Radish Digestion Tips: মূলা খেলে গ্যাস হয়? কীভাবে খেলে হবে না, জেনে নিন আচার্য বালকৃষ্ণর থেকে

Radish Digestion Tips: মূলা খেলে কি গ্যাস হয়? আচার্য বালকৃষ্ণ দুর্বল হজমশক্তির মানুষদের মূলা খাওয়ার সঠিক সময়, উপায় এবং তার সহজ আয়ুর্বেদিক প্রতিকার কী, বিস্তারিত জানিয়েছেন।

Radish Digestion Tips: মূলা খেলে কি গ্যাস হয়? আচার্য বালকৃষ্ণ দুর্বল হজমশক্তির মানুষদের মূলা খাওয়ার সঠিক সময়, উপায় এবং তার সহজ আয়ুর্বেদিক প্রতিকার কী, বিস্তারিত জানিয়েছেন।

author-image
Chinmoy Bhattacharjee
New Update
Radish Digestion Tips: মূলা খাওয়ার সঠিক পদ্ধতি জানা জরুরি।

Radish Digestion Tips: মূলা খাওয়ার সঠিক পদ্ধতি জানা জরুরি।

Radish Digestion Tips: শীতকাল এলেই বাজারে মূলার ছড়াছড়ি। ঘরে ঘরে সালাদ, ভাজি, আচার বা পরোটার সঙ্গে মূলা খাওয়ার রেওয়াজ বহুদিনের। পুষ্টিগুণে ভরপুর এই সবজিতে রয়েছে প্রচুর ভিটামিন সি, ফাইবার, খনিজ পদার্থ এবং এমন কিছু ডিটক্স উপাদান যা শরীরের বিষাক্ত পদার্থ বের করে দিয়ে লিভারকে সুস্থ রাখে। প্রতিদিন সামান্য পরিমাণে মূলা খেলে পেট পরিষ্কার থাকে, কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা কমে এবং হজমতন্ত্র স্বাভাবিকভাবে কাজ করে। কিন্তু এত উপকার থাকা সত্ত্বেও অনেকেই অভিযোগ করেন যে মূলা খেলেই পেটে গ্যাস হয়, ঢেকুর ওঠে বা বুক ভারী লাগে। এই সমস্যার কারণে অনেকে মূলা খাওয়া এড়িয়ে চলেন। আচার্য বালকৃষ্ণ জানাচ্ছেন যে এই অস্বস্তির পেছনে মূলা নয়, বরং খাওয়ার ভুল সময় এবং পদ্ধতিই দায়ী।

Advertisment

আচার্য বালকৃষ্ণ যা জানিয়েছেন

আচার্য বালকৃষ্ণের মতে, মূলায় থাকা কিছু প্রাকৃতিক সালফার যৌগ হজমের সময় অন্ত্রে থাকা ব্যাকটেরিয়ার সঙ্গে মিশে গ্যাস তৈরি করতে পারে। যাঁদের পাচনতন্ত্র দুর্বল বা যাদের হজম এনজাইম কম, তাঁদের ক্ষেত্রে এই প্রতিক্রিয়া আরও দ্রুত বাড়ে। মূলায় প্রচুর ফাইবার থাকে, যা একদিকে পেট পরিষ্কার করতে সাহায্য করে, অন্যদিকে ভুল সময়ে বা ভুলভাবে খেলে হজমে চাপ ফেলে। এই ফাইবার ভাঙতে শরীরে বেশি সময় লাগে এবং দুর্বল হজমশক্তি থাকলে গ্যাস, পেটে ভারীভাব বা টক ঢেকুর তৈরি হয়। মূলা প্রকৃতিগতভাবে ক্ষারীয় সবজি। যখন এটি খালি পেটে বা রাতে খাওয়া হয়, তখন শরীরের স্বাভাবিক অম্ল-ক্ষার ভারসাম্য বিঘ্নিত হয়ে অস্বস্তি তৈরি করতে পারে।

আরও পড়ুন- ডাকহরকরা থেকে তিন কন্যা, প্রতিটি চরিত্রে অনন্য, তবুও কেন আত্মহত্যার কথা ভেবেছিলেন কালী ব্যানার্জি?

