Saree Cancer Risk: শাড়ি পরলেও হতে পারে ক্যানসার? লক্ষণ জেনে সাবধানে থাকার পথ বাতলেছেন বিশেষজ্ঞরা

Saree Cancer Risk: শাড়ি, সায়া থেকে কি সত্যিই ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে? বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, শাড়ি থেকে বাড়তে পারে ক্যানসারের লক্ষণ। জানুন, কীভাবে এড়াবেন।

Saree Cancer Risk: শাড়ি, সায়া থেকে কি সত্যিই ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে? বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, শাড়ি থেকে বাড়তে পারে ক্যানসারের লক্ষণ। জানুন, কীভাবে এড়াবেন।

author-image
Chinmoy Bhattacharjee
New Update
Saree Cancer Risk: শাড়ি থেকে বাড়তে পারে ক্যানসারের ঝুঁকি।

Saree Cancer Risk: শাড়ি থেকে বাড়তে পারে ক্যানসারের ঝুঁকি?

Saree Cancer Risk: ভারতীয় নারীদের জীবনে শাড়ি শুধু একটি পোশাক নয়, এটি ঐতিহ্য এবং দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। অফিস, বাজার, বাড়ির কাজ—সব ক্ষেত্রেই বহু মহিলা নিয়মিত শাড়ি পরেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে এই অভ্যাস অজান্তেই শরীরের জন্য বিপদের কারণ হয়ে উঠতে পারে, তা অনেকেই জানেন না। 

Advertisment

চিকিৎসাবিজ্ঞানের পরিভাষায় যাকে বলা হয় ‘শাড়ি ক্যানসার’, সেটি আসলে এক ধরনের ত্বকের ক্যানসার, যার মূল কারণ কোমরের একই জায়গায় দীর্ঘদিন ধরে সায়ার দড়ি বা টাইট ইলাস্টিকের ঘর্ষণ। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, নিয়মিত খুব টাইট করে সায়া বাঁধলে কোমরের চামড়ায় ক্রমাগত চাপ পড়ে। প্রথমে সেই জায়গায় জ্বালা, চুলকানি বা কালচে দাগ দেখা যায়। অনেক ক্ষেত্রে ছোট ঘা বা ক্ষত তৈরি হয়, যা অনেকেই সাধারণ ফাঙ্গাল ইনফেকশন ভেবে গুরুত্ব দেন না। কিন্তু সমস্যা তখনই বাড়ে, যখন সেই ক্ষত দীর্ঘদিন ধরে সারে না।

চিকিৎসকরা যা জানিয়েছেন

চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, দীর্ঘস্থায়ী ঘা বা ক্ষতের যদি কোনও চিকিৎসা না হয়, তাহলে তা ধীরে ধীরে স্কোয়ামাস সেল কারসিনোমায় রূপ নিতে পারে। এটি ত্বকের একটি পরিচিত ক্যানসার। যা শরীরের সেই অংশে বেশি হয় যেখানে দীর্ঘদিন ঘর্ষণ বা জ্বালা চলতে থাকে। শাড়ির ক্ষেত্রে সেই জায়গাটি হল কোমরের ঠিক সেই অংশ, যেখানে প্রতিদিন সায়ার দড়ি বাঁধা হয়।

আরও পড়ুন- ভেষজ পদ্ধতিতে খুশকি থেকে মুক্তি পাওয়ার ১৫টি ঘরোয়া উপায়, জানুন কারণ ও স্থায়ী সমাধান

শুধু শাড়িই নয়, যেসব পোশাকে কোমরে শক্ত করে দড়ি বা ইলাস্টিক বাঁধতে হয়, সেগুলির ক্ষেত্রেও এই ঝুঁকি থাকে। লুঙ্গি, পাজামা, ট্রাউজার কিংবা স্কার্ট—সব ক্ষেত্রেই যদি কোমরে অতিরিক্ত চাপ পড়ে, তাহলে ত্বকে রক্ত চলাচল ব্যাহত হয়। এর ফলেই প্রথমে অস্বস্তি, তারপর চুলকানি, র‍্যাশ, দাদ এমনকী শেষ পর্যন্ত ক্ষত তৈরি হতে পারে।

আরও পড়ুন- গর্বের মুহূর্ত, ৫৪তম বিজয় দিবসে ৭১-এর যুদ্ধবীরদের দেশজুড়ে শ্রদ্ধাঞ্জলি, স্মরণ সেনাবাহিনীর

ভয়ের কারণ থাকলেও আতঙ্কিত হওয়ার দরকার নেই বলেই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ শাড়ির ক্যানসার অত্যন্ত বিরল এবং সচেতন থাকলে এটি পুরোপুরি এড়ানো সম্ভব। সবচেয়ে জরুরি হল টাইট করে সায়া বাঁধা থেকে বিরত থাকা। শাড়ি পরলেও সায়ার দড়ি যেন আলগা থাকে এবং প্রতিদিন একই জায়গায় অতিরিক্ত চাপ না পড়ে, সেদিকে নজর দেওয়া দরকার।

আরও পড়ুন- উদ্বেগে ভুগছেন? কমাতে সবচেয়ে কাজের সহজ উপায় এগুলোই

এছাড়া নিয়মিত কোমরের ত্বক পরীক্ষা করাটাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোথাও ঘা, রং পরিবর্তন, অস্বাভাবিক চুলকানি বা ক্ষত দেখা দিলে তা অবহেলা করা উচিত নয়। বিশেষ করে ডায়াবেটিস না থাকা সত্ত্বেও যদি কোনও ঘা দীর্ঘদিন না সারে, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া দরকার। প্রয়োজনে বায়োপসি করে সঠিক রোগ নির্ণয় করা প্রয়োজন।

আরও পড়ুন- রোদে বেশি সময় কাটালে কি সত্যিই আয়ু বাড়ে, কী বলছে বিজ্ঞান?

রাতে ঘুমানোর সময় ঢিলেঢালা পোশাক পরা, অতিরিক্ত ঘাম জমতে না দেওয়া এবং ত্বক পরিষ্কার ও শুকনো রাখা—এই ছোট অভ্যাসগুলিই বড় বিপদ থেকে রক্ষা করতে পারে। পোশাক কেনার সময় কোমরের ইলাস্টিক খুব শক্ত কি না, সেটিও দেখে নেওয়া জরুরি। সব মিলিয়ে বলা যায়, শাড়ি পরা কখনও ক্যানসারের সরাসরি কারণ নয়। কিন্তু দীর্ঘদিনের ভুল অভ্যাস শরীরের ক্ষতি করতে পারে। সচেতনতা, সামান্য যত্ন আর সময়মতো চিকিৎসক দেখালেই এই ধরনের ঝুঁকি সম্পূর্ণভাবে এড়ানো সম্ভব।

ডিসক্লেইমার: এই প্রতিবেদনটি কেবল সাধারণ তথ্যের জন্য। কোনও উপসর্গ দেখা দিলে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করুন।

cancer risk