Shibnath Shastri: বাংলার সংস্কৃতি জগতে উজ্জ্বল জ্যোতিষ্ক! কে এই শিবনাথ শাস্ত্রী?

Shibnath Shastri: তাঁর বাবা ছিলেন জয়নগর মজিলপুর পুরসভার প্রথম পৌরপ্রধান। বাংলার সমাজ সংস্কারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন শিবনাথ শাস্ত্রী।

Shibnath Shastri: তাঁর বাবা ছিলেন জয়নগর মজিলপুর পুরসভার প্রথম পৌরপ্রধান। বাংলার সমাজ সংস্কারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন শিবনাথ শাস্ত্রী।

author-image
IE Bangla Lifestyle Desk
New Update
Shibnath Shastri

Shibnath Shastri: শিবনাথ শাস্ত্রী।

Social reformer: ভারতবর্ষের সমাজসংস্কারের ইতিহাসে উনিশ শতক এক অমলিন অধ্যায়। এই সময়ে একাধিক মনীষী উঠে এসেছিলেন সমাজে সংস্কারের ডাক নিয়ে। রাজা রামমোহন রায়, দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর, কেশবচন্দ্র সেনের পাশাপাশি যাঁর নাম উজ্জ্বলভাবে উচ্চারিত হয়, তিনি আচার্য শিবনাথ শাস্ত্রী। সাহিত্যিক, শিক্ষক, সমাজসংস্কারক ও ব্রাহ্মধর্ম প্রচারক হিসেবে বাঙালি সমাজে তাঁর অবদান অসামান্য।

Advertisment

জন্ম ও শৈশব

১৮৪৭ সালের ৩১ জানুয়ারি দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার চাংড়িপোতা গ্রামে (বর্তমানে সুভাষগ্রাম) মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন শিবনাথ শাস্ত্রী। তাঁর পিতা ছিলেন পণ্ডিত হরানন্দ ভট্টাচার্য, যিনি জয়নগর মজিলপুর পৌরসভার প্রথম পৌরপ্রধান। মাতুল দ্বারকানাথ বিদ্যাভূষণ ছিলেন সেই সময়ের জনপ্রিয় সাপ্তাহিক সোমপ্রকাশ পত্রিকার সম্পাদক। শিবনাথ বেড়ে উঠেছিলেন এক বিদ্যাচর্চার পরিবেশে। 

আরও পড়ুন- দুর্গাপূজায় থিমের ছড়াছড়ি, প্রতিমা তৈরি হচ্ছে নানা জিনিস দিয়ে, শাস্ত্রে কী বলা আছে?

কলকাতার সংস্কৃত কলেজিয়েট স্কুল থেকে এন্ট্রান্স (১৮৬৬) এবং পরবর্তীতে এফ.এ (১৮৬৮), বি.এ (১৮৭১) ও এম.এ (১৮৭২) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। তাঁর অসাধারণ বিদ্যাশিক্ষার স্বীকৃতি হিসেবে সংস্কৃত কলেজ থেকেই তিনি 'শাস্ত্রী' উপাধি লাভ করেন। শিবনাথ তরুণ বয়সেই ব্রাহ্মসমাজে যোগ দেন। কেশবচন্দ্র সেনের নেতৃত্বে তিনি ব্রাহ্মসমাজে যুক্ত হয়ে পড়েন। সনাতন ধর্মের গোঁড়ামি ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হন। এনিয়ে তাঁর বাবা প্রবল আপত্তি করেছিলেন। যাতে পারিবারিক দ্বন্দ্ব তৈরি হয়। কিন্তু শিবনাথ ছিলেন অটল। তিনি ব্রাহ্মধর্মকেই নিজের জীবনপথ হিসেবে বেছে নেন। 

আরও পড়ুন- রাহুর অশুভ প্রভাব কাটাতে দুর্গার এই রূপের জুড়িমেলা ভার! কীভাবে করবেন আরাধনা?

সমাজসংস্কারক হিসেবে ভূমিকা

শিবনাথ শাস্ত্রীর অবদান ছিল বহুমুখী। নারীশিক্ষার প্রসার, বাল্যবিবাহ রোধ, মদ্যপান বিরোধী আন্দোলন—সবেতেই তিনি সক্রিয় ভূমিকা গ্রহণ করেছিলেন। বাল্যবিবাহ বিরোধী আন্দোলনেও তিনি ছিলেন প্রথম সারিতে। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতেন যে মেয়েদের নাবালিকা অবস্থায় বিয়ে দেওয়াটা অন্যায়। তাঁর চেষ্টাতেই ১৮৭২ সালে মেয়েদের বিয়ের ন্যূনতম বয়সসীমা ১৪ বছর নির্ধারিত হয়।

আরও পড়ুন- দেবী দুর্গার কলাবউ! এর প্রতিটি পাতার আড়ালে লুকিয়ে আছে মহাশক্তির রহস্য?

নারীশিক্ষা প্রসারের উদ্দেশ্যে তিনি মেয়েদের নীতিবিদ্যালয় (১৮৮৪) প্রতিষ্ঠা করেন। এছাড়া ভবানীপুর সাউথ সুবার্বান স্কুল এবং হেয়ার স্কুলে শিক্ষকতা করেন। মদ্যপানের বিরোধিতা করতে গিয়ে তিনি ১৮৭০ সালে 'মদ না গরল' নামে একটি পত্রিকা প্রকাশ করেছিলেন। ব্রাহ্মসমাজে সংস্কারের লক্ষ্যে তিনি ১৮৭৮ সালে সাধারণ ব্রাহ্মসমাজ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। যা সমাজ সংস্কারে নতুন দিশা এনেছিল।

আরও পড়ুন- দুর্গাপূজায় পঞ্চমী থেকেই এখন 'মহা' শব্দটা জুড়ে দেওয়ার চল, শাস্ত্র কী বলে?

সমাজচিন্তার পাশাপাশি শিবনাথ ছিলেন একজন প্রথিতযশা লেখক এবং সম্পাদক। তিনি সোমপ্রকাশ, সমদর্শী, তত্ত্বকৌমুদী, ইন্ডিয়ান মেসেজ ও মুকুল-সহ একাধিক পত্রিকা সম্পাদনা করেছেন। তাঁর লেখায় প্রতিফলিত হয়েছে যুক্তিবাদী দৃষ্টিভঙ্গি এবং সমাজ সংস্কারের অঙ্গীকার। ১৯১৯ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন আচার্য শিবনাথ শাস্ত্রী। তবে তাঁর কাজ, চিন্তা ও সমাজসংস্কারের স্বপ্ন আজও বাঙালি সমাজে অনুপ্রেরণা হয়ে রয়েছে।

শিবনাথ শাস্ত্রী ছিলেন একাধারে চিন্তাবিদ, সাহিত্যিক, সমাজসংস্কারক, শিক্ষাব্রতী এবং ব্রাহ্মধর্ম প্রচারক। তিনি বাঙালি সমাজকে নতুন আলো দেখিয়েছিলেন। তাঁর জীবন আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, সংস্কার ও পরিবর্তন সাহসের মাধ্যমেই সম্ভব।

reformer social