/indian-express-bangla/media/media_files/2025/12/04/actor-sara-ali-khan-2025-12-04-11-09-23.jpg)
Actor Sara Ali Khan: অভিনেত্রী সারা আলি খান।
Sara Ali Khan bollywood: নবাব তনয়া। মা অভিনেত্রী। নিজেও ইতিমধ্যে বলিউডে সুনাম কুড়িয়েছেন। তারপরও যেন কোনও একটা যন্ত্রণা তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে অভিনেত্রী সারা আলি খানকে। আর, চাপতে পারলেন না। এবার সে নিয়ে মুখ খুলেও ফেললেন এই তারকা।
বলিউড অভিনেত্রী সারা আলি খান সবসময়ই নিজের মায়ের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক নিয়ে খোলামেলা। এবার এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, কাজের জায়গায় তাঁর কোনও নির্দিষ্ট ‘কমফোর্ট জোন’ নেই। কারণ তিনি বিশ্বাস করেন, প্রতিটি সিনেমার সেট, প্রতিটি শুটিং লোকেশন, প্রতিটি পরিস্থিতি আলাদা অনুভূতি। জীবনে এত বেড়ানো, এত বদল—নিউ ইয়র্কে পড়াশোনা থেকে কেদারনাথে শুটিং—এইসব অভিজ্ঞতা তাঁকে পরিস্থিতির সঙ্গে সহজে মানিয়ে নিতে সাহায্য করেছে। কিন্তু তার পরেও তিনি প্রতিদিন একটি জায়গায় নিজের সত্যিকারের শান্তি ফিরে পান—আর সেটি হল তাঁর মা অমৃতা সিং-এর গলা জড়িয়ে আদর।
আরও পড়ুন- এই ছ’টি খাবার আমাদের হার্টের স্বাস্থ্যের জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকারক
সারা জানিয়েছেন, তিনি যেখানেই থাকুন না কেন, দিনের শেষে মায়ের কাছে ফিরে গিয়েই সবচেয়ে বেশি শক্তি আর আত্মবিশ্বাস পান। তাঁর মতে, মায়ের উপস্থিতি যেন গঙ্গা নদীর উৎসের মতো। গঙ্গা যেমন বিশাল পথ চলার পরও গঙ্গোত্রী থেকেই তার শক্তি পায়, ঠিক তেমনই তাঁর মা-ই তাঁর জীবনের মূল ভিত্তি। এই তুলনা থেকেই বোঝা যায়—একজন মায়ের ভূমিকা সন্তানের মানসিক জগতে ঠিক কতটা গভীরভাবে গেঁথে আছে।
/filters:format(webp)/indian-express-bangla/media/media_files/2025/12/04/sara-ali-khan-2025-12-04-10-11-12.jpg)
বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি সন্তানের জীবনে মায়ের স্নেহ, নিরাপত্তা এবং মানসিক সমর্থন বিরাট অবদান রাখে। শুধু ছোটবেলাতেই নয়, বড় হওয়ার পরেও তা সমান গুরুত্বপূর্ণ। মনোবিদ ডা. সন্তোষ বাঁগাড় জানিয়েছেন, মায়ের কণ্ঠস্বর, তাঁর আশ্বাস, প্রতিদিনের ছোট ছোট যোগাযোগ—এসব শিশুর মনে এক ধরনের ‘ইমোশনাল সেফ জোন’ তৈরি করে। এই নিরাপত্তার অনুভূতিই বড় হয়ে একজন মানুষকে মানসিকভাবে স্থির, আত্মবিশ্বাসী এবং আবেগগতভাবে সুস্থ করে তোলে।
আরও পড়ুন- কীভাবে সহজে আপনার শরীর পেতে পারে ভিটামিন বি১২, জানুন চিকিৎসকদের মত
তিনি আরও জানান, দৈনন্দিন জীবনের ছোট ছোট মুহূর্ত—একসঙ্গে খাওয়া, রান্নাঘরে প্রিয় মিষ্টি বানানো, স্কুল বা কাজের ক্লান্তি প্রকাশ করা, অথবা শুধু গায়ে-মাথায় হাত রাখা—এসবই সন্তানের মনে মা-বাবার প্রতি গভীর আস্থা তৈরি করে। এই আস্থা থেকেই তৈরি হয় এক অদ্ভুত মানসিক শক্তি, যা তাঁকে নানা ধরনের চ্যালেঞ্জে সাহসী হতে সাহায্য করে।
