার্জারির আগে হৃদরোগীদের অবশ্যই জানা উচিত এসব জরুরি বিষয়

তবে সব ক্ষেত্রে বিষয়টি এত সহজ নয়। কিছু শারীরিক সমস্যাও পালসেটাইল টিনিটাসের জন্য দায়ী হতে পারে। উচ্চ রক্তচাপ থাকলে রক্তপ্রবাহের গতি বেড়ে যায় এবং তার ফলে কানে স্পন্দনের মত শব্দ শোনা যেতে পারে। রক্তস্বল্পতা থাকলেও একই সমস্যা দেখা দিতে পারে, কারণ তখন শরীর বেশি জোরে রক্ত সঞ্চালনের চেষ্টা করে। থাইরয়েডের ভারসাম্যহীনতা, ধমনিতে চর্বি জমে যাওয়া বা কানের কাছাকাছি রক্তনালিতে গঠনগত পরিবর্তন হলেও এই ধরনের আওয়াজ হতে পারে।

আরও পড়ুন- দূরে থাকুন, এসব খাবার বাড়াতে পারে আপনার মাইগ্রেনের ব্যথা!

কিছু ক্ষেত্রে মস্তিষ্কের ভেতরের চাপ বেড়ে যাওয়ার কারণেও পালসেটাইল টিনিটাস দেখা যায়। এই অবস্থাকে বলা হয় ইডিওপ্যাথিক ইনট্রাক্রেনিয়াল হাইপারটেনশন। এই সমস্যা থাকলে কানে শব্দের পাশাপাশি মাথাব্যথা, চোখে ঝাপসা দেখা বা দৃষ্টিশক্তির পরিবর্তনও লক্ষ্য করা যেতে পারে।

আরও পড়ুন- এইডস কেন হয়? এই ৬ ভুল ধারণাই ডাকে ভয়ংকর বিপর্যয়!

যদিও অনেক সময় এই সমস্যা গুরুতর নয়, তবুও কিছু লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। যদি শব্দটি হঠাৎ শুরু হয়, সারাক্ষণ চলতে থাকে এবং কেবল একটি কানে শোনা যায়, তাহলে বিষয়টি অবহেলা করা উচিত নয়। এর সঙ্গে যদি মাথা ঘোরা, দৃষ্টির সমস্যা, শ্রবণশক্তি কমে যাওয়া বা স্নায়বিক কোনও উপসর্গ যুক্ত হয়, তাহলে দ্রুত পরীক্ষা করানো প্রয়োজন। সময়ের সঙ্গে শব্দ আরও জোরে হওয়া বিপদের ইঙ্গিতও হতে পারে।

পালসেটাইল টিনিটাসের চিকিৎসায় কী করা হয়?

পালসেটাইল টিনিটাসের সঠিক কারণ নির্ণয়ের জন্য প্রথমেই কানের পূর্ণাঙ্গ পরীক্ষা করা হয়। শ্রবণক্ষমতা যাচাইয়ের জন্য বিশেষ কিছু পরীক্ষা করা হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে এমআরআই বা সিটি স্ক্যানের সাহায্যে কানের ভেতরের গঠন এবং আশপাশের রক্তনালির অবস্থা দেখা হয়। প্রয়োজনে ঘাড়ের ধমনির রক্তপ্রবাহ পরীক্ষা বা চোখ পরীক্ষা করে মস্তিষ্কের চাপ বেড়েছে কি না, তা যাচাই করা হয়।

চিকিৎসা সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করে সমস্যার মূল কারণের ওপর। যদি কানে ময়লা জমে থাকে বা সংক্রমণ থাকে, তাহলে তা পরিষ্কার বা চিকিৎসা করলেই শব্দ কমে যেতে পারে। উচ্চ রক্তচাপ বা রক্তস্বল্পতার মতো সমস্যার ক্ষেত্রে সঠিক চিকিৎসা নিলে উপসর্গ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসে। কোনও রক্তনালির অস্বাভাবিকতা ধরা পড়লে বিশেষজ্ঞদের চিকিৎসা বা অস্ত্রোপচার প্রয়োজন হতে পারে।

অনেক ক্ষেত্রে যখন গুরুতর কোনও কারণ পাওয়া যায় না, তখন রোগীকে আশ্বস্ত করা হয় এবং কিছু থেরাপির সাহায্য নেওয়া হয়। শব্দ থেরাপি বা টিনিটাস রিট্রেনিং থেরাপির মাধ্যমে মস্তিষ্ককে ওই শব্দের প্রতি কম সংবেদনশীল করে তোলা যায়। এতে দৈনন্দিন জীবনে বিরক্তি অনেকটাই কমে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, কানে এই ধরনের প্রবাহের মত শব্দ শোনা গেলে তা উপেক্ষা না করা। দ্রুত পরীক্ষা করালে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সমস্যার সমাধান সম্ভব। সচেতনতা ও সময়মতো চিকিৎসাই এই সমস্যায় মানসিক স্বস্তি ও সুস্থ জীবন নিশ্চিত করতে পারে।

Pulsatile Tinnitus