/indian-express-bangla/media/media_files/2025/09/27/rani-rashmoni-2025-09-27-17-28-08.jpg)
Rani Rashmoni: ডাকটিকিটে রানি রাসমণি।
Birthday of Rani Rashmoni: রানি রাসমণি (২৮ সেপ্টেম্বর ১৭৯৩ – ১৯ ফেব্রুয়ারি ১৮৬১) ছিলেন এক অসাধারণ নারী, যিনি শুধু কলকাতার জমিদার পরিবারে নিজেকে আটকে রাখেননি, সাধারণ মানুষের জীবন ও সংস্কৃতির সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করেছিলেন। তাঁর অবদান বাঙালি সমাজে অমর হয়ে আছে।
কোনা গ্রামে জন্ম
নদীয়া জেলার কাছে ‘কোনা’ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন রাসমণি। অল্প বয়সেই মা’কে হারান। ১১ বছর বয়সে জানবাজারের ধনী জমিদার বাবু রাজচন্দ্র দাসের সঙ্গে তাঁর বিবাহ হয়। তাঁদের চার কন্যা জন্ম নেন। স্বামীর মৃত্যুর পর ১৮৩৬ সালে তিনি নিজ হাতে জমিদারির দায়িত্ব নেন এবং দক্ষতার সঙ্গে তা পরিচালনা করেন।
আরও পড়ুন- পুজোর ছুটিতে ঘুরে আসুন, পাহাড় থেকে সমুদ্র, উপভোগ করুন একসঙ্গে!
রাণী রাসমণি ছিলেন দুঃস্থ ও সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানো এক মহান ব্যক্তি। তীর্থযাত্রীদের সুবিধার জন্য তিনি সুবর্ণরেখা থেকে পুরী পর্যন্ত সড়ক বানিয়ে দিয়েছিলেন। কলকাতার গঙ্গাস্নানের সুবিধার্থে বাবুঘাট, আহিরীটোলা ঘাট ও নিমতলা ঘাট বানিয়ে দিয়েছিলেন। হিন্দু কলেজ (প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়) ও ইম্পেরিয়াল লাইব্রেরির জন্য অর্থ সাহায্য করেছিলেন। মাছ ধরার ওপর ব্রিটিশের কর আরোপের প্রতিবাদ জানিয়ে গঙ্গার কিছু অংশ নিজে কিনে নিয়েছিলেন, যাতে জেলেদের স্বার্থ রক্ষা হয়।
আরও পড়ুন- দুর্গাপুজোয় মহাষ্টমীর বিরাট গুরুত্ব, কবে দুর্গাষ্টমী? জানুন বিস্তারিত
১৮৪৭ সালে কাশী যাত্রার পরিকল্পনার আগের রাতে মা ভবতারিণী তাঁকে স্বপ্নাদেশ দেন। দেবীর নির্দেশে ১৮৫৫ সালে গঙ্গার তীরে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন দক্ষিণেশ্বর কালীমন্দির। এই মন্দির শুধু কলকাতার নয়, ভারতের অন্যতম প্রধান আধ্যাত্মিক কেন্দ্র। এখানেই সাধনা করেছিলেন রামকৃষ্ণ পরমহংস।
আরও পড়ুন- নবরাত্রির এই সব তিথিতে কেনাকাটা করলেই চমকাবে কপাল! জানুন দিনগুলো
রাসমণি শুধু ধর্ম নয়, সামাজিক ন্যায়ের ক্ষেত্রেও অগ্রণী ছিলেন। নীলকর সাহেবের অত্যাচারের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিলেন, খাল খনন করে নদীর সংযোগ করেছিলেন, এবং বাজার স্থাপন করেছিলেন সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য।
আরও পড়ুন- নবরাত্রিতে জন্ম নেওয়া শিশুর ভাগ্য কেমন? কী বলছে জ্যোতিষশাস্ত্র, জানুন বিস্তারিত!
রানি রাসমণির জানবাজারের বাড়ির দুর্গাপুজো আজও ঐতিহ্যের অংশ। রথযাত্রা উৎসবও আজও দক্ষিণেশ্বরে পালিত হয়। ১৮৬১ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি কালীঘাটে তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁকে 'লোকমাতা' নামে অভিহিত করা হয়। পরবর্তীকালে তাঁর স্মৃতিতে ডাকটিকিট প্রকাশিত হয় এবং কলকাতা ও দক্ষিণেশ্বরে তাঁর মূর্তি স্থাপন করা হয়। চলচ্চিত্র, টিভি ধারাবাহিক ও সাহিত্যে তাঁর জীবনী আজও অনুপ্রেরণা জোগায়।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us