বয়স যতই বাড়ুক, সন্তানের মনে একসময় সব সম্পর্ক বদলায়, কিন্তু মায়ের প্রতি টান কখনও কমে না। বিশেষ করে বাবা-মায়ের কাছে ফিরে আসার অনুভূতি, দীর্ঘদিন পর বাড়ির গন্ধ, মায়ের স্নেহময় স্পর্শ—এসবই প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের মনে শৈশবের নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনে। ডা. বাঁগাড় বলেন, 'কোনও মানুষের জীবনে ইমোশনাল এভেইলেবিলিটি অর্থাৎ মানসিকভাবে পাশে থাকা বিষয়টি সবচেয়ে বেশি দেখা যায় মায়ের মধ্যেই। তাই মা সন্তানের প্রথম শিক্ষক, প্রথম বন্ধু এবং প্রথম মানসিক আশ্রয়।'
আরও পড়ুন- রং ছাড়াই ৫ মিনিটে সহজে চুল করুন কালো, ব্যবহার করুন রান্নাঘরের এই উপাদান
সারা আলি খানের বক্তব্যে এই সত্যটিই প্রকাশ পেয়েছে। যদিও তিনি বলিউড জগতে ব্যস্ত জীবন কাটান। প্রতিদিন বিভিন্ন সেট, নতুন মানুষের সঙ্গে কাজ, নানা চরিত্রের মধ্যে ডুবে থাকা—তবুও দিনের শেষে একটি অনড় জায়গা থেকে প্রতিদিনের শক্তি পান। সেই জায়গা হল তাঁর মা। এই অনুভব সবার ক্ষেত্রেই একইরকম। পৃথিবী যত দ্রুত পাল্টাক, প্রযুক্তি যত উন্নত হোক, মানুষের প্রয়োজন কিন্তু একই—একটি নিরাপদ আশ্রয়, যাঁর কাছে সব চাপ, সব ভয়, সব ক্লান্তি দূর হয়।
আরও পড়ুন- ক্রিসমাস–নতুন বছরে রঙিন করে তুলুন ভ্রমণ, জেনে নিন কোনগুলো ভারতের সেরা তুষার-ঢাকা জায়গা
আজকের সমাজে সন্তান ও মায়ের সম্পর্ক আগের তুলনায় আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কাজের ব্যস্ততা, মানসিক চাপ, প্রতিযোগিতা—সবকিছু মিলিয়ে মানুষ ক্রমশ ক্লান্ত হয়ে পড়ছে। ফলে আমরা আরও বেশি খুঁজে পাই এমন একটি জায়গা, যেখানে নিজের মত করে থাকা যায়, কোনও বিচার নেই, কোনও চাপ নেই। এই মানসিক নিরাপত্তা একজন মানুষের সফল ও সুস্থ জীবনের অন্যতম ভিত্তি। তাই সারা আলি খানের অভিজ্ঞতা, তাঁর মায়ের প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা শুধুই ব্যক্তিগত অনুভূতি নয়—এটি সর্বজনীন সত্যের প্রতিফলন।
আরও পড়ুন- ছেলে বা মেয়ের তুখোড় বুদ্ধি চান? এগুলো করান, হাতেনাতে ফল পাবেন
/filters:format(webp)/indian-express-bangla/media/media_files/2025/12/04/mother-and-child-bond-2025-12-04-10-11-33.jpg)
একজন মা সন্তানের শুধু জন্মদাত্রী নন, তিনি তাঁর প্রথম সাপোর্ট সিস্টেম। প্রতিটি মানুষের জীবনে এমন একজন প্রয়োজন, যিনি কথা না বললেও মন বুঝতে পারেন, শুধু উপস্থিত থাকলেই সাহস দেন। সারা আলি খান যেমন প্রতিদিন মায়ের আলিঙ্গনে শক্তি পান, তেমনই অসংখ্য মানুষ প্রতিদিন তাঁদের মায়ের কাছ থেকেই জীবনের নানা সমস্যার সমাধান খুঁজে পান। এই সম্পর্কের গভীরতা কখনই মাপা যায় না, কিন্তু তার প্রভাব থাকে সারাজীবন।
মা-সন্তানের সম্পর্ক
এ কারণেই মায়ের সঙ্গে সন্তানের সম্পর্ককে জীবনের সবচেয়ে শক্তিশালী আবেগগত সংযোগ (emotional bonding) বলা হয়। এটি আমাদের শেখায়—যেখানে ভালোবাসা, সমর্থন ও নিরাপত্তা আছে, সেখানেই থাকে মানুষের প্রকৃত ‘কমফোর্ট জোন’।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us