/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/22/sister-nivedita-1-2026-01-22-11-19-20.jpg)
Sister Nivedita Museum Kolkata: সিস্টার নিবেদিতা মিউজিয়াম, বাঙালির নারীশিক্ষায় বিপ্লবের সাক্ষী।
Sister Nivedita Museum Kolkata: কলকাতার উত্তর প্রান্তে অবস্থিত ১৬ ও ১৭ নম্বর বোসপাড়া লেনের নাম এখন বদলে হয়েছে মা সারদামণি সরণি। এখানকার এমন দুটি বাড়ি আজও নীরবে দাঁড়িয়ে আছে, যার দেওয়ালে লুকিয়ে আছে বাঙালি নারীশিক্ষার এক যুগান্তকারী ইতিহাস। আজ সেগুলি সিস্টার নিবেদিতা মিউজিয়াম (Sister Nivedita Museum) নামে পরিচিত। এখানেই বাঙালি মেয়েদের শিক্ষা, তার চলার পথে সমাজের বাধা ভেঙেছিল।
১৮৪২ থেকে ১৮৪৮ সালের মধ্যে নির্মিত ১৬ নম্বর বাড়িটিতে ১৮৯৮ সালের নভেম্বর মাসে প্রথম পা রাখেন সিস্টার নিবেদিতা। পাশ্চাত্যের শিক্ষিত নারী হয়েও তিনি ভারতের আত্মিক শক্তিতে বিশ্বাস করতেন। সেই বছরের ১৩ নভেম্বর, কালীপুজোর দিন, এই বাড়িতেই আগমন ঘটে মা সারদা দেবীর। শ্রীশ্রী রামকৃষ্ণের ছবির সামনে পুজো হয়, আর সেই নীরব মুহূর্তেই জন্ম নেয় নিবেদিতা বালিকা বিদ্যালয়। এটি ছিল স্বামী বিবেকানন্দের স্বপ্নের বাস্তব রূপ, যেখানে শিক্ষা মানে শুধু বই পড়া নয়, চরিত্র গঠন এবং আত্মমর্যাদার শিক্ষাও।
নিবেদিতা এখানে ছিলেন
সিস্টার নিবেদিতা সাত মাস এই বাড়িতে ছিলেন। এরপর বিদেশে যান অর্থসংগ্রহের জন্য। দীর্ঘ আড়াই বছর পর ফিরে এসে তিনি পাশের ১৭ নম্বর বাড়িতে ওঠেন। সমাজ তখনও কঠোর। বিদেশিনি মানেই ছিল সন্দেহ এবং দূরত্ব। তবু বাঙালির নারীশিক্ষা থেমে থাকেনি।
আরও পড়ুন- কেন আধুনিক মানুষ খামখেয়ালি' জীবনের দিকে ঝুঁকছে? জানুন নেপথ্যের মনস্তত্ত্ব
১৯০২ সালে সরস্বতী পুজোর দিন এখানে বিদ্যালয় নতুন করে খোলে। সেই প্রথম সরস্বতী দেবীর পুজো হয় মিষ্টি, কাঠবাদাম ও মিছরির নৈবেদ্য দিয়ে। সমাজের নিয়ম অনুযায়ী বিদেশিনি হওয়ায় সিস্টার নিবেদিতা ও সিস্টার ক্রিস্টিন পুজোর সময় ওপরের ঘরেই থাকতেন। তাঁরা পুজোর ঘরে থাকতে বা প্রসাদ গ্রহণ করতে পারতেন না। ছাত্রীরা চুপচাপ তাঁদের শাড়ির কোণে প্রসাদ বেঁধে বাড়ি ফিরত। সেই নীরবতার মধ্যেই লুকিয়ে ছিল এক গভীর সামাজিক টানাপোড়েন।
আরও পড়ুন- ওয়াইনের সঙ্গে সোডা কেন খান লিওনেল মেসি? শরীরে কী প্রভাব পড়ে জানুন
পরের বছর আবার সরস্বতী পুজো এল। সেই বছর নৈবেদ্য ছিল লুচি ও তরকারি। পুজো শেষ হতেই ছাত্রীরা সাহস করে সিস্টারদের হাত ধরে নীচে নামিয়ে আনেন। প্রথমবারের মতো সবাই একসঙ্গে বসে প্রসাদ গ্রহণ করেন। কোনও সভা নয়, কোনও মিছিল নয়—ভালোবাসাই ভেঙে দেয় সংকীর্ণতার প্রাচীর।
আরও পড়ুন- ঘুমের মধ্যেই হৃদ্রোগে মৃত্যু কেন বাড়ছে, প্রয়াত গায়ক প্রশান্ত তামাংয়ের ঘটনা তুলল প্রশ্ন
এই ঘটনাগুলি আজ ইতিহাসের অংশ। ১৬–১৭ বোসপাড়া লেনের বাড়ি দু’টি এখন রামকৃষ্ণ সারদা মিশনের অধীনে সিস্টার নিবেদিতা মিউজিয়াম (Sister Nivedita Museum)। এখানে সংরক্ষিত রয়েছে সিস্টার নিবেদিতার ব্যবহৃত জিনিস, ছবি, নথি এবং স্মৃতিচিহ্ন। প্রতিটি ঘরই যেন একটি অধ্যায়, যেখানে লেখা আছে নারীমুক্তির গল্প।
আরও পড়ুন- আপনার ডেঙ্গু হয়েছে নাকি ভাইরাল ফিভার, বুঝবেন কীভাবে? এই একটা টেস্টেই মিলবে সমাধান!
আজকের দিনে যখন নারীশিক্ষা স্বাভাবিক বলে মনে হয়, তখন এই বাড়িগুলি মনে করিয়ে দেয় কতটা সংগ্রামের পথ পেরিয়ে এসেছে সমাজ। এই ইতিহাস শুধু অতীত নয়, এটি ভবিষ্যতের দিশাও দেখায়। বোসপাড়া লেনের এই বাড়িগুলি আজও নীরবে বলে চলে—এটাই বাংলা, এটাই আমাদের ইতিহাস।


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us