Rat Bite First Aid: ইঁদুর কামড়েছে? হতে পারে বিরাট ক্ষতি, রক্ষা পাবেন কী করে জানুন বিস্তারিত!

Rat Bite First Aid: ইঁদুর কামড়ালে কী করবেন? ইনফেকশন বা বড় ক্ষতি হওয়া থেকে বাঁচতে অবলম্বন করবেন কোন উপায়? ভুল ধারণা ছেড়ে বিস্তারিত জেনে নিন এখানে।

Rat Bite First Aid: ইঁদুর কামড়ালে কী করবেন? ইনফেকশন বা বড় ক্ষতি হওয়া থেকে বাঁচতে অবলম্বন করবেন কোন উপায়? ভুল ধারণা ছেড়ে বিস্তারিত জেনে নিন এখানে।

author-image
Chinmoy Bhattacharjee
New Update
Rat Bite First Aid: ইঁদুরের কামড়ের পর কী করবেন, জেনে নিন বিস্তারিত।

Rat Bite First Aid: ইঁদুরের কামড়ের পর কী করবেন, জেনে নিন বিস্তারিত।

Rat Bites First Aid: ইঁদুরের কামড়কে অনেক সময় মানুষ গুরুত্ব দেয় না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ক্ষতটি ছোট দেখায় বলে সবাই মনে করেন তেমন কিছু হবে না। কিন্তু চিকিৎসা বিজ্ঞানের মতে, ইঁদুরের কামড় একেবারেই হালকাভাবে নেওয়ার বিষয় নয়, কারণ এর মাধ্যমে শরীরে নানা ধরনের জীবাণু প্রবেশ করতে পারে। এসব জীবাণুর মধ্যে কিছু এমনও আছে যা শরীরে মারাত্মক সংক্রমণ ঘটিয়ে জ্বর, শরীর ব্যথা, র‍্যাশ, এমনকি কিডনি বা হৃদযন্ত্রের জটিল সমস্যার কারণ হতে পারে। তাই ইঁদুরের কামড় লাগার সঙ্গে সঙ্গে সঠিকভাবে পরিচর্যা করা প্রয়োজন। 

Advertisment

ক্ষতস্থানের পরিচর্যা

বিশেষজ্ঞদের মতে, কামড়ের পর প্রথম দশ থেকে পনেরো মিনিট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ই বয়ে যাওয়া জলে ক্ষতস্থান ধুয়ে সাবান দিয়ে ঘষে ঘষে পরিষ্কার করা উচিত। এতে ক্ষতস্থানে থাকা অতি ক্ষুদ্র জীবাণু দূর হয় এবং সংক্রমণের সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে কমে যায়। প্রাথমিক ধোয়া শেষ হওয়ার পর ক্ষতস্থানটি পরিষ্কার কাপড় দিয়ে মুছে নিতে হয় এবং অ্যান্টিসেপটিক লাগাতে হয়। তবে এই সময় ঘরের কোনও জিনিস লাগাতে বিশেষজ্ঞরা বারণ করছেন। প্রচলিত ধারণা হল, রান্নাঘরের নানা জিনিস ইঁদুর কাটার ক্ষতস্থানে লাগালে তাড়াতাড়ি উপকার মেলে। কিন্তু, বিশেষজ্ঞদের মতে এই সব জিনিস অর্থাৎ হলুদ, তেল, মলম বা অন্য কোনও জিনিস ইঁদুর কাটার ক্ষতস্থানে লাগালে সংক্রমণের ঝুঁকি মোটেও কমে না। বরং, তা কয়েকগুণ বেড়ে যায়।

আরও পড়ুন- ব্যবহার করুন এই ৩টি জিনিস, পান লম্বা কালো ঘন চুল

ইঁদুর কামড়ানোর পর টিটেনাস দেওয়া অত্যন্ত জরুরি বলেই জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। যদি গত পাঁচ বছরের মধ্যে টিটেনাস টিকা না নিয়ে থাকেন, তাহলে ইঁদুর কামড়ানোর পরই দ্রুত একটি টিটেনাস বুস্টার নেওয়া জরুরি বলেই তাঁরা জানিয়েছেন। কারণ, টিটেনাস এমন একটি সংক্রমণ যা একবার শরীরে ছড়িয়ে পড়লে চিকিৎসা করা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই আগেই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়াটা সবচেয়ে জরুরি। 

Advertisment

আরও পড়ুন- হাত না লাগিয়েই বেসিন রাখুন ঝকঝকে, কাজে লাগান এই দুর্দান্ত সহজ কৌশল!