Advertisment

আয়ুর্বেদ মতে, দিনের বিভিন্ন সময়ে আমাদের হজমশক্তি ভিন্নভাবে কাজ করে। দুপুরের সময় পেটের অগ্নি বা হজমকার্য সর্বাধিক শক্তিশালী থাকে। তাই এই সময়ে মূলা খেলে তা সহজে ভেঙে যায় এবং কোনও ধরনের গ্যাস বা অস্বস্তি সৃষ্টি করে না। সকালে খালি পেটে মূলা খেলে অনেকেরই টক ঢেকুর বা পেট ফাঁপার মতো সমস্যা হতে পারে। খালি পেটে সালফার যৌগ দ্রুত প্রতিক্রিয়া করে। এর ফলে অস্বস্তি বাড়ে। রাতে মূলা খাওয়া আরও বেশি সমস্যা তৈরি করতে পারে, কারণ রাতের দিকে হজমশক্তি স্বাভাবিকভাবেই কম থাকে। রাতে পেট ভারী খাবার সহ্য করতে পারে না, ফলে গ্যাস, বুক জ্বালা বা বদহজমের ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই দুপুর ছাড়া অন্য সময় মূলা খেলে অনেকের সমস্যার সম্ভাবনা তৈরি হয়।

আরও পড়ুন- শীতকালে শরীর গরম রাখবে এই দেশি খাবার, একবার বানালেই চলবে গোটা মাস!

যাঁরা সালাদ হিসেবে মূলা খেতে ভালোবাসেন, তাঁরা খাবারের শেষে এটি খেলে বেশি উপকার পাবেন। যদি রাতের খাবারের সঙ্গে মূলা খান, তাহলে অন্তত এক ঘণ্টা কিছু খাবেন না, যাতে শরীর ফাইবার ভাঙার জন্য পর্যাপ্ত সময় পায়। অনেক ক্ষেত্রে কাঁচা মূলা হজমে বেশি কষ্ট দেয়। সে কারণে যাঁদের পেটে গ্যাসের সমস্যা আছে, তাঁরা সেদ্ধ বা হালকা ভাজা করে মূলা খেতে পারেন। এতে ফাইবার নরম হয়ে যায় এবং অন্ত্রে ভাঙতে সুবিধা হয়। আর কাঁচা মূলা খেতে চাইলে সামান্য লেবুর রস, শিলা লবণ বা গোলমরিচ মিশিয়ে খাওয়া ভালো। এগুলো হজমকে সাহায্য করে এবং সালফার যৌগের প্রতিক্রিয়া কমায়। খাবারের পরে সামান্য গুড় বা মৌরি চিবোনো হজমে দারুণ উপকার দেয়। এগুলো পাকস্থলিতে স্নিগ্ধতা আনে এবং এনজাইম সক্রিয় করে।

আরও পড়ুন- শীতে পান করলেই দূর হয় সর্দি-কাশি, ঘরে সহজে বানানো যায়, এই স্যুপ কাজ করে আয়ুর্বেদিক ওষুধের মত!

অনেকেই ভুল ধারণা করেন যে মূলা স্বভাবতই গ্যাস বাড়ায়। অথচ আচার্য বালকৃষ্ণ স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, মূলা কখনোই ক্ষতিকর নয়, বরং এটি পেটের জন্য উপকারী। সমস্যা তখনই হয় যখন তা ভুল সময়ে বা ভুল পদ্ধতিতে খাওয়া হয়। যাদের পেট দুর্বল, তাদের উচিত ধীরে ধীরে মূলা খাওয়ার অভ্যাস তৈরি করা। শুরুতে সামান্য পরিমাণে খেলে শরীর ধীরে ধীরে অভ্যস্ত হয়ে যায়। সময়ের সাথে হজমশক্তি উন্নত হয় এবং গ্যাসের সমস্যা কমে যায়। তাই মূলাকে ভয়ে এড়িয়ে না গিয়ে সঠিক নিয়মে খেলে উপকারই বেশি।

আরও পড়ুন- আজ আন্তর্জাতিক পুরুষ দিবস! কীভাবে চালু হল এই দিন পালনের প্রথা?

শরীরকে হালকা ও সুস্থ রাখতে শীতকালে নিয়মিত কিন্তু সঠিক উপায়ে মূলা খাওয়া উচিত। দুপুরে খাওয়া, লেবু বা শিলা লবণ মেশানো, খাবারের শেষে নেওয়া—এই কয়েকটি সহজ নিয়ম মেনে চললেই মূলা আর গ্যাসের কারণ হবে না, বরং পেটের জন্য প্রাকৃতিক ওষুধের মতো কাজ করবে। আচার্য বালকৃষ্ণের মতে, যাঁদের হজম ক্ষমতা দুর্বল, তাঁদেরও মূলা খেতে কোনও সমস্যা নেই, যদি তাঁরা সময় এবং পদ্ধতি মেনে মূল খান, তবে কোনও সমস্যা হবে না। মূলা প্রকৃতির এক অনন্য উপহার, যা শরীর পরিষ্কার রাখে, শক্তি দেয় এবং হজমতন্ত্রকে স্বাভাবিক রাখে। সঠিকভাবে খেলে এই সাধারণ সবজিই হয়ে উঠতে পারে আপনার প্রতিদিনের সুস্থতার সঙ্গী।

tips digestion