/indian-express-bangla/media/media_files/2025/11/09/silent-stroke-2025-11-09-15-06-24.jpg)
Silent Stroke: স্ট্রোকের নীরব হানায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বহু মানুষ।
Silent Stroke: মস্তিষ্কের ওপর নীরবে আঘাত হানছে সাইলেন্ট স্ট্রোক (Silent Stroke)। এ যেন নতুন পদ্ধতি। যেখানে মুখ বেঁকে যাচ্ছে না। হাত-পা অবশ হচ্ছে না। কথা জড়িয়ে যাচ্ছে না। কিন্তু, মস্তিষ্কে যা ক্ষতি হওয়ার হয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি মিশিগানের এক নিউরোসার্জন সোশ্যাল মিডিয়ায় এই বিপদের কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, 'অনেকে একদম সুস্থ। কিন্তু, তারপরও দেখছি যে তাঁদের ব্রেনে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ক্ষত। এগুলো স্ট্রোকের লক্ষণ। তাঁরা জানেনই না যে কখন এটা হয়েছে!'
কী এই সাইলেন্ট স্ট্রোক?
ডাক্তারদের ভাষায়, সাইলেন্ট স্ট্রোক বা কভার্ট ব্রেন ইনজুরি (Covert Brain Injury) হল এমন এক ধরনের মস্তিষ্কজনিত সমস্যা, যা কোনও বড় লক্ষণ না দেখিয়েই হানা দেয়। সাধারণত মস্তিষ্কের ক্ষুদ্র রক্তনালি বন্ধ হয়ে গেলে বা রক্তপ্রবাহ ব্যাহত হলে মস্তিষ্কের এক ক্ষুদ্র অংশ অক্সিজেনের অভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে— মৃদু স্মৃতিভ্রংশ, মনোসংযোগে সমস্যা, হাঁটার সময় ভারসাম্যহীনতা, মাথা ঘোরা বা হালকা অস্পষ্ট ভাব, এসব সূক্ষ্ম পরিবর্তন দেখা দিতে পারে।
আরও পড়ুন- সুরসাধিকা, যিনি সময়ের ওপারেও সুরের জাদুতে বেঁচে আছেন!
নিউরোসার্জন ডা. ধ্রুব চতুর্বেদী বলেন, 'সাইলেন্ট স্ট্রোকের সমস্যা হল, এটি একবার নয়, বারবার ঘটতে পারে। তাতেই ধীরে ধীরে ব্রেনের কোষ নষ্ট হয়।' সময়মতো ধরা না পড়লে এই ক্ষতি পরবর্তীতে ডিমেনশিয়া, মেমরি লস, এমনকী শারীরিক ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার মত সমস্যা ডেকে আনতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যাঁদের উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, উচ্চ কোলেস্টেরল, ধূমপান ও অ্যালকোহল, ঘুমের অভাব বা অতিরিক্ত মানসিক চাপের সমস্যা রয়েছে, তাঁদের সাইলেন্ট স্ট্রোকের ঝুঁকি কয়েকগুণ বেশি।
আরও পড়ুন- রাতে ঘুমানোর আগে চোখের নীচে লাগান এই দুই তেল, একবারেই দূর হবে কালো দাগ
এই সাইলেন্ট স্ট্রোক সাধারণত উপসর্গহীন। তবে একে ধরা যায়। সাইলেন্ট স্ট্রোক ধরার সেরা পথ হল মস্তিষ্কের এমআরআই (MRI Brain Scan)। তবে কিছু সূক্ষ্ম লক্ষণ যেমন— হালকা স্মৃতিভ্রংশ, মনোযোগে ঘাটতি, হাঁটায় ভারসাম্যহীনতা, অথবা হঠাৎ মাথা ভারী লাগার মত সমস্যা দেখা দিলে সতর্ক হওয়া উচিত। এসব দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত বলেই ডা. ধ্রুব চতুর্বেদী জানিয়েছেন।
আরও পড়ুন- অতিরিক্ত মদ্যপানের পর কেন ওঠে হেঁচকি? গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজিস্ট যা জানিয়েছেন, অনেকেরই জানা জরুরি
তিনি পরামর্শ দিয়েছেন, সাইলেন্ট স্ট্রোক রুখতে হলে রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখা দরকার। নিয়মিত ঘুম (৭-৮ ঘণ্টা) প্রয়োজন। মানসিক চাপ কমান দরকার। সপ্তাহে ৫ দিন ৩০ মিনিট করে হাঁটা (brisk walking) প্রয়োজন। অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট এবং ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ খাবার (যেমন মাছ, বাদাম, সবুজ শাকসবজি) খাওয়া প্রয়োজন। একইসঙ্গে ধূমপান এবং অ্যালকোহল থেকেও দূরে থাকা দরকার।
আরও পড়ুন- কথায় কথায় চাউমিন খান? সাবধান, শরীরে নীরবে জমছে বিষ!
একবার মস্তিষ্কের ক্ষতি হলে তা পুরোপুরি সারানো না গেলেও ব্রেইন প্লাস্টিসিটি (brain plasticity)-এর মাধ্যমে অন্য কোষগুলো নতুনভাবে কাজ শেখে। তাই চিকিৎসা, সঠিক খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ফলোআপ ও স্মৃতিচর্চা ব্রেনকে সক্রিয় রাখে। চিকিৎসক জানিয়েছেন, মস্তিষ্ক কখনও 'ওয়ার্নিং লাইট' জ্বালায় না। কিন্তু সংকেত দেয়। আর, তা দেখেই পরিস্থিতি বুঝে নিতে হয়। তাই নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, পর্যাপ্ত বিশ্রাম আর সচেতন জীবনযাপনই এই সাইলেন্ট কিলারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us