/indian-express-bangla/media/media_files/2025/11/11/ghomta-kali-2025-11-11-02-14-27.jpg)
Shyambazar Ghomta Kali Temple: শ্যামবাজার ঘোমটা কালী।
Shyambazar Ghomta Kali Temple: উত্তর কলকাতার প্রাচীন গলিতে লুকিয়ে আছে এক রহস্যময় দেবী — শ্যামবাজার ঘোমটা কালী। তিনি সাধারণ মানুষের কাছে ‘ছোট ভবতারিণী’ নামেও পরিচিত। বলরাম ঘোষ স্ট্রিটে অবস্থিত এই মন্দিরের ইতিহাস যেমন প্রাচীন, তেমনই লোককথায় ভরপুর।
এই ঘোমটা কালী মন্দিরটি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮৮৮ সালে, অর্থাৎ ১২৯৫ বঙ্গাব্দ। তৎকালীন বলরাম ঘোষের বংশধর তুলসীরাম ঘোষকে স্বপ্নে দেখা দিয়েছিলেন দেবী। স্বপ্নে দেখা রূপ অনুযায়ী এই মন্দিরে ঘোমটা পরিহিতা দেবীর মূর্তি গঠন করা হয়। দেবীর এই বিশেষ রূপই তাঁকে আলাদা করেছে কলকাতার অন্যান্য কালীমূর্তির থেকে।
আরও পড়ুন- শুধু শৈবপীঠই নয়, সতীপীঠও বক্রেশ্বর, দুর্গাপুজোয় থাকে এই বিশেষ আয়োজন
সাধারণত কালীমূর্তির মুখে থাকে মুক্তকেশী ভয়ংকর ভাব। কিন্তু, এখানে দেবীর মুখে ঘোমটা। মাথা ঢেকে, শান্ত অথচ শক্তিশালী এক রূপে তিনি পূজিতা হন। তাই তাঁর নাম— ঘোমটা কালী। স্থানীয়দের মতে, এই দেবী আসলে দক্ষিণাকালীরই এক মমতাময় রূপ। যাঁকে অনেক সাধক আবার ভবতারিণী হিসেবে মানেন।
আরও পড়ুন- শীতকালে কেন বাড়ে চুলকানি? জানুন প্রতিরোধের সহজ ঘরোয়া কায়দা
মন্দিরের ঠিকানা
মন্দিরটি উত্তর কলকাতার বলরাম ঘোষ স্ট্রিটে। শ্যামবাজারের পাঁচ মাথার মোড় থেকে ভূপেন বোস অ্যাভিনিউ ধরে এগোলে মহারাজা মণীন্দ্রচন্দ্র কলেজের বিপরীতে এই পথেই রয়েছে মন্দিরটি। শ্যামপুকুর থানার ঠিক সামনেই।
আরও পড়ুন- সময়মতো না খেলে কি দুর্বল হয়ে যেতে পারে হাড়? জানুন বিস্তারিত
প্রতিদিন মন্দিরে নিত্যপূজা চলে। দেবীকে ভোগ হিসেবে দেওয়া হয় নুন ছাড়া লুচি, পাঁচ রকমের ভাজা, বোঁদে ও মিষ্টি।
তবে সবচেয়ে বড় পূজা হয় কার্তিক অমাবস্যায়, কালীপুজোর দিনে। সেদিন মন্দিরে ভক্তদের ভিড় উপচে পড়ে। এছাড়াও বাসন্তী পঞ্চমীর দিনেও বিশেষ পুজোর আয়োজন হয়ে থাকে। কারণ সেই দিনেই মন্দিরের প্রতিষ্ঠা হয়েছিল।
আরও পড়ুন- থাইরয়েডে একদম এড়িয়ে চলুন এই ৬ খাবার, না হলে বিরাট বিপদ!
স্থানীয়দের বিশ্বাস, ঘোমটা কালী বিপদে পরিত্রাতা। তিনি সংকটমুক্তি ও মানসিক শান্তি দেন। অনেক ভক্ত বলেন, 'ঘোমটা মায়ের ঘরে গিয়ে কাতর প্রার্থনা করলে, মা ঘোমটার আড়াল থেকে আশীর্বাদ দেন।' সাধকরা বলেন, এই ঘোমটা কালী মায়ের রূপ আসলে আত্মনিয়ন্ত্রণ, শান্ত শক্তি ও আধ্যাত্মিক স্থিতির প্রতীক। মুক্তকেশী কালী যেখানে উগ্র শক্তির প্রতিনিধি, সেখানে ঘোমটা কালী রক্ষাকারিণী ও মমতাময়ী রূপে প্রকাশিত।
আজও প্রতিদিন সকালের আরতি ও সন্ধ্যা পূজায় দেবালয়ে ভক্তদের আনাগোনা লেগেই থাকে। পুরনো কলকাতার আচার, ভক্তির আবহ, প্রদীপের আলো আর ঢাকের শব্দে আজও ঘোমটা কালী মন্দির যেন অতীত আর বর্তমানের সেতুবন্ধন হয়ে আছে। ঘোমটা কালী শুধু এক দেবী নন — তিনি কলকাতার সংস্কৃতি, আস্থা আর ধর্মবিশ্বাসের এক জীবন্ত প্রতীক। তিনি জনমানসে ভবতারিণীর মতোই মুক্তি ও রক্ষার প্রতীক।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us