/indian-express-bangla/media/media_files/2025/12/25/seasonal-depression-relief-2025-12-25-23-52-34.jpg)
Seasonal Depression Relief: শীতে বিষণ্ণতা কমানোর উপায় জানুন।
Seasonal Depression Relief: শীতকাল এলেই অনেকের জীবনে অদ্ভুত এক মনখারাপ নেমে আসে। দিনের আলো কমে যাওয়া, ঠান্ডা আবহাওয়া আর দীর্ঘ রাতের কারণে শরীর ও মনের স্বাভাবিক ছন্দ নষ্ট হতে শুরু করে। এই অবস্থাকেই বলা হয় মৌসুমি বিষণ্ণতা বা শীতকালীন ডিপ্রেশন। এটি সাধারণ অলসতা বা সাময়িক মন খারাপ নয়। বরং একটি মানসিক অবস্থান, যেখানে মানুষ অকারণ ক্লান্তি, আগ্রহহীনতা, অতিরিক্ত ঘুম বা ঘুমের সমস্যা, খিদে কমে যাওয়া কিংবা বেড়ে যাওয়া এবং নিজেকে গুটিয়ে নেওয়ার প্রবণতায় ভোগে।
কেন শীতকাল শরীরের ওপর প্রভাব ফেলে?
শীতকালে দিনের আলো কমে যাওয়ার ফলে শরীরের ভিতরে থাকা জৈবিক ঘড়ি বা সার্কেডিয়ান রিদমের ওপর এর প্রভাব পড়ে। এর ফলে মস্তিষ্কে সেরোটোনিনের মাত্রা কমে যেতে পারে, যা ভালো থাকার অনুভূতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। একইসঙ্গে মেলাটোনিন হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে অতিরিক্ত ঘুম ভাব তৈরি হয়। এই কারণেই শীতকালে অনেকেই নিজেকে ভারী, নিষ্প্রাণ এবং মানসিকভাবে দুর্বল অনুভব করেন।
আরও পড়ুন- কফি কি কমাতে পারে বয়স বাড়ার গতি, এই ব্যাপারে কী বলছে গবেষণা?
এই ধরনের অবস্থায় আলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্রাকৃতিক সূর্যালোক শরীরের জন্য এক ধরনের ওষুধের মত কাজ করে। শীতকালে চেষ্টা করা উচিত দিনের আলো থাকতেই বাইরে বেরোনোর। রোদ কম থাকলেও খোলা আকাশের নীচে কিছু সময় কাটালে মস্তিষ্ক ইতিবাচক সংকেত পায়। ঘরের ভিতরে থাকলেও জানালার পাশে বসা, পর্দা সরিয়ে আলো ঢোকানো বা দুপুরে অল্প হাঁটাহাঁটি করার মতো অভ্যাস মন ভালো রাখতে সাহায্য করে।
আরও পড়ুন- কড়াইতেই তৈরি করুন নরম-সুস্বাদু ফ্রুট কেক! বছরের শেষ সপ্তাহ ভরিয়ে তুলুন আনন্দে
মানসিক যত্ন বা নিজের প্রতি যত্নশীল হওয়া শীতকালীন বিষণ্ণতা কাটানোর আর একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। প্রতিদিনের ব্যস্ত জীবনে নিজের জন্য ছোটমুহূর্ত তৈরি করা মানসিক শক্তি বাড়ায়। সকালে বা সন্ধ্যায় কয়েক মিনিট চুপচাপ বসে শ্বাস-প্রশ্বাসের দিকে মন দেওয়া, উষ্ণ পানীয় হাতে নিয়ে জানালার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা বা প্রতিদিন নির্দিষ্ট একটি ছোট রুটিন মেনে চলা মনের ভিতরে স্থিরতা আনে। একইসঙ্গে নিজেকে দোষারোপ না করে নিজের সঙ্গে সদয় আচরণ করাও মানসিক সুস্থতার জন্য জরুরি।
আরও পড়ুন- ঝটপট তৈরি করুন মুখে গলে যাওয়া ক্রিসমাস ডেজার্ট, সময় কম লাগলেও উৎসবের স্বাদ থাকবে ভরপুর
শরীরচর্চা শীতকালীন বিষণ্ণতার বিরুদ্ধে সবচেয়ে কার্যকর অস্ত্রগুলোর একটি। নিয়মিত হাঁটা, হালকা যোগাসন বা ঘরের মধ্যেই কিছু স্ট্রেচিং শরীরে এমন কিছু রাসায়নিক নিঃসরণ করে যা স্বাভাবিকভাবেই মন ভালো রাখে। খুব বেশি কষ্টকর ব্যায়াম না হলেও সপ্তাহে কয়েকদিন নিয়মিত নড়াচড়া করলে ক্লান্তি কমে এবং আত্মবিশ্বাস বাড়ে।
আরও পড়ুন- ভারতের সবচেয়ে পুরনো বেকারিগুলি, যেখানে আজও বেঁচে বড়দিনের স্বাদ
ঘুমের রুটিন ঠিক রাখা শীতকালে অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। দিনের আলো কম থাকার কারণে অনেকেই বেশি ঘুমিয়ে ফেলেন বা রাতে ঠিকমতো ঘুমোতে পারেন না। প্রতিদিন একই সময়ে শুতে যাওয়া এবং ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস শরীরকে একটি নির্দিষ্ট ছন্দে রাখে। দীর্ঘ সময় ঘুমিয়ে থাকা বা দিনের বেলা অতিরিক্ত ঘুম এড়িয়ে চললে মানসিক ভারসাম্য বজায় থাকে।
আরও পড়ুন- মিষ্টির বদলে ঝাল পাটিসাপটা, ঘরেই বানান নতুন স্বাদের এই বাঙালি পদ
শীতকালে অনেকেই ধীরে সামাজিক যোগাযোগ কমিয়ে দেন, যা বিষণ্ণতাকে আরও বাড়িয়ে তোলে। এই সময় পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো, বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলা বা ছোট সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া মানসিকভাবে খুবই উপকারী। খুব বড় আড্ডা না হলেও নিয়মিত যোগাযোগ মানুষকে একাকিত্ব থেকে দূরে রাখে এবং মনের ভিতরে নিরাপত্তাবোধ তৈরি করে।
আরও পড়ুন- মিষ্টির বদলে ঝাল পাটিসাপটা, ঘরেই বানান নতুন স্বাদের এই বাঙালি পদ
সব মিলিয়ে বলা যায়, শীতকালীন বিষণ্ণতা জীবনের স্বাভাবিক ছন্দে বাধা সৃষ্টি করলেও কিছু সচেতন অভ্যাসের মাধ্যমে তা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। আলো, শরীরচর্চা, ঘুম, সামাজিক যোগাযোগ এবং নিজের প্রতি যত্ন—এই কয়েকটি বিষয় নিয়মিত মেনে চললেই শীতের অন্ধকার দিনগুলোও হয়ে উঠতে পারে অনেক বেশি সহনীয় ও উজ্জ্বল।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us