/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/26/republic-day-2026-01-26-13-24-09.jpg)
Republic Day & Bengal’s Forgotten Role: ভারতকে প্রজাতন্ত্র গড়তে বাংলার অকল্পনীয় অবদান ভোলার নয়।
Republic Day: প্রজাতন্ত্র দিবস বলতে আমরা সাধারণত কী দেখি? সামরিক প্যারেড, তেরঙ্গা পতাকা, আর সেই জাতীয় সংগীত—যেটা লিখেছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। সংবিধানের নেতৃত্বে ছিলেন ড. বি আর আম্বেদকর। এই ইতিহাস আমাদের সবারই জানা। কিন্তু এই পরিচিত ছবির আড়ালে এমন এক ইতিহাস আছে, যেটা খুব কম স্মরণ করা হয়। সেই ইতিহাসে বাঙালিরা শুধু গান গায়নি, শুধু কবিতা লেখেনি—বাঙালিরা যুক্তি দিয়েছে, প্রশ্ন তুলেছে, আর ক্ষমতার চোখে চোখ রেখে তর্ক করেছে। সেই তর্কই আজকের ভারতকে দিয়েছে নাগরিক অধিকার।
আম্বেদকর সংবিধান সভাতেই জায়গা পাচ্ছিলেন না
সংবিধান সভার কথা উঠলেই সাধারণত কয়েকটি নাম ঘুরে ফিরে আসে। কিন্তু, খুব কম মানুষ জানেন সোমনাথ লাহিড়ীর কথা। তিনি ছিলেন অবিভক্ত বাংলার একমাত্র কমিউনিস্ট প্রতিনিধি এবং সম্ভবত সংবিধান সভার সবচেয়ে অস্বস্তিকর কণ্ঠস্বর। তিনি এমন প্রশ্ন তুলেছিলেন, যেগুলো শুনে অনেকেই তখন বিরক্ত হয়েছিলেন। সোমনাথ লাহিড়ী বারবার সতর্ক করেছিলেন যে রাষ্ট্র যদি জরুরি ক্ষমতার নামে নাগরিক অধিকার খর্ব করার সুযোগ পায়, তাহলে ভবিষ্যতে সেই আইনই প্রতিবাদের কণ্ঠ রোধ করতে ব্যবহার করা হবে।
আরও পড়ুন- প্রজাতন্ত্র দিবসের প্রস্তুতিতে বৃষ্টিকেও পরোয়া করেননি অংশগ্রহণকারীরা! দেখুন ছবি
সেই সময় এই বক্তব্য অনেকের কাছে চরমপন্থী মনে হয়েছিল। কিন্তু, ১৯৭৫ সালের জরুরি অবস্থার সময় এবং আরও পরবর্তীকালে যখন রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা নাগরিক স্বাধীনতার মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে, তখন বারবার ফিরে এসেছে লাহিড়ীর সেই সতর্কবার্তা। আজ ২০২৬ সালে দাঁড়িয়েও যখন নাগরিক অধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং রাষ্ট্রীয় নজরদারি নিয়ে আলোচনা হয়, তখন বোঝা যায় এই বিতর্কগুলো কতটা প্রাসঙ্গিক ছিল। এই যুক্তি দেওয়ার ক্ষমতাই আসলে বাঙালির ঐতিহাসিক পরিচয়।
আরও পড়ুন- ২৬ জানুয়ারি কী খোলা এবং বন্ধ থাকবে, জানুন একনজরে