পাশাপাশি অনেক ক্ষেত্রে চিকিৎসকরা সংক্রমণ প্রতিরোধে অ্যান্টিবায়োটিকও দিয়ে থাকেন। কারণ ইঁদুরের কামড় থেকে যে সংক্রমণ হতে পারে, তা অনেক সময় কয়েক দিন পর প্রকাশ পায় এবং দ্রুত চিকিৎসা না হলে বিপজ্জনক অবস্থার দিকে নিয়ে যেতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে শরীরে জ্বর, ঠান্ডা লাগা, হাত-পা ব্যথা, ক্ষতের চারপাশে লালচে ভাব, র‍্যাশ বা জয়েন্টে ব্যথা দেখা দিলে এটি গুরুতর সংক্রমণের লক্ষণ হতে পারে। এই ধরনের লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের কাছে যাওয়া জরুরি বলেই জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

আরও পড়ুন- গোলমরিচ আর কালো লবণে মাত্র ১৫ মিনিটেই বিরাট ম্যাজিক! যা ঘটবে, ভাবতেই পারবেন না

ইঁদুর সাধারণত জলাতঙ্ক বহন করে না। তাই বেশিরভাগ ক্ষেত্রে জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকা দেওয়ার প্রয়োজন হয় না। কিন্তু যদি কামড় গভীর হয় বা ইঁদুরটির আচরণ অস্বাভাবিক মনে হয়, তাহলে চিকিৎসক পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেন। অনেক সময় রোগী বুঝতে পারেন না যে কামড়টি আসলে কতটা গভীর বা ত্বকের ভিতরে জীবাণু কতটা প্রবেশ করেছে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াটা সবসময়ই জরুরি। ইঁদুরের কামড়ে যে জ্বর হতে পারে তাকে বলা হয় কামড়জনিত জ্বর। এটি প্রথমে সাধারণ জ্বরের মতোই দেখা দেয়, কিন্তু পরবর্তীতে শরীরে ব্যথা, জয়েন্টে ব্যথা, বমিভাব, মাথা ঘোরা, দুর্বলতা এবং মাঝে মাঝে চামড়ায় লাল দাগ দেখা দেয়। এই সংক্রমণ উপেক্ষা করলে শরীরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গে প্রদাহ সৃষ্টি হতে পারে, যা জীবননাশের ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে বলেই বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন- বারবার হাই তোলার আসল কারণ কী, জানেন হাই তোলার সমস্যা কেন বাড়ে?

ইঁদুরের কামড় থেকে বাঁচতে হলে নিজের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা জরুরি। বাড়ির ভেতরে খাবারের উচ্ছিষ্ট না রাখা, আবর্জনার ঝুড়ি ঢেকে রাখা, রাতে খাবার খোলা অবস্থায় না রাখা, এবং ইঁদুরের চলাফেরা চোখে পড়লে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। অনেক সময় বিদ্যুতের লাইনের চারপাশ, রান্নাঘর, স্টোর রুম বা আবর্জনার পাশেই ইঁদুরের বাসা থাকে। ফলে সেসব জায়গা নিয়মিত পরিষ্কার রাখা দরকার। প্রয়োজনে পেস্ট কন্ট্রোল করানোও একটি ভালো রাস্তা। কারণ, বাড়িতে বা কর্মস্থলে ইঁদুরের সংখ্যা বাড়লে কামড়ের ঝুঁকিও স্বাভাবিকভাবেই বেড়ে যায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইঁদুরের কামড়ের পরে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল শরীরের পরিবর্তনগুলোর ওপর নজর রাখা। কামড়ের পর কয়েক দিনের মধ্যে যদি জ্বর আসে বা শরীরে ব্যথা শুরু হয়, ক্ষতস্থানে লালচেভাব বা পুঁজ দেখা দেয় অথবা জয়েন্টে ব্যথা অনুভূত হয়, তাহলে সেটি উপেক্ষা করা উচিত নয়। অনেকেই মনে করেন প্রাথমিক ধোয়া-মোছা করলেই আর চিন্তার কিছু নেই। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে সংক্রমণের লক্ষণ অনেক ক্ষেত্রেই পরে প্রকাশ পায়। তাই কামড়ের পর চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং তাঁর নির্দেশ মতো টিকা বা ওষুধ খাওয়া সবচেয়ে নিরাপদ পদ্ধতি। এই ধরনের সচেতনতা এবং দ্রুত চিকিৎসাই ইঁদুরের কামড় থেকে সৃষ্ট যে কোনও জটিলতা প্রতিরোধ করতে পারে।

bites Rat