/indian-express-bangla/media/media_files/2025/11/12/dintarini-kali-temple-2025-11-12-17-35-19.jpg)
Dinatarini Kali Temple: দীনতারিণী কালী মন্দির।
Dinatarini Kali Temple: উত্তর কলকাতার ব্যস্ত জীবনের মাঝখানে, শ্যামবাজারের শ্যামপুকুর থানার কাছে রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে আছে এক অসাধারণ তীর্থস্থান— শ্রীশ্রী দীনতারিণী কালী মন্দির। আজ থেকে প্রায় ১৫০ বছর আগে তন্ত্রসাধক গিরীশ ব্রহ্মচারী, মেদিনীপুরের ঘাটাল অঞ্চল থেকে দেবী দীনতারিণীর মৃন্ময়ী বিগ্রহ নিয়ে এসে এই স্থানে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
গিরীশ ব্রহ্মচারী প্রতিষ্ঠিত এই মন্দির
তখনকার শ্যামবাজার অঞ্চল ছিল জঙ্গলাকীর্ণ, চারিদিক নির্জন। এই নির্জনতার মধ্যেই ব্রহ্মচারী তাঁর তান্ত্রিক সাধনা শুরু করেন। ধীরে ধীরে তাঁর সাধনার খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে এবং স্থানটি এক পবিত্র মন্দিরে পরিণত হয়। মন্দিরটি দালানরীতি ছোট্ট কিন্তু আধ্যাত্মিক আবহে ভরা। লাল রঙের এই মন্দিরের সামনে রয়েছে হাড়িকাঠ— যা পুরোনো কালীমন্দিরগুলিতে দেবীর শক্তির প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
আরও পড়ুন- শীতকালে ঘরেই বানান তিল ও গুড়ের চিক্কি, দেখে নিন খাস্তা ও পুষ্টিকর মিষ্টির সহজ রেসিপি
গর্ভগৃহে বিরাজমান দেবী দীনতারিণী কালী। তিনি শায়িত শবশিবের ওপর দাঁড়ানো। মৃন্ময়ী বিগ্রহে পরম ঐশ্বর্য ও মহিমা ফুটে ওঠে। দেবীর চোখ গোল ও তীক্ষ্ণ, যেন ভক্তের অন্তরে প্রবেশ করছে। প্রতিদিন শতাধিক ভক্ত সকাল-সন্ধ্যা দেবী দর্শনে এখানে আসেন। মন্দিরে অমাবস্যা, কালীপুজো ও শনি তিথিতে বিশেষভাবে পুজো হয়।
আরও পড়ুন- শীতকালে রোগ দূরে রাখতে প্রতিদিন খান আমলকির এই সহজ পদ
বাংলা ১৩৮৭ সালে এক রাতের ঘটনায় এই মন্দিরে ঘটে যায় এক অবিশ্বাস্য ঘটনা। কিছু দুষ্কৃতী দেবীর গয়না চুরি করে পালিয়ে যায়। পরদিন সকালে মন্দিরে হাহাকার শুরু হয়, কিন্তু কয়েক দিনের মধ্যেই অলৌকিকভাবে সমস্ত গয়না মন্দিরেই ফিরে আসে। স্থানীয়দের বিশ্বাস, দেবী নিজেই তাঁর গয়না ফিরিয়ে এনেছিলেন। এই ঘটনাই দীনতারিণী কালীকে ‘অলৌকিক দেবী’ রূপে প্রতিষ্ঠা দেয়।
আরও পড়ুন- টুনা স্যান্ডউইচে মেয়োনিজ মিশিয়ে খাচ্ছেন, জানেন কী হতে পারে? বরং এগুলো মিশিয়ে খান
মন্দিরে শুধুমাত্র দেবী দীনতারিণীই নন, উপস্থিত রয়েছেন ভৈরব, শিব, নারায়ণ, শীতলা, মনসা প্রভৃতি দেবদেবীগণও। প্রতিটি বিগ্রহের নিজস্ব পুজো ও আরাধনা চলে নিয়মিত। উৎসবের সময় মন্দির চত্বর আলো ও ফুলে সেজে ওঠে। স্থানীয়দের বিশ্বাস, দেবী দীনতারিণীর কাছে যে মনোবাসনা নিয়ে আসে, সে ব্যর্থ হয় না। বিশেষ করে যাঁরা জীবনের সংকট থেকে মুক্তি বা সুরক্ষা প্রার্থনা করেন, তাঁদের জন্য এই মন্দির এক আশ্রয়স্থল। দেবীর অলৌকিক শক্তি এবং তান্ত্রিক ঐতিহ্য আজও অনেক সাধক এবং গৃহস্থ ভক্তের মনে ভক্তি আর বিস্ময় জাগিয়ে রাখে।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us