আরেকটি নাম প্রায় নীরবে মুছে গেছে ( Forgotten) মূলধারার ইতিহাস থেকে—যোগেন্দ্রনাথ মণ্ডল। তিনি ছিলেন অবিভক্ত বাংলার যশোর জেলার এক দলিত নেতা। আজ আমরা জানি যে ড. আম্বেদকর সংবিধানের প্রধান রূপকার ছিলেন, কিন্তু খুব কম মানুষ জানেন যে এক সময় তিনি সংবিধান সভায় নির্বাচিত হওয়া নিয়েই সমস্যায় পড়েছিলেন। সেই সংকটের মুহূর্তে বাংলায় দলিত সমাজের মধ্যে সমর্থন সংগঠিত করেছিলেন যোগেন্দ্রনাথ মণ্ডল, যাতে আম্বেদকর সংবিধান সভায় প্রবেশ করতে পারেন।
আরও পড়ুন- কেন ২৬ জানুয়ারি পালিত হয় ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবস, এর ইতিহাস, তাৎপর্য ও গুরুত্ব জানুন
এই ঘটনাটি ইতিহাসের ছোট্ট একটি পাদটীকা হিসেবে থেকে গেছে, অথচ এর প্রভাব ছিল বিশাল। যদি সেই সমর্থন না মিলত, তাহলে সংবিধান প্রণয়ন কমিটির গঠনই হয়তো অন্যরকম হত। এই কথাটা আম্বেদকরের অবদান কমানোর জন্য নয়, বরং এই বোঝার জন্য যে প্রজাতন্ত্র কোনও একক ব্যক্তির সৃষ্টি নয়। এটি অসংখ্য বিতর্ক, আপত্তি এবং অস্বস্তিকর প্রশ্নের ফল।
আরও পড়ুন- প্রজাতন্ত্র দিবসে শেয়ার করুন হৃদয়ছোঁয়া শুভেচ্ছা ও দেশপ্রেমের বার্তা
আজ আমরা প্রজাতন্ত্র দিবস (Republic Day)-এ বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য (unity in diversity) দেখতে ভালোবাসি। রঙিন ট্যাবলো, সামরিক কুচকাওয়াজ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান—সব মিলিয়ে এক সুন্দর দৃশ্য। কিন্তু আমরা ভুলে যাই সেই অস্বস্তিকর তর্কগুলোর কথা, যেগুলো ছাড়া এই ঐক্য সম্ভব ছিল না। সংবিধান কোনও নিঃশব্দ সমঝোতার দলিল নয়, এটি ছিল এক উত্তপ্ত বিতর্কের ফল, আর সেই বিতর্কে বাঙালিরা ছিল সামনের সারিতে।
আরও পড়ুন- এককাপ সবুজ সবজিতেই ১৮ গ্রাম প্রোটিন! জানুন কোন সবজিতে রয়েছে সবচেয়ে বেশি শক্তি
সময়ের সঙ্গে বাঙালিদের একটি নির্দিষ্ট ছাঁচে ফেলে দেওয়া হয়েছে। বলিউডে বাঙালি মানেই কবিতা আর আবেগ। ক্ষমতার ভাষ্যে অনেক সময় বাঙালি মানেই 'অন্যরকম', কখনও আবার অবৈধ বা বহিরাগত তকমা দেওয়া হয়েছে বাঙালিকে। কিন্তু ইতিহাস অন্য কথা বলে। এই দেশের প্রজাতন্ত্রকে যুক্তিযোগ্য, প্রশ্নযোগ্য এবং মানবিক করে তোলার লড়াইয়ে বাঙালিরাই বরাবর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
এই লেখা কোনও কৃতিত্ব দাবি করার জন্য নয়। এটি সেই মানুষটিকে স্মরণ করার চেষ্টা—যিনি লড়েছিলেন যাতে রাষ্ট্র প্রশ্নের ঊর্ধ্বে না ওঠে। প্রজাতন্ত্র দিবস (Republic Day) শুধু তাই উৎসবের দিন নয়, এটি স্মৃতির দিনও। যে স্মৃতিতে শুধু পতাকা আর প্যারেড নয়, আছে তর্ক, দ্বন্দ্ব আর অস্বস্তিকর সত্যও। প্রজাতন্ত্র দিবস সেই স্মৃতিরই যোগফল। আর সেই স্মৃতিতে বাঙালির ভূমিকা মুছে যাওয়ার নয়।


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us